|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,717 জন

ব্যবসায়ীরা আইনে আবদ্ধ ভ্যাট, কতৃপক্ষ নন!

অর্থনৈতিক প্রতিবেদকঃ সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চেম্বার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

কাস্টম্স ও ভ্যাট কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট একটি পরোক্ষ কর যা রাষ্ট্রের অধিকার। কাস্টম্স, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট বিভাগ সরকারের অনুসৃত নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করে থাকে। আমরা ব্যবসায়ীদের সকল সমস্যা আইনানুগভাবে সমাধানে সচেষ্ট রয়েছি। তিনি বলেন, ভ্যাট আইনের আলোকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহে অডিট করা হয়ে থাকে। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদেরকে সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানান।

মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক এবং ভ্যাট, বাজেট, শুল্ক, কর ও ট্যারিফ সাব কমিটির আহবায়ক মাসুদ আহমদ চৌধুরী। সভায় ব্যবসায়ীগণ ভ্যাট, ট্যাক্স আদায়ের ব্যবসায়ীদের হয়রানী না করা, ভ্যাটের বোঝা কমানো, কৃষি যন্ত্রপাতিকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা, প্যাকেজ ভ্যাট চালু রাখা সহ বিভিন্ন দাবী-দাওয়া তুলে ধরেন।

মতবিনিময় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন, এসময় বক্তারা কাস্টম্স ও ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তাদের অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অযৌক্তিক ও বাস্তবতা বিবর্জিত ভ্যাট সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।  যদিও ব্যবসায়ীদের এই সকল প্রতিবাদের তৎক্ষণাৎ কোন সমাধান দিতে পারেননি কাস্টম্স ও ভ্যাট কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম ও কর অঞ্চল-সিলেট এর কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ । এসময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলাবলি করতে থাকেন আমরাই শুধু আইনে আবদ্ধ ভ্যাট কতৃপক্ষ নন।  মতবিনিময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী সিলেটের কাস্টম্স ও ভ্যাট কমিশনার সার্কেল ২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরলেও তাৎক্ষণিক কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।

কর অঞ্চল-সিলেট এর কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ তার বক্তব্যে বলেন, আয়কর বিভাগ সিলেটের ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিত প্রদানে সর্বদা আন্তরিক। তিনি বলেন, সিলেট চেম্বারে নির্দিষ্ট স্থান দেওয়া হলে আমরা কর বিভাগের পক্ষ থেকে এখানে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করতে পারি, যেখান থেকে ব্যবসায়ীদের আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও তথ্যাবলী প্রদান করা হবে। তিনি জানান, কর বিভাগের পক্ষ থেকে অতিশীঘ্রই আয়কর মেলা আয়োজন করা হবে। উক্ত মেলায় সকল আয়করদাতাকে নিজ নিজ গাড়িতে ব্যবহারের জন্য করদাতা স্টিকার প্রদান করা হবে। তিনি করদাতাদেরকে দেশের স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিলের আহবান জানান।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াচ্ছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। প্রধামন্ত্রীর ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ অনুযায়ী বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ ও উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে সেজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সংগতি রেখে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ ও ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বাংলা ভাষায় নতুন আয়কর প্রণয়নের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেজন্য তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ধন্যবাদ জানান। তিনি আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব জানান।

সভায় ব্যবসায়ীগণ ভ্যাট, ট্যাক্স আদায়ের ব্যবসায়ীদের হয়রানী না করা, ভ্যাটের বোঝা কমানো, কৃষি যন্ত্রপাতিকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা, প্যাকেজ ভ্যাট চালু রাখাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আতাউর রহমান, গোটাটিকর বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সেক্রেটারী আলীমুল এহছান চৌধুরী, সিলেট ক্যাটারার্স গ্রুপের সেক্রেটারী সালাউদ্দিন চৌধুরী বাবলু, ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সেক্রেটারী মোঃ মকবুল হোসেন, আব্দুল বাছিত সেলিম, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, জিয়াউল হক, মোঃ সাহিদুর রহমান, মুশফিক জায়গীরদার, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, এহতেশামুল হক চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, প্রাক্তন সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ্ আলম, প্রাক্তন পরিচালক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, তাহমিন আহমদ, মোঃ মোস্তফা কামাল, মোঃ আরিফ মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ তারেক চৌধুরী, মোঃ কয়ছর আলী, হাফিজুর রহমান খান, মোঃ গোলাম রব্বানী ফারুক, নুরুজ্জামান টিপু, মোঃ রব্বানী মোস্তফা, মোঃ আনোয়ার হোসেন, খন্দকার কাওছার আহমেদ রবি প্রমুখ।