|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,301 জন

শরণার্থী থেকে বিশ্বজয়ী

ডেইলি বিডি নিউজঃ জাতিবিরোধ, নির্যাতন, রাজনৈতিক অস্থিরতা— নানা কারণেই অনেককে বেছে নিতে হয় শরণার্থীর জীবন। দেশ, সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে সব হারিয়ে শুধু প্রাণ রক্ষায় শরণার্থী হয়ে কিছু মানুষের অনিশ্চিত যাত্রা।

সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর কাছে শুধু প্রাণে বেঁচে থাকাই যেন অনেক কিছু। সেখানে উচ্চশিক্ষা, পদমর্যাদা বা বিশ্বকে তাক লাগানো অর্জন যেন স্বপ্নপূরণ। শরণার্থী থেকে বিশ্বজয় করা এমন কিছু অনুপ্রেরণীয় ব্যক্তির গল্প নিয়ে আজকের আয়োজন—

আলবার্ট আইনস্টাইনঃ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান এবং বিশেষত আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত গবেষণায় ১৯২১ সালে নোবেল জয় করেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তিনি ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। নোবেলজয়ী হয়েও শরণার্থীর তালিকায় নিজের নাম লেখাতে হয়। ১৯৩৩ সালে এডলফ হিটলার জার্মানিতে ক্ষমতায় আসার সময় আইনস্টাইন বার্লিন একাডেমি অব সায়েন্সের অধ্যাপক ছিলেন। ইহুদি হওয়ার কারণে তার ওপর নানা ধরনের অত্যাচার আর নিপীড়ন আসতে থাকে। এক সময় আইনস্টাইন দেশত্যাগ করে আমেরিকায় চলে যেতে বাধ্য হন। পরে আর জার্মানিতে ফিরে যাননি। পরবর্তীতে আমেরিকাতেই তিনি স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেন।

দালাই লামাঃ দালাই লামা হচ্ছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক প্রধান ও শাসনতন্ত্রের শীর্ষ পদাধিকারী। বর্তমান চতুর্দশ দালাই লামা হলেন তেনজিন গিয়াত্সু। তিনি তিব্বতে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও দিয়েছে। গিয়াত্সুর জন্ম তিব্বতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আমদো প্রদেশের তাকসার গ্রামের একটি কৃষক পরিবারে। কিন্তু ১৯৫৮ সালে চীন কর্তৃক তিব্বত অধিগৃহীত হওয়ার পর কিছু অনুগামীসহ তিনি গোপনে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তিনি এখন পর্যন্ত ভারতের ধর্মশালায় শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন।

এলি ওয়াইসেলঃ ১৯৮৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ও বিখ্যাত নভেলিস্ট এলি ওয়াইসেল। তিনি রোমানিয়ান বংশোদ্ভূত ইহুদি লেখক। তার ক্যারিয়ারকে সমুজ্জ্বল রেখেছে ৫৫টি নামকরা নভেল। তার সবচেয়ে বিখ্যাত লেখা ‘নাইট’ নামক নভেল। এতে তার নিজের জীবনের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার চিত্র পাওয়া যাবে। ওয়াইসেল ট্রানসিলভানিয়া বর্তমানে রোমানিয়ায় ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৪ সালে জার্মানি আর্মি তাদের কমিউনিটিতে আঘাত হানে। তখন তিনি প্যালেস্টাইনে পালিয়ে যেতে চান। কিন্তু ব্রিটিশ বাধার কারণে তাকে বেলজিয়াম তারপর নরমান্ডিতে যেতে হয়। এর কয়েক দশক পর তিনি ওয়াশিংটন ডিসির নাগরিকত্ব পান।

লুল দেংঃ পেশাদার বাস্কেটবলার লুল দেং বর্তমানে খেলেছেন মিয়ামি হিটের হয়ে। কিন্তু এর আগে তিনি সুদানের শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আমস্টারডামে আসেন। তরুণ লুল দেং-এর বাবা ছিলেন সুদানিজ পার্লামেন্টের সদস্য। দক্ষিণ সুদানের দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ বাধলে পরিবারসহ মিসরে পাড়ি জমান। সেখানে এনবিএ সেন্টারের মানুতি বোল দেং ও তার বড় ভাইকে বাস্কেটবল খেলা শেখান। এ সময় তার পরিবার ছিল রাজনৈতিক আশ্রিত। তারা দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটনে নাগরিত্ব লাভ করেন। তারপর ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেং শিকাগো বুলসের হয়ে খেলেন। এখন মিয়ামির পক্ষে খেলছেন।

মিলা কিউনিসঃ বিশ্বনন্দিত অভিনেত্রী মিলা কিউনিস ১৯৯১ সালে লস- এঞ্জেলসে আসেন ইউক্রেনের মুসলিম শরণার্থী হিসেবে। তিনি ইউক্রেনের একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যখন তার বয়স সাত তখন রাশিয়াতে হলোকাস্ট (ব্যাপক গণহত্যা) শুরু হয়। তারপর সে দেশে মুসলিম হিসেবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে যায়। আর সে কারণে প্রাণ রক্ষায় তারা নিজেদের ইহুদি হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের ভিতর জানত যে তারা আসলে কোন বিশ্বাস ধারণ করে। এরপর তারা দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। রাশিয়াতে থাকা অবস্থায় তার বাবা-মা দুজনই খুব ভালো চাকরি করতেন। একটি সুখী পরিবারই ছিল বলা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ নেমে আসে। এ অবস্থায় মিলার বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাই নিজেদের সবকিছু ফেলে আমেরিকায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। সেখানে এসে তিনি নিজের লেখাপড়া চালাতে লাগলেন। পরবর্তীতে নিজের জীবনে হয়ে উঠলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

এসমা ভলোডেরঃ ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড অস্ট্রেলিয়ার মুকুটটি অর্জন করেছেন ২৫ বছরের মুসলিম শরণার্থী এসমা ভলোডের। ছোট্ট এসমাকে সঙ্গে নিয়ে তার পরিবার বসনিয়া শরণার্থী ক্যাম্প থেকে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। সে সময়কার দিনগুলো তাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জের ছিল। নিজেদের থাকা, খাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নানা ধাক্কা অঘোষিতভাবে আসতে থাকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর কিছুটা আলোর মুখ দেখতে পান হয়তো। সেখানকার নাগরিকত্ব পেয়ে বাবা-মা জীবন সংগ্রামে জয়ের ভূমিকায় থাকেন। এসমার বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়াতেই। শরণার্থী হলেও পড়াশোনার তাগিদ ভুলে যাননি। তিনি সাইকোলজি ও ক্রিমিনাল প্রোফাইলার বিষয় নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি শখ ছিল বিউটি প্যাগান্ট হওয়ার প্রতি। তিনি নিজেকে সেভাবেই গড়ে তোলেন। সফলতা হিসেবে অর্জনের ঝুলিতে আসে মিস ওয়ার্ল্ড অস্ট্রেলিয়ার পুরস্কারটি। এসমা মুসলিম শরণার্থী হিসেবে নিজের অবস্থানে থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়েছেন। কখনো নিজের প্রতিভার ওপর আস্থা হারাননি। তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন ইচ্ছা থাকলেই নিজের প্রতিভার বিকাশ সম্ভব।

গ্লোরিয়া স্টিফানঃ গায়ক ও গান রচয়িতা গ্লোরিয়া স্টিফান জন্মগ্রহণ করেছেন কিউবার হাভানাতে। তার জন্মের সময় সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছিল। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন রক্ষা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যায়। তখন তার পরিবার নিজেদের জীবন রক্ষায় কিউবান বিপ্লবের পর ফ্লোরিডায় পালিয়ে যায়। সেখানেই খুঁজে নেন জীবনের নতুন ছন্দ। ফ্লোরিডায় এসে গ্লোরিয়ার বাবাকে অনিশ্চিত উপার্জনে থাকতে হয়নি। যদিও জীবনকে বাজি রাখার মতো সাহসিকতা দেখান আমেরিকান আর্মিতে যোগ দিয়ে। তিনি বে অফ পিগস আক্রমণেও অংশ নেন। গ্লোরিয়া ফ্লোরিডার নাগরিকত্ব পান ১৯৭৪ সালে। এরই মধ্যে তিনি নিজেকে একজন গায়ক হিসেবে গড়ে তোলেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আর কোনো বাধা না থাকায় তিনি লিজেন্ডারি ব্যান্ড মিয়ামি সাউন্ড মেশিনে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো হয়ে আছেন। দীর্ঘ চার দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারে লেগেছে নানা অর্জনের তকমা। শুরু গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসই পেয়েছেন সাতবার। ছোট্ট গ্লোরিয়া নিজেও কি ভেবেছিলেন ভেসে বেড়ানো জীবনটি এমন সম্মানজনক অর্জনে সক্ষম হবে?

অ্যান্ডি গার্সিয়াঃ অ্যান্ডি গার্সিয়াকে সবাই ইতালিয়ান সিনেমা জগতের স্টার হিসেবে চেনেন। তিনি ‘দ্য গ্রান্ডফাদার-৩’ এ দুর্দান্ত অভিনয় করার জন্য অস্কারে মনোনীত হন। আপনি জেনে অবশ্যই অবাক হবেন যে গার্সিয়া মূলত ইতালিয়ান নাগরিক নন। তিনি একজন শরণার্থী। অ্যান্ডি গার্সিয়া জন্মগ্রহণ করেন কিউবার হানাভাতে। বে অফ পিগস আক্রমণের পর ৫ বছরের অ্যান্ডির পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তারপর শিশু অ্যান্ডিকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবা-মা কিউবা ছেড়ে মিয়ামিতে চলে আসেন। সেখানে এসে গার্সিয়া পরিবারকে খুব বেশি দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়নি। সেখানে এসে তার পরিবার মিলিয়ন ডলারের পারফিউম ব্যবসা দাঁড় করান। ততদিনে তিনি নিজেকে একজন সফল অভিনেতায় পরিণত করে নিয়েছেন। তার ‘আনটাচএবল’, ‘দ্য ওসান সিরিজ’ এবং ‘দ্য লস্ট সিটি’ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। অথচ আসল পরিচয়ে তিনিও শরণার্থী।

হেনরি কিসিঞ্জারঃ আমেরিকান শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক, বিজ্ঞানী, কূটনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী হেনরি কিসিঞ্জার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্বনেতাদের কাছে তার মতবাদ সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করতে দেখা যায়। এমন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারীও একজন শরণার্থী। তিনি ১৯২৩ সালের ২৭ মে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৮ সালে তার পরিবার দেশ ছাড়েন। হেনরির বয়স ১৫। অবশ্য আমেরিকায় এসে নাগরিকত্ব পেতে বেগ পেতে হয়নি। পরিবারও জুতসই কাজ জুটিয়ে নিয়েছিল।

সিগমুন্ড ফ্রয়েডঃ সিগমুন্ড ফ্রয়েড ছিলেন একজন অস্ট্রীয় মানসিক রোগ চিকিৎসক এবং মনস্তাত্ত্বিক। ১৮৬৫ সালের ৬ মে বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের ফ্রিবার্গের মোরাভিয়ান শহরে এক গ্যালিসিয়ান ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার পরিবার ভিয়েনাতে চলে যায়। তার ছেলেবেলার বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে সেখানে। ১৯৮১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা থেকে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি নেন। ভিয়েনাতে অভিজাত ইহুদি কমিউনিটিতে বাস করতেন। কিন্তু ১৯৩৮ সালে ফ্রয়েডকে নািস আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নির্বাসিত হতে হয়। তখন ব্রিটেনে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সে আক্রমণে তার চারটি বোন মারা যান।

মেডেলিন অলব্রাইটঃ মেডেলিন অলব্রাইট সর্বাধিক পরিচিত আমেরিকার প্রথম নারী ইউনাইটেড স্টেটস সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ১৯৯৬ সালে  মনোনয়নপ্রাপ্ত। তা ছাড়া অঘোষিতভাবেই তিনি নিশ্চিত ছিলেন পদটির জন্য যোগ্য হিসেবে। তারপর ইউএস সিনেটের ভোটে জয়ী হয়ে ১৯৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি শপথ নেন। যার এত প্রাধান্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বংশোদ্ভূত নন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মারিজানা করবিলোভাতে, বেড়ে ওঠেন স্লোভাকিয়ায় বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের অধীনে। অলব্রাইটের বাবা-মা জুদাইজম থেকে রোমান ক্যাথলিজম গ্রহণ করেন। তারপর ১৯৪১ সালে তারা লন্ডনে পালিয়ে আসেন। শিশু অলব্রাইটও অন্যদের মতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শরণার্থী হিসেবে বেড়ে ওঠেন।

গ্যারি শেটাইঙ্গার্টঃ বিদ্রূপাত্মক লেখক হিসেবে পরিচিত গ্যারি শেটাইঙ্গার্ট। তিনি ও তার পরিবার সোভিয়েত ইউনিয়নে ইহুদিদের দ্বারা বিদ্বেষমূলক অবস্থানে ছিলেন। যখন তিনি অনেক ছোট তখনই তার পরিবার নিউইয়র্ক শহরে চলে আসেন। সেই সময়কার দুর্বিষহ অবস্থার কথা ছোট গ্যারি ভুলতে পারেননি। সেটা মনে রেখেই লিখেছিলেন ‘লিটিল ফেইলিয়র’ নামের একটি প্রবন্ধ। গ্যারি সর্বপ্রথম পাঠকদের মন জয় করেন ‘সুপার স্যাড ট্রু লাভ স্টোরি’ নামক নভেল লিখে। এ ছাড়াও তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর স্যাটায়ার লিখতেন। তার উল্লেখযোগ্য স্যাটায়ারের মধ্যে পাওয়া যায় ‘দ্য রাশিয়ান ডেবিটন্টস হ্যান্ডবুক’ এবং ‘অ্যাবসারডিজম’।

হালিমা এডেনঃ বিশ্বে যখন মুসলিমরা নানা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকছেন শুধু হিজাব পরার কারণে সেখানে মিস মিনেসোটা প্যাগান্টে প্রতিযোগিতা করছেন এক হিজাবি মডেল হালিমা এডেন। ১৯ বছরের এই মডেল শুধু মাথা ঢেকে নয়, রীতিমতো বুর্কিনী পরে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। হালিমা জন্মগ্রহণ করেছেন কাকুমা ক্যাম্পে কেনিয়ান শরণার্থী হিসেবে। সেখানে তিনি ৬ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন। তার পরিবার রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় আসেন। তিনি যে ক্যাম্পে ছিলেন সেটি সোমালি, সুদানিজ এবং ইথিয়পিয়ান শরণার্থী নিয়ে গঠিত ছিল। শরণার্থী শিবির থেকে উঠে আসা সেই হালিমা বর্তমানে আইএমজি নামক বড় একটি মডেল এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই মডেলিং-এ ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখি না। তবে আমি কখনো বিশ্বাস করি না যে, একজন হিজাবি মডেল হতে পারেন না। আর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারি আমি নিজেই। ’