Main Menu

শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

ডেইলি বিডি নিউজঃ নতুন বছরের শুরুতে ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে। এবার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: রুহুল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন বেশকিছু নেতা-কর্মী। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, টাকা না দিয়ে খাওয়া, চাঁদাবজি, টেন্ডারবাজি, অসৌজন্যমূলক আচরণ, ছাত্রদল নেতাদের সাথে সখ্যতা সহ আরো বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তারা। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবে ‘শাবি শাখা ছাত্রলীগের কর্মী’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে আবু সাঈদ, সাজিদুল ইসলাম সবুজের অনুসারীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক লক্ষণ চন্দ্র বর্মন।

এসময় তারা বলেন, ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী ইমরান খান বিগত ৮ বছরে অনার্সের ১৪০ ক্রেডিটের মধ্যে মাত্র ২৪ ক্রেডিট সম্পন্ন করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে বিগত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ইমরান খানের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। ফলে একজন অছাত্র কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারেন এমন প্রশ্ন তোলেন তারা।

  • টাকা না দিয়ে খাওয়াঃ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল টাকা না দিয়ে খাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়া, ফুড কোর্ট, শাহ-পরান হল ক্যাফেটেরিয়া সহ বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট ও টঙ্গে খাবারের বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুড কোর্টের একটি দোকানের মালিক সোবহান আমাদের সময়কে জানান, ৬ হাজার চার শত ঊনিষ টাকা আমার প্রাপ্য। সংসারের অভাব অনটনের জন্য বারবার তাকে বলার পারও তিনি টাকা দিচ্ছেন না। শাহ-পরান হল ক্যাফেটেরিয়ার মালিক কামাল মিয়া জানান, তিন-চার মাস যাবৎ ৩ হাজার সাত শত চল্লিশ টাকার জন্য আমি রুহুল ভাইয়ের রুমে যাওয়া আসা করেছি। এখন টাকা পাওয়ার আশা বাদ দিয়েছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়ার মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, ৪ হাজার আট শত পঞ্চাশ টাকা আমার প্রাপ্য হলেও তিন হাজার টাকা দিবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
  • চুরিঃ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের দাবি করেন, রুহুল আমীন ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় হল থেকে একটি ল্যাপটপ চুরি করেন। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন যাতে দেখা যায় হল থেকে বের হওয়ার সময় রুহুলের হাতে একটি ব্যাগ ছিল। কিন্তু রুহুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এটি তার নিজস্ব ব্যাগ ছিল এবং এতে কোন ল্যাপটপ ছিলনা। রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতে এসব বলা হচ্ছে। ছাত্রদলের সাথে সখ্যতা: ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১ এর সিলেট জেলা কমটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অভ্র কুমার দাসকে নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের বাড়ীতে নিয়ে যান। এসময়  ছাত্রলীগ সম্পাদকের সাথে সেলফি তুললে দেশব্যাপী সমালোচনার শিকার হন জাকির। এ ঘটনায় রুহুলের পদত্যাগ দাবি করেছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বর্জনঃ এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও  সাধারণ সম্পাদকের অধীনে কোন কর্মসূচিতে অংশ নিবেন না বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনরুপ ব্যবস্থা না নিলে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করবে তারা। এছাড়া বিভিন্ন সময় তার ‘উদ্ধতপূর্ণ কথাবার্তা’ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনেন নেতাকর্মীরা। এছাড়া অছাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না বলেও জানান তারা।

অভিযোগের ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমীন বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিতর্কিত হেয় প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে সাঈদ ও সবুজের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে কতিপয় পথভ্রষ্ট কর্মী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, অসুস্থতার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকায় সময়মত অনার্স সম্পন্ন করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেছি এর প্রেক্ষিতে পুণ:ভর্তির সুযোগ কেন দেয়া হবেনা এই মর্মে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সাজিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, বর্তমানে আমি এমফিল রিসার্চ নিয়ে ব্যস্ত। তাই এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমানিত হয় তাহলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

অপর কেন্দ্রীয় সদস্য আবু সাঈদ আকন্দ বলেন, নতুনদের সুযোগ করে দিতে আপাতত একটু দূরে আছি। তাই কি হয়েছে তা এখনো ভাল করে জানিনা। তবে এ ব্যাপারে এসএম জাকির হোসেন ভাই যে সিদ্ধান্ত নিবেন তাই সকলের মেনে নেয়া উচিৎ।  

সুত্রঃ আমাদের সময়






Related News

Comments are Closed