|
এই সংবাদটি পড়েছেন 642 জন

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে

ডেইলি বিডি নিউজঃ ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও গতিশীল করতে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য দুই দফায় প্রাক-সম্ভাব্যতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)। শুরুতে তিনটি রুট বিবেচনা করা হলেও সবশেষে বিদ্যমান মহাসড়কের পাশ দিয়েই এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে দাউদকান্দি, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এর দুই পাশ আটকানো থাকবে। ইচ্ছে করলেই এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি প্রবেশ বা বের করা যাবে না। শুধু নির্ধারিত জায়গা দিয়েই গাড়ি প্রবেশ ও বের করা যাবে। এটি নির্মিত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে শেষ হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প নেওয়া হয় ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে। গত বছরের জুনে চার লেনের এই মহাসড়ক উদ্বোধন করা হয়। তবে ধীরগতির যানবাহনের জন্য চার লেনের মহাসড়কে রাখা হয়নি সার্ভিস লেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে একই সঙ্গে চলছে সব ধরনের যানবাহন। যে কারণে এই মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চার লেনের সুবিধা। নির্মাণ শেষে প্রকল্পটিতে এ ভুল পরিকল্পনা ধরা পড়ে। এখন তা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় ২০০৮ সালে। এতে ব্যয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। আর এডিবির ঋণে ২০১২ সালে এর সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৯৫ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে এলিভেটেড (ফ্লাইওভার) ও অ্যাটগ্রেড (ভূমির সমতল) উভয় পথেই নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে কিছু অংশ উড়ালপথে (ফ্লাইওভার) ও বাকি অংশ সমতলে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন চলছে নকশা প্রণয়নের কাজ।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ হাজার যানবাহন চলাচল করতো। ২০২০ সালে তা ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ২০৩০ সালে এই মহাসড়কে চলমান গাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৫ হাজার। এক্ষেত্রে বিদ্যমান মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হলেও খুব বেশিদিন এর সুবিধা পাওয়া যাবে না। এছাড়া মহাসড়কটিতে মাসে গড়ে ২০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ মহাসড়কে রয়েছে ৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট। এক্ষেত্রে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণই একমাত্র সমাধান।

গত বছরের এপ্রিলে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ। এতে বিদ্যমান মহাসড়কের পাশ দিয়ে এটি নির্মাণের জন্য এলাইনমেন্ট অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ২১৮ কিলোমিটার। ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে থাকা কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুও নির্মাণ করা হবে ছয় লেনের। এগুলোয় সড়ক ও রেলপথ উভয় ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় সার্ভিস রোড, সাতটি ইন্টারচেঞ্জ, তিনটি সার্ভিস স্টেশন, ৬৪টি ওভারপাস, ৪৪টি ভেহিক্যাল আন্ডারপাস, চারটি মাঝারি সেতু ও ২৮টি ছোট সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ১৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে উড়ালপথে নির্মাণ করলে এতে ব্যয় দাঁড়াবে ৭২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। তিন ধাপে ৭০০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে এ অর্থ ব্যয় হবে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে (পিপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।