|
এই সংবাদটি পড়েছেন 802 জন

সুদানে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে প্রশংসিত বাংলাদেশ

 ডেইলি বিডি নিউজঃ জাতিসংঘ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত বাংলাদেশ। সেই প্রশংসার মুকুটে আরো একটি পালক যোগ হয়েছে সম্প্রতি। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের সমন্বিত মিশনে যোগ দিয়ে আফ্রিকার দেশ সুদানের শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ ফোর্স রিজার্ভ কোম্পানি (বিএএনএফআরসি)।

ওয়েস্ট দারফুর ‍নিউজ বুরেটিন জানায়, জাতিসংঘের এই সমন্বিত মিশনের সৈন্যরা পশ্চিম সুদানে গৃহযুদ্ধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের জন্য কাজ করছেন। সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করছেন তারা। স্কুলগুলোতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

ব্যবহৃত জিনিস থেকে পশ্চিম সুদানের দারফুরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধাযুক্ত বেঞ্চ তৈরি করে প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশি সৈন্যরা। ব্যবহৃত কাঠের পুরনো বাক্সসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে দারফুরে ই১ রিয়াদ ভিত্তিক ‍বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের জন্য বেঞ্চ তৈরি করেছেন সৈন্যরা।

সম্প্রতি এই দুটি বিদ্যালয়ে এসব বেঞ্চসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ও খেলার উপকরণ বিতরণ করা হয়। এসব উপকরণ শিক্ষার্থীদের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে মিশনের পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিয়াশো হাগোস সেয়ুম বিএএনএফআরসি’র এই উদ্ভাবনী কাজের প্রশংসা করে বলেন, তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করতে এবং তাদের মন জয় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিএএনএফআরসি’র কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লে. কর্নেল তানভীর চৌধুরী এই উদ্ভাবনী কাজের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, যখন প্রথমবার এসব বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসি তখন বুঝতে পারি আমরা শিক্ষার্থীদের উপকরণ দিচ্ছি, কিন্তু তাদের বসার চেয়ারই নেই। তখনই কাঠের বাক্সগুলো পুনঃপ্রক্রিয়া করার চিন্তা মাথায় আসে।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে মিস্ত্রি না থাকায় প্রথমদিকে আমাদের জন্য কষ্টকর ছিল। আসবাবপত্রগুলো ভালো হচ্ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার আমরা সফল হই।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য জিনিসপত্র এসব আসবাবপত্র তৈরির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিচ্ছিন্ন শিশুদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘের মিশনকে ধন্যবাদ জানান।

ই১ রিয়াদ ভিত্তিক ‍ও বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সামিরা মুসা বলেন, এসব বিদ্যালয় মূলত বিচ্ছিন্ন লোকদের সন্তানদের জন্য, এদের অনেকেই আবার এতিম। তাদের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন। সঠিক জায়গায় আপনারা সহযোগিতা করছেন এবং তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

বালক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষও একই কথা বলেন। গত সেপ্টেম্বরেও তিনি ৩শ ছাত্রের জন্য খেলার সামগ্রীসহ অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণ করেন।

দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলী আদম আহমেদ জাতিসংঘের মিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি আমাদের জন্য শিক্ষা যে আমরা যা ব্যবহার করি তাও ফেলনার নয়, এগুলোও আগামীতে কোন না কোনভাবে কাজে লাগতে পারে। তিনি অন্যান্য বিদ্যালয়েও এই প্রক্রিয়ায় কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।