Main Menu

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪ বছর পূর্তি

ডেইলি বিডি নিউজঃ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপন করছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে মহাজোট সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের শাসনামলে ২০১১ সালের ২৫ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করা হয়। তবে সেই থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। অন্যদিকে, সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অনড় থাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও দলটি সাড়া দেয়নি।

বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করলেও সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুধু বর্জনই নয় এ নির্বাচনকে প্রতিহত করতে হরতাল, অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচি দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলাসহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এরপর থেকে প্রতি বছরই এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে আওয়ামী লীগ উদযাপন করে আসছে। অন্যদিকে বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসনে বিজয়ী হয়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি এবং আওয়ামী লীগের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ওই দিন নির্বাচন না হলে মার্শাল ল হতো বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ত। এই দিন নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকত না। বাংলাদেশের অবস্থা থাইল্যান্ডের মতো হতো। আমরা কোথাও কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারতাম না। এই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বাধাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশর গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই আমরা এই দিবসকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করব।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিরাই দেশ পরিচালনা করবে- এ পদ্ধতি নিশ্চিত হয়েছে।’

তাদের মতে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।

তারা বলেন, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলি ট্যানেল, পায়রা সমুদ্রবন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুমদুম পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্প, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সরকারের গৃহীত মেগাপ্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অগ্রগতির এক অনন্য মাইলফলক।

দশম জাতীয় সংসদের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র, প্রগতি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই ২০১৪ সালের এদিন বিএনপি-জামায়াত জোট চক্রের সংবিধানবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে দেশের জনগণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বস্তঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করে। নির্বাচন বানচালে সারা দেশে বিএনপি-জামাত জোটের জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, সন্ত্রাস, লুটতরাজ, ভাঙচুর, বৃক্ষনিধন ও অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় দেশের জনগণ।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় বনানী মাঠে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানাসমূহে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে। দেশব্যাপী এই কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে গণতন্ত্রের বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

 






Related News

Comments are Closed