|
এই সংবাদটি পড়েছেন 504 জন

মাধ্যমিকের ১২টি সুখপাঠ্য বই ছাপা নিয়ে নতুন জটিলতা

ডেইলি বিডি নিউজঃ প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া, ভুল বানান, বর্ণ পরিচয়ে অসংবেদনশীল শব্দের ব্যবহারসহ পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে বছরের শুরু থেকেই চলছে সমালোচনা। এসব ভুলত্রুটির কিছু কিছু সংশোধনও করা হয়েছে এরইমধ্যে। তবু আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপানো নিয়ে বছর শেষে ফের শুরু হয়েছে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা। এসব জটিলতার কিছু কাটিয়ে ওঠা গেলেও শেষ পর্যন্ত সংকট থেকেই যাচ্ছে নবম-দশম শ্রেণির ১২টি সুখপাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে। বিভিন্ন চেষ্টার পরও এ সংকটের সমাধান কোনোভাবেই হচ্ছে না বলে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ও মুদ্রণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে।

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও জানা গেছে, নবম-দশম শ্রেণির সুখপাঠ্য ১২টি বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি এখনও। উল্লেখ্য, বইগুলোকে আরও সহজ-সরল ভাষায় শিক্ষার্থীদের পড়ার উপযোগী করে তোলাই হচ্ছে সুখপাঠ্য বইয়ের উদ্দেশ্য। সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকের বই ছাপায় ধীরগতি ও নবম-দশম শ্রেণির সুখপাঠ্য বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব জটিলতার পেছনে জাতীয় এনসিটিবি’র কিছু কর্মকর্তাকে দুষছে মুদ্রণ সমিতি।

জানা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার দেড় মাস পার হয়ে গেলেও নবম-দশম শ্রেণির সুখপাঠ্য বইয়ের কার্যাদেশ হয়নি। এই অবস্থায় মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা স্পষ্ট করেই বলছেন, সময়মতো কার্যাদেশ ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে এর দায় এনসিটিবিকে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বছরের শুরুতে নবম-দশম শ্রেণির ১২টি বই সহজ ও সরল করার জন্য শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, সুখপাঠ্য করা ওই ১২টি বই সহজ ও সরল করে মন্ত্রণালয়কে জমা দিতে দেরি করেছেন শিক্ষাবিদরা। অন্যদিকে বই হাতে পেলেও টেন্ডার জটিলতা ছিল প্রথম থেকেই। পরে টেন্ডার সম্পন্ন হলেও মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এখনও কার্যাদেশের চিঠি পায়নি এনসিটিবি।

এনসিটিবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মুদ্রণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ডেকে কাজ দেওয়া, টেন্ডারের বাইরে নতুন শর্ত আরোপ, নির্দিষ্ট সময়ে ওয়ার্ক অর্ডার দিতে না পারা, প্রাথমিকে বই বাঁধাইয়ে নতুন শর্ত ও নবম-দশম শ্রেণির সুখপাঠ্য বইয়ের কাজ পাওয়া না পাওয়ার মতো কারণ নিয়ে এ সংকট ঘনীভূত হয়েছে। এছাড়া, কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েও বিপাকে পড়েছে এনসিটিবি।

এ ব্যাপারে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘সুখ্যপাঠ্য বই নিয়ে এনসিটিবি যা ইচ্ছে তাই করছে। এখনও সুখপাঠ্য ১২টি বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। কবে দেওয়া হবে, তাও জানানো হচ্ছে না। কোনও এক রহস্যময় কারণে এনসিটিবি কর্মকর্তারা কার্যাদেশ দিতে দেরি করছেন। বই ছাপতে নতুন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, চারটি বই সম্পূর্ণ রঙিন কাগজে ছাপতে হবে। এতকিছু মেনে বই ছাপানো সম্ভব নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘সুখপাঠ্য ১২টি বই নিয়ে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে কার্যাদেশ নিয়ে অনুমতির চিঠি রয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহে মুদ্রণকারীদের হাতে কার্যাদেশ দিতে পারবো। কার্যাদেশের দিন থেকে তারা ৫০ দিন সময় পাবে। আশা করছি সময়মতো কাজ শেষ হবে।’