Wed. Mar 3rd, 2021

ছাত্রলীগকে ভীষন মিস করেন রাহাত

ফারহানা বেগম হেনাঃ রাহাত তরফদার। সিলেটের ছাত্র রাজনীতির সুপরিচিত মুখ রাহাত তরফদার। দীর্ঘ প্রায় ৪বছর নয় মাস বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট মহানগরের কান্ডারী হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন রাহাত তরফদার। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ইতি টানা রাহাত তরফদার ছিলেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি। ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজীর কোন অভিযোগ ছিলোনা তার উপর। চাঁদাবাজী টেন্ডারবাজীর বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিলো কঠোর। দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বিরোধী দলের আন্দোলন আবার দলীয় কোন্দল সব মিলিয়ে প্রায় ৫বছর সিলেটের রাজপথে থেকে মুজিব আর্দশে অগ্র সেনানীর ভুমিকায় দলের জন্য কাজ করে গেছেন রাহাত তরফদার।

সভাপতির দায়িত্ব থেকে অবসর নেয়ার একবছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নিজের ফেসবুকে। ডেইলি বিডি নিউজ’র পাঠকদের জন্য রাহাত তরফদারের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ছাত্রলীগকে ভীষন মিস করি ! সভাপতি হিসাবে ৪ বছর ৯ মাস দ্বায়িত্ব পালন শেষে গত বছরের এই দিন ৪ জুলাই সফল সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটেছিল জীবনের সবচাইতে সোনালী ও গৌরবোজ্জল অধ্যায় ছাত্র রাজনীতির । সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে কমিটি বিলুপ্তির রেওয়াজ থাকলে ও ছাত্রলীগের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্হাপিত হয় সম্মেলনের উদ্বোধক তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ.এম বদিউজ্জমান সোহাগের মহানগর ইউনিটের পরবর্তী কমিটি ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত তৎকালীন কমিটি বহাল রাখার ঘোষনায় । পরবর্তীতে ১৯ জুলাই মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষিত হয় । ভাল থাকুক প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ , ভাল থাকুক প্রাণের ইউনিট সিলেট মহানগর !

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রাহাত বলেন, পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা; ছাত্রলীগের রাজনীতির গৌরবের ধারাকে প্রবাহমান রাখার লক্ষে আমরা কোন আপোস করিনি। কোন ধরনের অছাত্র, বিবাহিত বা সন্তানের জনক ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেনি। কারো বিরুদ্ধে দলীয় শৃখলা ভংঙ্গের কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপিত হলে সততা যাচাই সাপেক্ষে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান কমিটিতে ত্যাগী, প্রত্যয়ী ছাত্রদেরকেই আনা হয়েছে।

সম্মেলনে রাহাত তরফদার
সম্মেলনে রাহাত তরফদার

রাহাত তরফদারের পরিবারে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ এক গৌরবময় রাজনৈতিক ঐতিহ্য। রাহাত তরফদারের চার চাচা ১৯৭১সালে বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। রাহাত জানান, তার চাচা মো: ইলিয়াছ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। বাঙালীদের ভাগ্য নির্ধারণকারী ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জেন্টলম্যান পলিটিশিয়ানখ্যাত ভাষাসৈনিক প্রয়াত মো. ইলিয়াছ মৌলভীবাজার সদর, রাজনগরও কমলগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলী এম.এন.এ তে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। রাহাত চাচার আদর্শের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চান।
ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে সদ্য বিদায়ী রাহাত তরফদারের সময় কাটে মা-বাবা ও পরিবার পরিজনদের সাথে গল্প করে । সদালাপি রাহাত পছন্দ করেন একান্তে বই পড়তে, আড্ডা দেন রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাথে এখনো কর্মীদের সমাগমে মুখরিত থাকে তার বাসভবন । কর্মীদের প্রতি সবসময় বাড়িয়ে দিয়েছেন সহায়তার হাত । কখনো কোন রাজনৈতিক সহচর বা কর্মীকে নিরাশ হতে হয়নি তার কাছে গিয়ে।

২ ভাই ১ বোনের মধ্যে রাহাত দ্বিতীয়। তার পিতা আব্দুল মজিদ তরফদার ব্যবসায়ী এবং মাতা মোর্শেদা ইসলাম মুক্তা গৃহিনী। তাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রামপাশা গ্রামে। পিতামাতা এবং সদ্য বিবাহিত স্ত্রীসহ রাহাত ছড়ারপারস্থ নিজস্ব বাসায় বসবাস করছেন। তিনি রোটারী আন্দোলনের সাথেও সম্পৃক্ত। সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন রোটারি ক্লাব অফ সিলেট রয়েলসের সভাপতি হিসেবে। তিনি এ পর্যন্ত ভারত, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছেন। উল্লেখ্য ভিসা পাওয়ার পরও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন ও সাংগঠনিক ব্যস্তার কারনে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত রোটারী ইন্টারন্যাশনাল কনভেশনে যোগ দিতে পারেননি।