|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,680 জন

গৌরবদীপ্ত বৈমানিক বীরশ্রেষ্ঠ

ডেইলি বিডি নিউজঃ যে সাত বীরশ্রেষ্ঠ বাংলাদেশের গর্ব, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান তাদেরই একজন। জাতিকে গৌরবদীপ্ত করে যাওয়া এই বীরশ্রেষ্ঠ’র ৭৬তম জন্মবার্ষিকী আজ।

১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে জন্ম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের। বাবা মৌলভী আব্দুস সামাদ, মা মোবারকুন্নেসা । নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মতিউর ছিলেন অষ্টম।

স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বীরশ্রেষ্ঠ’র অবদান অবিস্মরণীয়।দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে তার অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করবে। বিশেষ অবদানের জন্য সাত বীরশ্রেষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে এই মহান বীর সেনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনতাই করে বাংলাদেশের জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

সে ছিল এক অমর বীরত্বের কাহিনী।দারুণ বীরত্বের সঙ্গে মতিউর একাত্তরের ২০ আগস্ট  বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে পাঞ্জাবি পাইলট অফিসারসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন। কিন্তু পাঞ্জাবি পাইলটের বাধায় আর সফল হতে পারেননি তিনি। উড়ন্ত বিমানে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শেষ হয়ে যায় সব। সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই প্রাণ হারান।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী তার লাশ নিয়ে মশরুর বিমান ঘাঁটির ৪র্থ শ্রেণির কবরস্থানে দাফন করে, যা ছিল অমর্যাদাকর  । শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাকে পূর্ণ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

দেশমাতৃকার জন্য জীবন দানকারী এই বীর সেনা কর্মজীবনেও বারবার প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৬১ সালের ১৫আগস্ট ৩৬তম জিডি (পি) কোর্সে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে। ১৯৬৩ সালের ২৩ জুন তিনি ফ্লাইট ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। বিমান বাহিনীতে তিনি ২ নং ট্রেনিং স্কোয়াড্রন-মৌরিপুর, ফাইটার লিডারশিপ স্কুল-করাচি এবং ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুল-এ সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। চাকরি জীবনে ১৯নং ফাইটার স্কোয়াড্রন ও ২৫ নং স্কোয়াড্রনে তিনি এফ-৮৬ জঙ্গি বিমানের পাইলট হিসাবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন । প্রশিক্ষক হিসেবে বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে ও ২ নং স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করেন । এ ছাড়া তিনি  আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সদর দফতর, ইসলামাবাদেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাক্তিজীবনে ১৯৬৮ সালে তিনি মিলি খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৯ সালে তাদের প্রথম কন্যা মাহিন ও ১৯৭০ সালের  ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কন্যা তুহিনের জন্ম হয়।

১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বাৎসরিক ছুটিতে এসে তিনি প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। একারণে মার্চে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া হয়নি আর । পাকিস্তান থেকে বিমান সংগ্রহের লক্ষ্যে ৯ মে তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান।  নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি বিমান ছিনতাই করে যুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করেন।  এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই দেশপ্রেমিক বীরসেনানী।