|
এই সংবাদটি পড়েছেন 594 জন

নেতাকর্মীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে বিব্রত আ.লীগ

ডেইলি বিডি নিউজঃ হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে নেতিবাচক কার্মকা- করে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলছেন দলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি দলীয় নির্দেশনা ও কঠোর হুশিয়ারির পরও এসব থামছে না। সারাদেশেই নেতাকর্মীরা বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে নেতিবাচক ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। আর বদনামের ভাগিদার হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এবং দলের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও অঙ্গসংগঠনের বেশকিছু নেতাকর্মী অপকর্ম করায় দলের নেতারা এমন ধারণা করছেন।

দলীয় নেতারা জানান, গত ৭ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বিকৃত’ ছবি (পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা ছবি) ছাপানোর অভিযোগে ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। মানহানির মামলায় বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন। তারিক ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত প্রথমে তা নামঞ্জুর করেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং জনপ্রশাসনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হন বলে তার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গণমাধ্যমকে জানান। সমালোচনার চাপে ত্বরিৎ গতিতে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সাজুকে সাময়িক বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বরিশালের হাকিম আদালতে হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

এদিকে ঢাকা-১৯ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ডা. এনামুর রহমান নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দেন তা নিয়ে দল ও দলের বাইরে তোলপাড় শুরু হয়। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে আওয়ামী লীগ। ডা. এনামুর বলেন, সাভারে অনেক ক্যাডার আর মাস্তান ছিল। এখন সব পানি হয়ে গেছে। কারও টুঁ শব্দ করার সাহস নেই। ৫ জনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি আরো ১৪ জনের লিস্ট করেছি। সব ঠা-া। লিস্ট করার পর যে দু’একজন ছিল তারা আমার পা ধরে বলেছে, আমাকে জানে মাইরেন না আমরা ভালো হয়ে যাবো।

ডা. এনামুরের এই বক্তব্যের সূত্র ধরে গত রোববার আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর সভায় তাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সম্পাদকম-লীর সভা শেষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি একটি পত্রিকায় ইন্টারভিউ এবং রিঅ্যাকশন দিয়েছিলেন। সেটা আমরা খুব সিরিয়াসলি পার্টিতে নিয়েছি এবং তাকে এ বিষয়ে শোকজ করছি।’

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দল সরকারে থাকলে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীরা বুঝে বা না বুঝেই এরকম ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। এরা আসলে আওয়ামী লীগ করেন না; ‘পকেট’ লীগ করেন? এদেরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরা যেই হোক, এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা একের পর এক নানা নেতিবাচক ঘটনায় বিতর্কিত হচ্ছেন, সমালোচনার মুখে পড়ছেন। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ঘটনায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। সম্প্রতি বগুড়ায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। গত ১৭ জুলাই ভাল কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার আহ্বায়ক তুফান সরকার। এর ১০ দিন পর তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী’ মেয়েটি ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শহরের চকসূত্রাপুর এলাকায় যায়। সেখানে কাউন্সিলর রুমকির বাড়িতে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয় এবং প্রহার করা হয়। এই ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত ২৮ জুলাই রাতে বগুড়া সদর থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। এরপর রাতেই তুফান এবং তার তিন সহযোগী আতিকুর রহমান আতিক, আলী আজম দিপু ও রূপমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকী আসামির কয়েকজনকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা আমাদের সহযোগী সংগঠনের ব্যাপারেও সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি না। তারা (শ্রমিক লীগ) এ ব্যপারে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেবে। আমরা নির্দেশ দিয়েছি। এরপর জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তুফানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।