|
এই সংবাদটি পড়েছেন 7,860 জন

বিশ্বাস চেষ্টা ও পরিশ্রম দিয়ে সফল হওয়া একজন সম্পাদকঃ ফারহানা হেনা

মিনহাজুল আবেদীনঃ আমাদের সমাজে অনেক ভালো মানুষ রয়েছেন। তারা নিজ চেষ্টায় দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। সর্বদা শুধু নিজের জন্য নয় তারা সমাজের অন্যের ভালোর জন্যও কাজ করেন। তাদের চিন্তা-চেতনায় থাকে সবসময় মানুষের উন্নয়ন। সারাটা জীবন কাটিয়ে দেন মানুষের কল্যাণে। সেই সকল মানুষকে আমরা আলোকিত মানুষ হিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকি। সেই আলোকিত মানুষ আমাদের সমাজে খুব বেশি যে রয়েছেন তা কিন্তু নয়। হাতেগোনা যে কয়জন রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি’ই হলেন একজন। একমাত্র মনের ইচ্ছা, শক্তি, সামর্থ্য এবং নিজ দায়বদ্ধতায় থেকেই কাজ করে থাকেন। পাঠকদের জন্য তেমনি একজন আলোকিত মানুষের গল্প তুলে ধরছি।
 
আজকের যুগে আমাদের সামনে হাজারো দুয়ার খোলা। চাইলেই খুঁজে পাই আকাংখিত যেকোন বই পত্রিকা। কিন্তু একজন নারীর জন্য কোন কিছুই সুলভ না। আর নারীর সম্পাদনায় একটি পত্রিকা সেতো অকল্পনীয়। এই আধুনিক যুগেই যখন নারীরা নিগ্রহের শিকার হোন তখন কেবলই ভাবি একজন ফারহানা বেগম কতটা সাহসী হলে এই সাহসী কিন্তু দুর্গম পেশায় নিজেকে নিবেদন করেছেন।
 
সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা, আর আমাদের সমাজ ও পরিবারের পরিবেশ নারীদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের অনুকূল নয়। এ প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার জন্য প্রয়োজন প্রচন্ড মানসিক জোর। ফারহানা বেগম হেনা এ সব অন্তরায় অতিক্রম করেছেন নিজের মনোবল ও পারিবারিক সহযোগিতায়। নারীদের অবরোধে রাখা আমাদের যুগের সামাজিক রীতি এবং সে পরিবেশেই আবদ্ধ থাকাটাই যেন নারীদের কাছে স্বাভাবিক। কিন্তু ফারহানা বেগম হেনা’র পারিবারিক পরিবেশ নারীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সহায়ক।
 
২০১৭ সালে এসেও আমরা কিন্তু নারীদের তার যোগ্যতম স্থানটি দিতে পারছি না। আধুনিক সাহিত্যে আজ অনেক লেখকের আনাগোনা। আজ আমাদের সমাজে অনেক নারী সাংবাদিকও আছেন, কিন্তু কয়জন আছেন যারা সাংবাদিক পদে চাকরীর বাইরে নিজেকে প্রকৃত সাংবাদিক পরিচয়ে জন্ম দিতে পেরেছেন? এত হাজারো পত্রিকা, চ্যানেলের ভিড়ে এমন কোন অনলাইন দৈনিক কি আছে যার পরিচালনায় এবং সম্পাদনায় কোন নারী অধিস্টিত? এমন কোন অনলাইন দৈনিক কি আছে যা আমাদের মত সদ্য লিখতে শিখা আরেকটি প্রজন্ম তৈরী করবে? এতসব প্রশ্নের উত্তরে একটা নামই মনে আসে, আর তা হলো ডেইলি বিডি নিউজ ডট নেট, আর এর সম্পাদনায় রয়েছেন একজন নারী সাংবাদিক- ফারহানা বেগম হেনা। যার মাধ্যমে সদ্য লেখালেখিতে হাত পাকানো ছেলেমেয়েরা পায় সামনে এগিয়ে যাবার প্রেরণা। আর এই ছেলেমেয়েদের মাধ্যমেই আসবে একটি শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান প্রজন্ম।
 
ফারহানা বেগম হেনা, যিনি বিশ্বাস, চেষ্টা ও পরিশ্রম দিয়ে সফলতার মুখ দেখেছেন এবং নিজ অধ্যবসায়ে মনের গহীনে লালিত স্বপ্নকে স্পর্শ করে আজ স্বীয় সম্পাদনায় পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ডেইলি বিডি নিউজ ডট নেট নামক অনলাইন পত্রিকাটিকে। নদীর এপার থেকে ওপার প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়িয়েছেন জীবনের স্বপ্ন পূরণে লক্ষ্যে। প্রায় পনের লক্ষাধিক পাঠক নিয়ে আজ তাঁর স্বপ্নের অনলাইন দৈনিকটি ছুটে চলেছে হিমালয়সম উচ্চতা পানে।

Image 6578

ডেইলি বিডি নিউজ ডট নেটের ২য় বর্ষপূর্তিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদারের সাথে ফারহানা বেগম হেনা

 
ফারহানা বেগম হেনা, সিলেটে নারী সাংবাদিকতার একজন অগ্রদূত হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। ৮ই মার্চ ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “ডেইলি বিডি নিউজ ডট নেট” নামক অনলাইন পত্রিকা। এবং সেই সূচনালগ্ন থেকে আজ অবধি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সবাই ভাববেন সময়তো খুবই অল্প, কিন্তু আমি বলবো একজন নারীর জন্য এই কয়েকটি বছর কয়েক যুগের সমান। নানা প্রতিকূলতার মাঝে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে এতদূর আসা চাট্টিখানি কথা নয়। পুরুষশাসিত সমাজে একজন নারী সাংবাদিকের এতদূর এগিয়ে আসা কি সামান্য কয়েকটি শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব?
 
সিলেটের প্রথম দিকের নারী সাংবাদিক তিনি। কর্মস্থলে দীর্ঘক্ষন কাজ করতে করতে মেয়েদের জন্যে আলাদা টয়লেট না থাকায় কত যে অসুবিধা, তা আজকের সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা মেয়েরা কল্পনাও করতে পারবে না। কিন্তু ফারহানা বেগম হেনা সেই নারী, যিনি অবান্ধব পরিবেশেই মুখ বুঁজে কাজ করে গেছেন। আর তাইতো আজ তিনি সাহসী, কপটতাহীন, তোষামোদ-বর্জিত এবং আপসহীন সাংবাদিক হিসেবে সর্বমহলে সম্মানিত।
 
যতদূর মনে পড়ে গতবছর একটি অনুস্টানে সদ্য সাংবাদিকতায় আসা তরুন তরুনীদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেছিলেন- “এখনকার সাংবাদিকরা অনেক সাহসী। কূটনীতিক, অর্থনৈতিক, অপরাধমূলক, সামাজিক বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট, প্রতিবেদন তৈরি করছেন। স্পটে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তারা সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হন। সেটা যত বিপদসংকুল স্থানই হোক না কেন। নির্ভীক এই সাংবাদিকরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে।”
 
সংস্কৃতিমনা নারী জাতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ফারহানা বেগম হেনা’কে আমার সশ্রদ্ধ সালাম। আমি এই সাহসী, কপটতাহীন, তোষামোদ-বর্জিত এবং আপসহীন সম্পাদকের দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করছি। সাংবাদিকতায় আমার পথ প্রদর্শক হয়ে তিনি আমাদের সামন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাবেন আজীবন। ইন শা আল্লাহ্‌।