|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,016 জন

ভেদাভেদহীন এক মহামিলনের প্রস্তুতি

ডেইলি বিডি নিউজঃ পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কায় মিলিত হচ্ছেন বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। পৃথিবীর সবকিছু ত্যাগ করে সেখানে তারা এক আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হচ্ছেন। চারদিকে লোকে লোকারণ্য। কোনো ভেদাভেদ নেই। কোনো সহিংসতা নেই। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পবিত্র কাবা শরীফে উপচে পড়া ভিড় এখন। দিন রাত সারাক্ষণ কাবা তাওয়াফ করছেন হাজার হাজার মুসলিম নর-নারী। সরাসরি সম্প্রচারে টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে কাবা’কে ঘিরে শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউবা এরই মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর রওজা মোবারক জিয়ারত করতে ছুটে গেছেন মদিনায়। মসজিদে নববীর একপাশে রয়েছে তার রওজা। সেখানেও মুসল্লি, হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক ভিড়। এক এক মনোরম দৃশ্য। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন বর্ণের, বিভিন্ন গোত্রের মানুষ এক সুরে সুর মিলাবেনÑ ‘আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে।

বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে এবার পবিত্র হজ পালন করছেন হজযাত্রীরা। এক বছর বিরতি দিয়ে এবার হজে যোগ দিচ্ছেন ইরানের হজযাত্রীরা। হজে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৩০০ হজযাত্রী মারা যাওয়ার পর সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ইরান ২০১৬ সালে কোনো হজযাত্রী পাঠায় নি। এ ছাড়া এবার কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব সহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে দেয়া অবরোধকে কেন্দ্র করে এক রকম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত তিন মাস এমন উত্তেজনা থাকলেও পবিত্র হজে তার কোনো ছাপ নেই। হজের সময়, হজকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনীতি নেই। এ সময়টা সবাই শুধু এক আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন। ইন্দোনেশিয়া থেকে হজ করতে গিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী ইনি। তিনি সৌদি আরবে পৌঁছাতে পেরে আনন্দে আত্মহারা। বলেছেন, অনেক মানুষই হজে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাদের একজন হিসেবে আমি সফল হয়েছি। তাই আমি ভীষণ খুশি। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বসবাস ইন্দোনেশিয়ায়। তাই পবিত্র হজে সেখানকার হজযাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইনি বলেছেন, আমার প্রথম হজের পরে মনে হয়েছিল আবার ফিরে আসি সৌদি আরবে প্রিয় নবী (স.)-এর পুণ্যভূমিতে। এখানে এসে আমার সময় কাটছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক পরিচালক আবদেল মাজিদ মোহাম্মদ আল আফগানি বলেছেন, এ বছর ২০ লাখের মতো হজযাত্রী হজ করবেন বলে আমরা আশা করছি। ২০১৫ সালে মক্কায় পদপিষ্ট হয়ে মারা যান প্রায় ২৩০০ হজযাত্রী। তার মধ্যে ৪৬৪ জনই ইরানি। এর ফলে ইরান সরকার সৌদি আরবকে দায়ী করে। তেহরানে অবস্থিত সৌদি আরবের দূতাবাসে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। ফলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। কিন্তু এ বছর তারা হজে যোগ দিয়েছে।