|
এই সংবাদটি পড়েছেন 859 জন

বৈদ্যুতিক আলোর দাপটে অস্তিত্বহীন ঐতিহ্যের হারিকেন

ইউসুফ আহমদ ইমনঃ একটা সময় ছিল যখন গ্রাম-বাংলায় সন্ধ্যার পরে আলোর একমাত্র উৎস ছিল হারিকেন (কুপি বাতি)। তবে ঠিক কবে থেকে এদেশে হারিকেনের ব্যবহার শুরু হয় সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই কারো। তবে প্রবীনদের সাথে আলাপে জানা যায় মুঘল আমল থেকে এদেশে হারিকেনের প্রচলন শুরু হয়। এক সময়ের জনপ্রিয় হারিকেন কালের বিবর্তনে বিদ্যুতের দাপটে গ্রাম-বাংলাতেও এখন হারিকেন ( কুপি বাতির) কদর হারিয়ে যাচ্ছে।আধুনিকায়নযোগে একসময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে যাদুঘরে। প্রযুক্তির আধুনিকতা আর উন্নত জীবন-যাপন প্রনালীর কারনে দিন দিনই মানুষের মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ফলে এক সময়ের অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্ভন হারিকেন বিলুপ্তির পথে। গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে একসময় হারিকেন ই ছিলো একমাত্র আলোর উৎস। সন্ধ্যা হলে হারিকেন নিয়ে পড়তে বসতো গ্রামীণ জনপদের শিশুরা।বাসগৃহের আলোর সন্ধান,বাজারের দোকানদারী এমন কি রাতে চলাফেরা করার জন্য হারিকেন ছিলো গ্রামের মানুষের কাছে একমাত্র অবলম্ভন। দিন দিনই প্রযুক্তি মানুষকে উন্নত করছে যার ধরুন হারিকেন ছেড়ে মানুষ এখন বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে।তাপ বিদ্যুত,জল বিদ্যুত, সৌর বিদ্যুৎ সহ জ্বালানী খাতে ব্যাপক উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন বিলুপ্তির পথে। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতকে সংগ্রহ করার ও পন্থা আবিস্কার করেছে বিজ্ঞানীরা। চার্জ লাইট,সৌর বিদ্যুত সহ বেশ কিছু আলোর যোগান থাকায় এখন আর কেউ ই ঝুঁকছেন না হারিকেনের দিকে। প্রবীণদের মতামত এক সময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে।নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবে ও না হারিকেনের ইতিহাস!চায়না, জাপান সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ খুব দ্রুতই চার্জ সংরক্ষনকারী আলোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। এক সময় হয়তো চিরতরে বিলুপ্ত হবে হারিকেন। স্কুল শিক্ষক রাশিদ আলী প্রতিবেদক কে বলেন কালের বিবর্তন ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় বিদ্যুৎ সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে সেখানে বিদ্যুতের আলো ছাড়া মানুষ অন্য কিছু কল্পনাও করতে পারে না। এক সময়ের গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী সেই কেরোসিনের বাতি হারিকেন আজ বিলুপ্তর পথে। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের অনেকেই এর নামও জানে না। হয়ত আর কিছুদিন পর এ জিনিষটি ঠাঁই পাবে বিভিন্ন যাদু ঘরে।