|
এই সংবাদটি পড়েছেন 872 জন

ভুলতা ফ্লাইওভার ও শীতলক্ষ্যা সেতুতে বদলে যাবে রূপগঞ্জ

ডেইলি বিডি নিউজঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার ও পলী উন্নয়ন (এলজিইডি)‘র অধীনেই আড়াইশো কোটি টাকায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এনে দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক)। শুধু তাই নয়, সরকারের উন্নয়নের মাইল ফলকের বেশ কিছু মেগা প্রকল্প এই এলাকায় বাস্তবায়ন হওয়াতে নতুন রুপে সাজছে রূপগঞ্জ উপজেলা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ন স্থান ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম পাইকারী কাপড়ের হাট গাউছিয়া এলাকায় নিত্য যানজটের কবলে পড়ে নিত্য ভোগান্তির খবরে পাঠকের যেমন কান ভারী হতো। তেমনি এ পথে চলাচলকারী পথচারী,যাত্রী,যানবাহনের ভোগান্তিরও যেন ছিলনা। এসব বিষয় সমাধানে স্থানীয় এমপির দাবীর মুখে বাংলাদেশ সরকার বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। এতে যানজট নিরসনে ২০১৫ সনের অক্টোবর মাসে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু করেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। তাই মেগা প্রকল্পের আঁওতায় এ ফ্লাইওভারটি ২০১৮ইং সনের জুন মাসের পূর্বেই খুলে দিলে রূপগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নের মাইল ফলকে যোগ হবে এক নতুন দিগন্ত। আর তা বাস্তবায়নের উর্ধ্বতন মহল যথা সময়ে তা শেষ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্চেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায় , ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সেতুটি নির্মাণ করছে চিনা কোম্পানী চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো গ্রুপ ও ¯েপক্টা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ওএমএন বিল্ডার্স লিমিটেড। নির্মাণাধীন ভুলতা ফ্লাইওভার প্রকল্প দেশীয় অর্থায়নে ২০১৫ইং সনের অক্টোবরে ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মানের শুরু থেকেই নিরলসভাবে দ্রæত গতিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ফলে যথা সময়েই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে এই এলাকার যানজট ও জনভোগান্তি দুর করতে সক্ষম হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ব্যস্ততম গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় স্বাভাবিকভাবে পথচারী, ক্রেতা,বিক্রেতা আনাগোনা দেশের যে কোন স্থানের তুলনায় একটু বেশি। এদিকে ঘনঘন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এ ফ্লাইওভারটি পরিদর্শনে এসে স্থানীয়দের আস্বস্ত্য করছেন ২০১৮ সালের জুন মাসের পূর্বেই এ উড়াল সেতুর কাজ শেষ হবে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফ্লাইওভারটির পিলার ও গার্ডার সহ এর গ্যাং রোড, ড্রেনেজ, পাইলিং,পার্কওয়ে বেশির ভাগ কাজই শেষ হয়েছে। কিছু গার্ডার নির্মাণ করলেই এ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে। অভ্যন্তরীন হকার্সদের অসহযোগীতায় এ মেগা প্রকল্পের কাজ ঝিমিয়ে পড়লে এমপি গাজী নিজেই হর্কার্স উচ্ছেদে অংশ নেয়। ফিরিয়ে দেন গতি।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক রিয়াজ হোসেন বলেন, সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী যথাসময়ে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারব। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আলীউল হোসেন বলেন, ভুলতা ফ্লাইওভারটি বা এ উড়াল সেতুর কাজ যথাসময়েই স¤পন্ন হবে। এতে কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শিল্পনগরী খ্যাত রূপগঞ্জের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও মালামাল পরিবহনের অভ্যন্তরীন যান চলাচলের পাশাপাশি দুটি মহাসড়ক থাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের অধিকাংশ এলাকায় যানজটের কবলে পড়ে থাকে। ফলে এখানকার রাস্তা ও সড়ক উন্নয়নে স্থানীয়দের দাবীর মুখে এমপি গাজীর সহযোগীতায় কেবল রূপগঞ্জেই আড়াইশো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পায়। এতে শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপার দিয়ে রাজধানী ডেমরা হতে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া, রূপগঞ্জ সদর ও দাউদপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে গড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটির উভয় পাশে ৬ফুট করে বৃদ্ধি করা হবে। তাতে রূপগঞ্জের পশ্চিমপাশের জনগণের দূর্ভোগ কমে আসবে। সম্প্রতি এ সড়কের উভয়পাশে ৩ ফুট করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে এলজিইডি বিভাগের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক্ব বলেন, রূপসী-কাঞ্চন সড়কটি এশিয়ান ডেভেলবম্যান্ট সোসাইটির অর্থায়নে ৪ লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২শ‘৫০ কোটি টাকার বরাদ্ধ এসেছে। এ বরাদ্ধগুলো কাজে লাগাতে আগামী অক্টোবরের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে। পরে এ টেন্ডারীং প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হলে পরবর্তি ৬ মাসের মধ্যেই রূপগঞ্জের অংশে থাকার এলজিইডির অধীনে সড়কগুলোর সমস্যা দূর হবে। আবার শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপাড় এলাকার ডেমরা -কালীগঞ্জ সড়কের পূর্বাচল উপশহর ৪নং সেক্টর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৩ফুট করে প্রশস্ত করার কাজ চলছে। কোন কোন স্থানে বৃষ্টির কারণে সড়ক ধ্বসে পড়েছে বলে জানান তিনি। বালির বস্তা ফেলে সাময়িক যানচলাচল অব্যাহত রেখেছেন ।

আবার সেতু বিভাগের আওতায় রূপগঞ্জের ইছাখালী এলাকায় শীতলক্ষ্যা সেতুটিও নির্মাণের শেষ পর্যায় রয়েছে। শতকোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ সেতুটির প্রায় ৮৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এ সেতুটি চালু হলে স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজধানীর সাথে আশপাশ জেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগের পাশাপাশি মহাসড়কের যানজট কমে আসবে। স্থানীয় সাংবাদিক মাহবুব আলম প্রিয় বলেন, সম্প্রতি বাস্তবায়নাধীন রূপগঞ্জের মেগা প্রকল্পগুলো এ অঞ্চলের নামের স্বার্থকতা রক্ষা করবে। রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কলামিষ্ট ও লেখক লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, রূপগঞ্জটাকে উন্নয়নের জন্য এমপি গাজীর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। শিল্পনগরীর উন্নয়নে যে জনপ্রতিনিধি কাজ করবেন । জনগণ তাকেই মূল্যায়ন করবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ -১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রূপগঞ্জে দুটি বৃহৎ মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এরমধ্যে আড়াইশো কোটি টাকা ব্যয়ে ভুলতা ফ্লাইওভার অপরটি একশো কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। যা ২০১৮ইং সালের জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সবরকম সহায়তা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে রূপগঞ্জের দুটি পৌরসভায় ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। তারাব পৌরসভায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১শত ৯ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট রাখা হয়েছে। পূর্বাচল উপশহরকে ঘিরে ও শিল্পকারখানার কারণে এ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে বলে দাবী করেন।