|
এই সংবাদটি পড়েছেন 21,604 জন

ফের অশ্লীলতার আগ্রাসনে দেশের চলচ্চিত্র

ডেইলি বিডি নিউজঃ ভিনদেশীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ‘অশ্লীলতা’ নামক বিষ আবারও ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকাই চলচ্চিত্রে। খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করলেই নাকি নায়িকা সাহসী কিংবা আলোচনায় চলে আসছেন এমন একটা ট্রেন্ড চলচ্চিত্র অঙ্গনে তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক নায়িকাকেই বলতে শোনা যায় ‘চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয়ে খোলামেলা হতে আপত্তি নেই।’

যদিও বিশ্লেষকরা বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে লাগে অভিনয় গুণ। খোলামেলা হলেই শিল্পী হওয়া যায় না। বরং অভিনয়ের প্রতি আস্থা কম থাকলে এ ধরনের কথা বলে অনেকেই আলোচনায় আসতে চান। ঢালিউডে একটা সময় অশ্লীলতা ছিল। এ নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে। সে দায়ে ময়ূরী, মুনমুন, পলিসহ বেশ কয়েকজন অশ্লীল নায়িকাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর অশ্লীল নৃত্যের ধারাটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসে। কিন্তু কয়েকমাস ধরে ‘আইটেম গান’-এর মধ্যদিয়ে আবারও চলচ্চিত্রে অশ্লীল নৃত্যের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ইদানীং কোন বাণিজ্যিক ছবিই অশ্লীল ধারার আইটেম গান ছাড়া নির্মাণ হচ্ছে না। অনেক প্রযোজক-পরিবেশকেরই ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হলে আইটেম গান রাখতেই হবে। তা না হলে ছবি ব্যবসা সফল হবে না। তাই নির্মাতারাও ব্যবসার কথা ভেবে চলচ্চিত্রে ধুমধাড়াক্কা আইটেম গানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এসব আইটেম গানের নামে অনেকেই চলচ্চিত্রে শুরু করেছেন অশ্লীলতার চর্চা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ‘আজব প্রেম’ ছবিটি। বাপ্পী ও আঁচল অভিনীত ছবিটির বিরুদ্ধে দর্শক ও বোদ্ধামহলে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে। ইউটিউবে প্রকাশিত কিছু দৃশ্য এ অভিযোগের উৎস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলেছেন, এ সব দৃশ্য ঢাকাই চলচ্চিত্রের অশ্লীলতাকে ফের উসকে দেবে।  ‘আজব প্রেম’ সিনেমায় বাপ্পী-আঁচলকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেটাকে অশ্লীলতা ছাড়া কিছুই বলা যাবে না। এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে হয়েছে তীব্র সমালোচনা। এ ছবির ‘আজ দুচোখে’ শিরোনামের একটি গানে বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় আঁচল-বাপ্পীকে। বিশেষত তাদের চুম্বন দৃশ্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। কেউ কেউ বলছেন অভিনয় গুণে এখনও সিনেমায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি আঁচল। এরই মধ্যে বেশ কিছু সিনেমা মুক্তি পেলেও নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাননি। তাই এবার খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করে নিজেকে আলোচনায় রাখার কৌশল অবলম্বন করছেন।

এদিকে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ সিনেমাটির বিরুদ্ধেও। সম্প্রতি সিনেমার প্রচারণায়ও দেখা গেছে বিতর্ক উসকে দেয়ার চালাকি। তন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘রান আউট’ মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। এই সিনেমার পোস্টারে লেখা রয়েছে ‘১৮+’। অথচ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গ্রেডিং সিস্টেম এখনও চালু হয়নি। ফলে এটাকেও প্রচারণার বাণিজ্যিক কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, ছবির পোস্টারে নায়িকা স্বর্ণাকে খোলামেলাভাবে উপস্থাপনের কারণেও সমালোচানা হয়েছে বেশ।

চলচ্চিত্রে নতুন করে অশ্লীলতার ছোবল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব ও সেন্সরবোর্ডের সদস্য মুশফিকুর রহমান গুলজারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তবে যতদূর জানি, ছবিগুলো খুব বেশি ব্যবসায়িক সফলতা পায়নি। হল থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ছবিগুলো যখন ছাড়পত্র পায় তখন আমি সেন্সরবোর্ডে ছিলাম না। সামনে এ ধরনের অশ্লীল দৃশ্যের কোন ছবি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আর একজন নির্মাতা হিসেবে আমি বলতে চাই, যারা এ ধরনের ছবি নির্মাণ করছেন বা করার পরিকল্পনা করছেন তাদের এ মুহূর্তে বিরতি নেয়া উচিত। অশ্লীল ছবির ওপর সরকার কড়াকড়ি আরোপ করলেও চলতি বছরের প্রথম ছবিটির বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠে অশ্লীলতার। আজাদ খান পরিচালিত ‘দাবাং’ ছবির পোস্টার ও বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে খোদ চলচ্চিত্র মহলেই উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। ছবিটির অন্যতম নায়ক জায়েদ খানও এ নিয়ে বেশ বিব্রত বলে জানিয়েছিলেন সে সময়। এদিকে গত কয়েক মাস আগে শফিকুল ইসলাম পরিচালিত ‘অচেনা হৃদয়’ ছবির আইটেম গান নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এতে আইটেম গার্ল হিসেবে নেচেছেন সাদিয়া আফরিন। শুটিং স্পটে যারা এই নৃত্য দেখেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ যেন নাচ নয়, আইটেম গানের নামে নায়িকার শরীর দেখানোই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল। অশ্লীল নৃত্যের সঙ্গে এতে কুরুচিপূর্ণ গানের কথাও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গান রুচিশীল কোনো দর্শক মুখে উচ্চারণ করতেও লজ্জাবোধ করবেন। এ ধরনের আইটেম গানের ছবি একবার কোন দর্শক সপরিবারে দেখলে, দ্বিতীয়বার আর হলমুখী হবেন না।

মূলত ২০১৩ সালে ‘দেহরক্ষী’ ছবির মধ্যে দিয়ে ঢাকাই ছবিতে ‘আইটেম গান’ নামের অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন শুরু হয়। ‘হিটম্যান’, ‘ভালোবাসা সীমাহীন’, ‘কিস্তিমাত’, ‘রাজত্ব’, ‘আই ডোন্ট কেয়ার’, ‘দাবাং’ প্রভৃতি ছবির মাধ্যমে অশ্লীল নৃত্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

One Response to ফের অশ্লীলতার আগ্রাসনে দেশের চলচ্চিত্র

  1. Jodie says:

    ” Quando perco a fé ,fico sem controle ,e me sinto mal ,sem espreança ,e ao meu redor ,a inveja vai ,fazendo as pessoas se odiarem mais … ! ” – Cedo Ou Tarde _ NxZero ‘

Leave a Reply

Your email address will not be published.