|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,221 জন

মৌলভীবাজারে নয়নাভিরাম চার নতুন ঝরনা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ ভ্রমণ পিপাসু মানুষ একটু অবসর পেলেই পরিবার পরিজনকে নিয়ে বেড়াতে বের হন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। আর বেড়ানোর জায়গাটা যদি হয় নতুন তাহলে তো কথাই থাকে না।

ঝেরঝেরি, কাখড়া ছড়ি, ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি ও ইটাউরি ফুলবাগিচা ঝরনা পাথারিয়া পাহাড়কে সাজিয়েছে অন্যরকম সৌন্দর্যে। গত কোরবানি ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে সেখানে ভ্রমণ পিপাসুদের যাতায়াত শুরু হয়। বলা যায় কেবলই খোঁজ মিলেছে এই চারটি ঝর্ণার। নামকরণে স্থানীয়রা কিছুটা আহ্লাদি করেছেন বটে, তবে এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়ে গেছে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তেঘেষা পাথারিয়া পাহাড়ের ডিমাই এলাকায় নতুন খোঁজ পাওয়া নয়নাভিরাম এই ঝরনাগুলো দেখতে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন। মাধবকুণ্ড ও হামহামের মতো সহজে গাড়ি নিয়ে এই ঝরনা ধারায় যাওয়া সম্ভব নয়। উচুঁ-নিচুঁ অনেক আঁকা-বাঁকা দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা অতিক্রম করে যেতে হয় চির সবুজের সেই ঝরনার রাজ্যে।

পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা প্রবাহমান পানি ছোট-বড় পাথর অতিক্রম করে সমতলে নেমে আসছে প্রতিদিন। পাথরের উচুঁ নিচুঁ দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে ঝরনার সান্নিধ্যে যাওয়া কঠিন হলেও চতুর্দিকের সুন্দর পরিবেশ, পাখির সুমধুর কণ্ঠে গান, পাহাড়ি বাতাস, কোলাহলমুক্ত ও শাসনি লেবুর সুবাস সব ক্লান্তি দূর করে দেয় ভ্রমণ পিপাসুদের।

মনোরম ঝরনাধারা ছাড়াও পাথারিয়া পাহাড়ে রয়েছে বড়বড় গাছ, বাঁশঝাড়, বিভিন্ন জাতের লতা, ঢাউস পাতার বুনো রামকলার ঝোঁপ। ফুলের মধ্যে আছে দেবকাঞ্চন, কনকচাঁপা, পারুল, জংলীজুঁই, নাগবাল্লী, লুটকি, নীললতা, টালি, ল্যডিস আম্ব্রেলা, ডুলিচাঁপা, ম্যাগনোলিয়া এবং আরো নানান জাতের ফুল। ফল-ফসলের মধ্যে আছে বিভিন্ন রকমের শাক, কচু, লতি, লেবু, রামকলা, ডেউয়া, লুকলুকি, ক্ষুদি জাম, চালতা, জাম, বহেড়া, হরিতকি, বুনো আম, কাঠাল, আমলকি, গোলাপজাম, সাতকরা লেবু, তৈকর, আশফল, গুঙ্গাআলু এবং আরও নানা জাতের পাহাড়ি ফলমূল।

এ ছাড়া বন্যপ্রাণীদের মধ্যে রয়েছে জংলী হাতি, বানর, হনুমান, বাগডাস, মেছোবাঘ, বনরুই, হরিণ, খরগোস, অজগর সাপ প্রভূতি। পাখ-পাখালির মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় বনমোরগ, শকুন, ঈগল, তিতির, শ্যামা, ভিমরাজ ও আরো বিভিন্নজাতের পাখি। বিস্তীর্ণ এ বন তার রূপের মায়াবী ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে প্রকৃতি প্রেমীকদের মন আকৃষ্ট করছে।

বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ডিমাই বাজার থেকে পাথারিয়া পাহাড়ের নির্জন পল্লী ডিমাই পুঞ্জির পাশ দিয়ে দুর্গম পাহাড়ি ছড়ার পথে হেঁটে গেলে প্রথমে পাওয়া যাবে কাখড়া ছড়ি ও ঝেরঝেরি ঝরনা। ঝরনাগুলো ছোট হলেও মন কাড়ে। এরপর পূর্ব দিকে ঘণ্টা দেড়েক (প্রায় ৬ কিলোমিটার) পিচ্ছিল পাথুরে ছড়া দিয়ে হাঁটার পর ওপরে ওঠলে দুইটি টিলার ভেতরে দেখা যাবে ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি ঝরনা।

দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি ঝেরঝেরির শীতল জলধারায় অনেকটাই কমে যায়। একটু অদূরে ঝেরঝেরির ঠিক ডান পাশে রয়েছে ইটাউরি ফুলবাগিচা ঝরনা। ছড়ার পথ ধরে ফুলবাগিচায় যাওয়া যাবে না। টিলার ভেতর দিয়ে রাস্তাটি খুবই সরু। ফুলবাগিচায় যেতে হলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু খাড়া দুইটি পাহাড়ের পিচ্ছিল পথ বেয়ে এগিয়ে গেলে তখনই চোখে পড়বে ফুলবাগিচা ঝরনা।

ঝেরঝেরি, কাখড়া ছড়ি, ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি আর ইটাউরি ফুলবাগিচা ঝরনার মতো পাথারিয়া পাহাড়ের অন্য অংশে রয়েছে ত্রিপল ঝরনা, জামিনীকুণ্ড, জমজ ঝরনা, রজনীকুণ্ড, পুছুম ঝরনা, বন্দরডুবা, পাইথুং ও রামাকুণ্ড নামে আরো অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন ঝরনা। এ ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি ঝুলন্ত ব্রিজও রয়েছে সেখানে।

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুয়েব আহমদ বলেন, পাথারিয়ার নতুন ওই ঝরনা আমাদের উপজেলাকে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন হলে আশা করা যায় মাধবকুণ্ডের মত দর্শনার্থীরা আসবেন এবং সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব আয় করতে পারবে।  এতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও হবে।