Main Menu

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আনন্দে মাতলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা

ডেইলি বিডি নিউজঃ নন-এমপিও শিক্ষকদের মধ্যে যেন ঈদের খুশি! সবাই যার যার বাড়িতে ফোনে কথা বলছেন। কেউ স্ত্রীর সঙ্গে, কেউবা তার মেয়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। সবাই খুশিতে আত্মহারা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে উল্লাসেও মেতেছেন কেউ কেউ। তাদের মুখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নন-এমপিও শিক্ষকরা অনশন ভাঙার পর দেখা গেলো এমন চিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের কথা জানতে পেরে খুশির ফোয়ারা ছড়িয়ে পড়ে তাদের চোখেমুখে। তাই অনশন ভেঙেছেন তারা।

মেহেরপুর থেকে আসা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘ভাই আনন্দের কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না! প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন। এর চেয়ে বড় ব্যাপার আর কী হতে পারে! তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, তাই আমরা বাড়ি ফিরে যাবো। একটু আগে ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে জানিয়েছি, বাড়ি ফিরছি।’

এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট-অর্ডার) দাবিতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে অনশনরত শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। শুক্রবার বিকালে শিক্ষকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তা পৌঁছে দেন তার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

একান্ত সচিব এসে নন-এমপিও শিক্ষক নেতাদের বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন।’ তার মুখে এ কথা শোনার পর অনশনরত শিক্ষকরা নড়েচড়ে বসেন। একান্ত সচিব নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাদের অনশন সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আপনাদের এমপিওভুক্ত হবে। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা অনশন ভেঙে ঘরে ফিরে যান।’

এ ঘোষণার পর আনন্দে মেতে ওঠেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। প্রেসক্লাব এলাকায় তখন খুশির জোয়ার। এরপর শিক্ষা সচিব বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আপনাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। তার নির্দেশে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে যান।’

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন। আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ। আমরা তার আশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।’

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলারের ভাষ্য, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনবেন। এমপিওভুক্ত করার জন্য আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাই আমরা কর্মসূচি স্থগিত করছি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’ এরপর নন-এমপিও শিক্ষকদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান শিক্ষা সচিব।

এমপিওভুক্তির দাবিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। আমরণ অনশন ও অবস্থান ধর্মঘটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। তবুও ২০১৬-১৭ আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি অথবা বাড়তি ভাতার ব্যবস্থা করতে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

এ কারণে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। তাদেরকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে ৩১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন করছেন তারা।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দাবি— দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর বিনাবেতনে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তারা। এ কারণে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে ধরে রাখা যাচ্ছে না শিক্ষার মান।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ জানান, দেশের ৯৮ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি মাদ্রাসা। সবই বেসরকারি ব্যবস্থাপনা নির্ভর। এর মধ্যে বিভিন্ন স্তরে পাঁচ-ছয় হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে, যা এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পাঠদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী।






Related News

Comments are Closed