|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,020 জন

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত

ফারহানা বেগম হেনাঃ পবিত্র কুরআন ও সহীহ-হাদীস দ্বারা লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ‘শব-ই-বরাত’ নিয়ে এবং শব-ই-বরাতের হাদীসগুলোর বর্ণনা নিয়ে হাদীস বিশেষজ্ঞ ও ফকিহ্দের মধ্যে যে সংশয় রয়েছে- লাইলাতুল ক্বদরের ব্যাপারে তার কোনই অবকাশ নেই। পবিত্র কুরআন, নির্ভরযোগ্য হাদীস এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর লাইলাতুল ক্বদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘আমি এ (কুরআনকে) ক্বদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জান, ক্বদরের রাত কি? ক্বদরের রাত হাজার মাস হতেও উত্তম-কল্যাণময়’-সুরা আল্ ক্বদর  (১-৩)। এ রাতটি কোন মাসে? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘রমযান এমন মাস যাতে কুরআন নযিল হয়েছে-’ (বাকারা ১৮৫)। এ রাতটি রমযানের কোন তারিখে? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একটি রহস্যময় কারণে তারিখটি সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘ক্বদরের রাতকে রমযানের শেষ দশ রাতের কোন বেজোড় রাতে খোঁজ কর’। হযরত আবু বকর (রাঃ), ও হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকেও এ একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। অবশ্য কোন কোন ইসলামী মনীষি নিজস্ব ইজতিহাদ, গবেষণা, গাণিতিক বিশে¬ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে রমযানের ২৬ তারিখের রাতে শব্-ই-ক্বদর হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এটাকে সুনির্দিষ্ট করেননি বরং কষ্ট করে খুঁজে নিতে বলেছেন। মহান আল্লাহ্ চান বান্দাহ কয়েক রাত ইবাদতে গভীর মনোনিবেশ করে এ মহামূল্যবান রাতের সন্ধান পাক। আল্লাহ্ তার বান্দাহদের সবরের পরীক্ষায় ফেলেছেন। এ রহস্যের অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। পৃথিবীতে আমরা দেখি যা দুর্লভ তাই মূল্যবান। ভূগর্ভে অন্ধকার কয়লা খনির বিশেষ বিশেষ স্থানে মূল্যবান হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। সে হীরা সন্ধান ও উত্তোলনে কত মূল্যবান জীবন-সম্পদ -শ্রম নিঃশেষ হয়ে যায়! চমৎকার পদ্মটি ফোটে সরোবরের মধ্যে, আর তা সংগ্রহের জন্য কষ্টের পাশাপাশি কাঁটার আঘাতও সহ্য করতে হয়। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি সত্য। যে দ্রব্য অবাধ তার মূল্য নেই। যে দ্রব্যের যোগান সীমিত, যা অর্জনে পরিশ্রম করতে হয় তাকেই বলে অর্থনৈতিক দ্রব্য। আর এ দ্রব্যেরই বাজারে মূল্য রয়েছে। সহজ পরীক্ষা দিয়ে যথার্থ মেধা যাচাই করা যায় না। তাই আকর্ষণীয় বেতনে উচ্চ পদের জন্য পরীক্ষার অনেকগুলোর ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

সম্ভবত এ ধরনের কোন একটি কারণেই মহিমান্বিত এ রাতটিকে মহান আল্লাহ্ রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লুকিয়ে রেখেছেন। বান্দাহ বিনিদ্র রজনী কাটাবে, সবর করবে এর মধ্যে খুঁজে পাবে সম্মানিত রাত, পাবে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত, ফেরেস্তার অদৃশ্য মোলাকাতে তার হৃদয় সিক্ত হবে, আপন রবের ভালবাসায় হবে সে উদ্বেলিত । এ যেন দীর্ঘ বিরহের পর আপনজনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। এ দীর্ঘ প্রতীক্ষার কষ্ট- বিরহের মাধ্যমে রব তার বান্দাহকে আরো আপন করে নেন। কাজেই শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে মশগুল হতে হবে। প্রতিটি রাতকেই লাইলাতুল ক্বদর মনে করতে হবে। তাহলে লাইলাতুল ক্বদর আল্লাহর মেহেরবানীতে হাতছাড়া হবে না ইনশাআল্লাহ্। ২০, ২২, ২৪, ২৬ ও ২৮শে রমযানের দিবাগত রাতগুলোই হল শেষ দশকের বেজোড় রাত।

এ রাতের আর একটি গুরুত্ব হল এ পবিত্র রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছে। আর এ কুরআনের সাথেই মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এ জন্য ক্বদরের আর একটি অর্থ হল- ভাগ্য। তাহলে লাইলাতুল ক্বদরের অর্থ হয় ভাগ্য রজনী। যে মানুষ, যে সমাজ, যে জাতি, কুরআনকে বাস্তব জীবন বিধান হিসাবে গ্রহণ করবে তারা পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে সম্মানিত হবে। এ রাতে নাযিলকৃত কুরআনকে যারা অবহেলা করবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এ রাতেই মানব কল্যাণে আল্লাহ্ মানুষের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেরেস্তাদের জানান। আল্লাহ্ বলেন- “এ রাতে প্রত্যেকটি ব্যাপারে অত্যন্ত বিজ্ঞান সম্মত ও সুদৃঢ় ফায়সালা জারী করা হয়।” (সূরা দুখান-৪)

মহান আল্লাহ্ আরো বলেন- “ফেরেশতা ও রূহ (জিব্রাইল আঃ) এ রাতে তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে সব হুকুম নিয়ে অবতীর্ণ হয়, সে রাত পুরাপুরি শান্তি ও নিরাপত্তার- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।” (সূরা আল-ক্বদর -৪-৫)

লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলতগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ

০          এ রাতটি হাজার মাস হতে উত্তম- কল্যাণময় (কুরআন)

০          এ রাতেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে। (কুরআন)

০          এ রাতে ফেরেস্তা নাযিল হয় এবং আবেদ বান্দাহদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। (হাদীস)

০          ফজর পর্যন্ত এ রাতে পুরাপুরি শান্তি ও নিরাপত্তার। (কুরআন)

০          এ রাতে প্রত্যেকটি গুরুত্ব ব্যাপারে সুদৃঢ় ফায়সালা জারী করা হয়। (কুরআন)

০          এ রাতে ইবাদতে মশগুল বান্দাদের জন্য অবতরণকৃত ফেরেশতারা দু’আ করেন। (হাদীস)

গুনাহ মাফঃ “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর  নিকট হতে বড় শুভফল লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার পিছনের সব গুণাহ মাফ হয়ে যাবে।” (বুখারী-মুসলিম)

এ রাতে কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয় না। (ইবনে মাজাহ-মিশকাত)

কিয়ামূল লাইলঃ ‘কিয়ামূল লাইল অর্থ হল রাত্রি জাগরণ। মহান আল্লাহর  জন্য আরামের ঘুম স্বেচ্ছায় হারাম করে রাত জেগে ইবাদত করা আল্লাহর  প্রিয় বান্দাহদের একটি গুণ। মহান আল্লাহ্ তার প্রিয় বান্দাহদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে  তারা রাত্রি যাপন করে রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে। সূরা ফুরকান-৬৪

“তাদের পার্শদেশ বিছানা হতে পৃথক থাকে (অর্থাৎ তারা শয্যা গ্রহণ করে না ; বরং এবাদতে মশগুল থাকে)। তারা (গজবের) ভয়ে এবং (রহমাতের) আশায় তাদের রবকে ডাকতে থাকে এবং আমি যা দিয়েছি তা হতে দান করে থাকে। কেউ জানে না। তাদের আমলের পুরস্কার স্বরূপ (আখিরাতে) তাদের জন্য কি জিনিস গোপনে রাখা হয়েছে।” সূরা সিজদা (১৬-১৭)।

আল্লাহর প্রিয় বান্দারা গোটা জীবনটাই এভাবে কাটান। আমাদের সে জীবনে প্রবেশ করতে হলে দরকার অধ্যবসায়। পবিত্র রমযান বিশেষ করে লাইলাতুল ক্বদরের অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা আমাদের উদ্দেশ্য  লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে। মুসনাদে আহমেদ গ্রন্থে হযরত ওবায়দা ইবনে সামেত বর্ণিত হাদীসে উদ্ধৃত হয়েছে- “নবী করীম (সাঃ) বলেছেন- ক্বদরের রাত রমজান মাসের শেষ দশ রাতে রয়েছে। যে ব্যক্তি উহার শুভফল লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, আল্লাহ্ তার আগের পিছনের গুণাহ মাফ করে দিবেন।”

রসূল (সাঃ) রমযানের শেষ দশদিন মসজিদে এ’তেকাফে থাকতেন এবং ইবাদতে গভীর মনোনিবেশ করতেন। কাজেই আমরা কোন একটা বিশেষ রাতকে নির্দিষ্ট না করে হাদীস অনুযায়ী অন্ততঃ রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদরের সৌভাগ্য লাভের আশায় ইবাদতে মশগুল হই। আমরা এতে অবহেলা করলে হাদীসের ভাষায় হতভাগ্য হিসেবে চিহ্নিত হব। রসূল (সাঃ) বলেন- “যে ব্যক্তি এ রাত থেকে বঞ্চিত হবে সে সমগ্র কল্যাণ ও বরকত হতে বঞ্চিত হবে। এর কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক আর কেউ বঞ্চিত হয় না।” (মিশকাত)

এ রাতে আমাদের করণীয়ঃ

কুরআন অধ্যয়নঃ এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে। মানব জাতির এ বিরাট নিয়ামতের কারণেই এ রাতের এত মর্যাদা ও ফজিলত। এ কুরআনকে ধারণ করলেই মানুষ সম্মানিত হবে, একটি দেশ ও জাতি মর্যাদাবান হবে; গোটা জাতির ভাগ্য বদলে যাবে। কাজেই এ রাতে অর্থ বুঝে কুরআন পড়তে হবে। কুরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হবে। বাছাইকৃত কিছু আয়াত এ রাতে মুখস্থও করা যেতে পারে। যাদের কুরআনের উপর প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে তাঁরা এ রাতে একটি দারসও প্রস্তুত করতে পারেন। কুরআনের এ গভীর অধ্যয়ন আমাদের সৌভাগ্যের দ্বার খুলে দিবে। হাদীস থেকে জানা যায় রাতে ১ ঘন্টা গবেষণামূলক ইসলামী অধ্যয়ন সারা রাত জেগে ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। এ মর্তবা হল সাধারণ রাতের জন্য আর এ পবিত্র রজনীতে কুরআন অধ্যয়নের ফজিলত কল্পনা করাই কঠিন।

নফল নামাজঃ ন্যূনতম ৮ রাকাত থেকে যত সম্ভব পড়া যেতে পারে। এজন্য সাধারণ সুন্নাতের নিয়মে ‘দু’রাকাত নফল পড়ছি’ এ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সুরা ফাতেহার সাথে আপনার জানা যে কোন সূরা মিলাইলেই চলবে। বাজারে প্রচলিত কিছু বইতে ৩৩ বার সূরা আল কদর, ৩৩ বার ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। হযরত আশ্রাফ আলী থানবী (রঃ), মাওলানা ইউসুফ ইসলাহী (রঃ) এবং এ পর্যায়ের বরেণ্য ফকিহরা এগুলো জরুরি মনে করেন না। বরং ঐ সংখ্যকবার সূরা পড়তে গেলে হিসাব মিলাতে নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

এছাড়া সালাতুত তওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুত তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। এগুলোর নিয়ম আপনি মাসয়ালার বইগুলোতে পাবেন। রাতের শেষভাগে কমপক্ষে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। কারণ এ নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ। আর রাতের এ অংশে দোয়া কবুল হয়। নফল নামাজের সংখ্যার হিসাবের চেয়ে নামাজের গুণগত দিকটির দিকে আমাদের বেশী লক্ষ্য রাখতে হবে।

জিকির ও দোয়াঃ হাদীসে যে দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে সেগুলো থেকে কয়েকটি নির্বাচিত করে অর্থ বুঝে বারে বারে পড়া যেতে পারে। ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্-যদি কোন প্রকারে আমি জানতে পারি রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে কি দোয়া করব? জবাবে নবী (সাঃ) বলেন এ দোয়া পড়বে আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুববুন কারিমুন তুহিববুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” আয় আল্লাহ্ তুমি বড়ই মাফ করনেওয়ালা এবং বড়ই অনুগ্রহশীল। মাফ করে দেয়াই তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও। হযরত আয়েশা (রাঃ) কে শিখানো দোয়া আমরা আবেগের সাথে বারে বারে পড়ব।

আত্মসমালোচনাঃ আত্মসমালোচনা অর্থ আত্মবিচার। অর্থাৎ আপনি নিজেই নিজের পর্য়ালোচনা করুন। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে আল্লাহর কতগুলো হুকুম অমান্য করেছেন, আল্লাহর ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কতটা পালন করেছেন, ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় কি কি বড় গুণাহ আপনি করে ফেলেছেন, আল্লাহর  গোলাম হিসাবে আল্লাহর  দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আপনি কতটুকু ভুমিকা রেখেছেন- এগুলো ভাবুন, যা কিছু ভাল করেছেন তার জন্য আল্লাহর  শুকরিয়া আদায় করুন, আর যা হয়নি তার জন্য আল্লাহর ভয় মনে পয়দা করুন, সত্যিকার তওবা করুন। এ রাতে নীরবে নিভৃতে কিছুটা সময় এ আত্মসমালোচনা করুন দেখবেন আপনি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন। আত্মসমালোচনা আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলবে। আত্মসমালোচনা আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মহান আল্লাহ্ বলেন- “হে ঈমানদার লোকেরা আল্লাহ্ তায়ালাকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্য (পরকাল) সে কি প্রেরণ করেছে তা চিন্তা  কর।’ (সূরা হাশর-১৮)

মুনাজাতঃ মুনাজাতের মাধ্যমে বান্দার বন্দেগী ও আল্লাহর রবুবিয়াতের প্রকাশ ঘটে। বান্দাহ তার প্রভুর কাছে চায়। প্রভু এতে ভীষণ খুশি হন। মহান আল্লাহ্ তার বান্দার প্রতি এতটাই অনুগ্রহশীল যে, তিনি তার কাছে না চাইলে অসন্তুষ্ট হন। “যে আল্লাহর নিকট কিছু চায় না আল্লাহ্ তার উপর রাগ করেন”- (তিরমিযি)। “দোয়া ইবাদতের মূল’- (আল- হাদীস)। “যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা তার জন্য রহমতের দরজাই খোলা রয়েছে’’- (তিরমিযি)। কাজেই আমরা কায়মনোবাক্যে আল্লাহর  দরবারে মুনাজাত করব, ক্ষমা চাইব, রহমত চাইব, জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইব। মনের আবেগ নিয়ে চাইব। চোখের পানি ফেলে চাইব। আল্লাহ্ আমাদের খালি হাতে ফিরাবেন না ইনশাআল্লাহ্। রসূল (সাঃ) এর বাণী আশার আলো জ্বেলেছে হৃদয়ে। রসূল (সঃ) বলেছেন- ‘তোমাদের পরওয়ারদিগার লজ্জাশীল ও দাতা; লজ্জাবোধ-করেন যখন তাঁর বান্দা তার নিকট দু’হাত উঠায় তখন তা খালি ফিরিয়ে দিতে”- (তিরমিযী, আবু দাউদ, বায়হাকী- দাওয়াতে কবীর)।

দোয়ার ফযিলত সম্পর্কে হযরত আবু ছায়ীদ খুদরী একটা আকর্ষণীয় হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন-“যে কোন মুসলমান যে কোন দোয়া করে যাতে কোন গোণাহের কাজ অথবা আত্মীয়তা বন্ধন ছেদের কথা নাই নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাকে এ তিনটির একটি দান করেন।

তাকে তার চাওয়া বস্তু দুনিয়াতে দান করেন; অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন; অথবা তার অনুরূপ কোন অমঙ্গলকে তা হতে দূরে রাখেন।

সাহাবীগণ বললেন তবে তো আমরা অনেক লাভ করব। হুজুর (সাঃ) বলেন- “এ ছাড়া আল্লাহ্ আরো অধিক দেন।” (মিশকাত)

উপরোক্ত আমলের মাধ্যমে আমরা এ পবিত্র রাতগুলো কাটাতে পারি। লাইলাতুল ক্বদর পাবার তামান্না নিয়ে নিষ্ঠার সাথে অনুসন্ধান করলে আল্লাহ্ আমাদের বঞ্চিত করবেন না ইনশাআল্লাহ্। অবশ্য নফল ইবাদত নীরবে নিভৃতে ঘরে আদায় করাই মাসনুন। এতে আমাদের ইবাদত রিয়া (প্রদর্শন ইচ্ছা) দোষে দুষ্ট হবার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ পবিত্র রাতে কিছু অনাকাক্সিক্ষত কাজ হতে দেখা যায়। এগুলো বন্ধ করার জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আল্লাহ্ আমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর নসীব করুন এবং এ রাতের নিরাপত্তা ও কল্যাণ দান করুন।