Main Menu

সিলেটে মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে?

ডেইলি বিডি নিউজঃ সবার একই প্রশ্ন। এ মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে? অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ মারা যাচ্ছে। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। জীবিকার তাগিদে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে পাথর সংগ্রহে নামছে মানুষ। আর চোখের সামনেই মাটি চাপা পড়ে মারা যাচ্ছে। পাথরখেকোরা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে হাজার-হাজার পাথর শ্রমিককে। আর অজ্ঞতার কারণে প্রতিনিয়তই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে শ্রমিকরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হচ্ছে পরিবেশ। এবারকার স্পট সিলেটের জাফলং। এর আগে ছিল কালাইরাগ, শারপিনটিলা, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া। সবখানেই ঘটেছে নির্মমতা।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ৪১ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে। কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যা আরো বেশি বলে জানিয়েছেন কোয়ারি এলাকার মানুষজন। শ্রমিক মারা গেলে লাশ গুমের চেষ্টা চলে। গত মাসে এমন ঘটনা ঘটেছিল কোম্পানীগঞ্জের কালাইরাগে। পাথর কোয়ারিতে মাটিচাপায় নিহত ২ জনের লাশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে গুম করে ফেলেছিল পাথরখেকো সিন্ডিকেট। প্রশাসনের কেউ কেউ ছিল তাদের সঙ্গে জড়িত। শেষে নেত্রকোনা থেকে ঘটনার পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর আগে জাফলংয়ের জুম মন্দির এলাকায় কোয়ারিতে মাটিচাপায় নিহত তরুণী চম্পার লাশ গুমের চেষ্টা চালিয়েছিল এবারের ট্র্যাজেডির নায়ক আবদুস সাত্তার। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় চম্পার লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু চম্পার মৃত্যুর পরও ওই এলাকায় থামেনি মৃত্যুর মিছিল। প্রায় দেড় মাসের মাথায় ওই গর্তেই নিহত হলেন ৫ শ্রমিক। শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় চলছে সবখানে। মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারণ ঘটনার পরপরই লাশ ফেলে পালিয়ে যায় সবাই। রাতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে। এরা হচ্ছে- সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর গ্রামের নুর মিয়া (৫০), হবিগঞ্জ বানিয়াচং থানার জামালপুর গ্রামের সাদেক মিয়া (৩৫), একই উপজেলার বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার জহুর আলী (৬৫), জহুর আলীর ছেলে মুজাহিদ মিয়া (২২) মেয়ে সাকিরুন বেগম (২৬)। আহতরা হলেন- হেলাল মিয়া ও মিজানুর রহমান।

এদিকে জাফলং ট্র্যাজেডির ঘটনায় নিহত জহুর আলীর আরেক মেয়ে জাকিরুন বেগম বাদী হয়ে গতকাল গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৬ জনকে। এর মধ্যে প্রধান আসামি হচ্ছে গর্তের মালিক আবদুস সাত্তার। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার দিন সকালেই আবদুস সাত্তার চম্পা খুনের মামলায় আদালতে হাজিরা দেয়। এ সময় আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। আর ওইদিন বিকেলেই ঘটে আরেক ঘটনা। এ ঘটনায়ও আসামি হয়েছে আবদুস সাত্তার। এছাড়া মামলা পাথরখেকো সিন্ডিকেটের আরো ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অতীতেও একই রকম ঘটনায় মামলা হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন- গত ৬ মাসে জাফলং কোয়ারিতে ১০ শ্রমিক নিহত হয়েছে। প্রায় ৬ মাস আগে একই এলাকায় গর্তে পাথর উত্তোলনের সময় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে আবদুস সাত্তারের গর্তে চম্পা মারা যায়। এরপরও আরেকজনের মালিকানাধীন গর্তে আরো দু’জন মারা যান। ১০ জনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পাথরখেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং বেড়েই চলেছে। জাফলং কোয়ারির পাশেই জুমমন্দির। এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এক বছর ধরে জুম মন্দিরের চারপাশ গিলে খাচ্ছে পাথরখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

এদিকে- ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার গতকাল সকালে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটির প্রধান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুর রহমান। এছাড়া সদস্য করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ ও আরডিসি আরিফুর রহমান। গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায় জানিয়েছেন- পাথর কোয়ারি ধসে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শাহাব উদ্দিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আরেকটি মামলায় গর্তের মালিক আবদুস সাত্তার কারাগারে রয়েছেন। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই গর্তের মালিকদের আটক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল বিকেলে জাফলংয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা লাল পতাকা টানিয়ে সতর্ক এলাকা ঘোষণা করে এসেছেন। এ সময় তারা স্থানীয়দের বক্তব্য গ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানায়- গোয়াইনঘাট থানার ওসির নিয়োজিত সোর্স আবদুল্লাহ ওই সব গর্ত থেকে নিয়মিত ওসির নামে টাকা তোলে। ওই টাকা এসআই মতিউর রহমানের মারফতে ওসির কাছে পৌঁছে। সিলেট পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামেও ওই এলাকা থেকে টাকা তোলা হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এদিকে- তদন্ত কমিটির প্রধান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুর রহমান জানিয়েছেন, তারা এলাকা পরিদর্শন করে কিছু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। পাশাপাশি তারা এলাকার মানুষের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন।






Related News

Comments are Closed