Main Menu

দূরপাল্লার ২০০ বাস নামাচ্ছে বিআরটিসি

ডেইলি বিডি নিউজঃ দূরপাল্লার ২০০ বাস নামানোর লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। আগামী জুন নাগাদ রাস্তায় নামা এসব বাসের মধ্যে ১০০টি এসি ও ১০০টি নন-এসি। এর বাইরে আরো ৩০০ ডাবল ডেকার ও ১০০টি এসি সিটি বাস চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে বিআরটিসির। ভারতীয় অর্থায়নে এসব বাস কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাসগুলো কিনতে ব্যয় হবে ৫৮১ কোটি টাকা। ৬০০ বাস কেনার এ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়। আরেকটি প্রকল্পের অধীনে ২১৭ কোটি টাকায় কেনা হবে ৫০০ ট্রাক। এ দুই প্রকল্পে ৫৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে ভারত। বাকি অর্থের জোগান দেবে সরকার।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দূরপাল্লার প্রতিটি এসি বাস কিনতে ব্যয় হবে ৭৬ লাখ টাকা। আর নন-এসিগুলোর দাম পড়বে প্রতিটি ৪৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতিটি ডাবল ডেকার বাস ক্রয়ে ব্যয় হবে ৭৯ লাখ ও এসি সিটি বাসের জন্য ৭৫ লাখ টাকা। এসব বাসের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর।

বর্তমানে ১৫০টি আন্তঃজেলা রুটে বাস পরিচালনা করছে বিআরটিসি। ৩৩ জেলায় চলছে ৪০৬টি বাস। ভারতের অশোক লেল্যান্ড ও টাটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ুর এসব বাসের বেশির ভাগেরই আসন প্লাস্টিকের। একটির সঙ্গে আরেকটি আসনের দূরত্বও অনেক কম। এ ধরনের বাস দূরপাল্লায় চলাচলের অনুপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘যেসব বাস দূরপাল্লায় চলাচল করে, সেগুলোয় অবশ্যই আরামদায়ক আসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি একটি আসনের সঙ্গে আরেকটির প্রয়োজনীয় দূরত্বও রাখতে হবে। তা না হলে ৫-৭ ঘণ্টা বা তার বেশি ভ্রমণ করা যাত্রীদের পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।’

বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিআরটিসির কর্মকর্তারাও। তারা বলছেন, আসনের বিষয়টি মাথায় রেখেই বাসগুলো কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দূরপাল্লায় যেসব বাস চলবে, সেগুলোয় ফোল্ডিং সুবিধাসংবলিত আরামদায়ক আসন রাখা হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সুবিধাও থাকবে এসব বাসে। এর বাইরে বিআরটিসির বাস ব্যবহারকারীদের জন্য ‘বিআরটিসি অ্যাপ’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অ্যাপটি ব্যবহার করে যাত্রীরা বাসের অবস্থান, নিকটস্থ বাস কাউন্টারসহ যাত্রীসেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন।

বিষয়টি সম্পর্কে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বাসগুলো কেনার দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান। যেখান থেকেই বাসগুলো কেনা হোক না কেন, স্বস্তিদায়ক আসনের বিষয়টি নিশ্চিত করেই কেনা হবে।

বিআরটিসির ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সংস্থাটির বহরে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৫৩৮টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫৭টিই অচল। অচল বাসগুলোর ৩০১টি মেরামতযোগ্য। বাকি ২৫৬টির মধ্যে ১৫০টি এরই মধ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আরো প্রায় ১০০টি অচল বাস নিলামে তোলার প্রক্রিয়া চলমান।

৩০১টি মেরামতযোগ্য বাসের মধ্যে ১০৪টি দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানির। বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, এসব বাস মেরামতের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ৪ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে দিচ্ছে।

অন্যদিকে সচল ৯৮১টি বাসের মধ্যে সরাসরি যাত্রীসেবায় ব্যবহূত হচ্ছে ৬৭৩টি। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা শহরের ৪৪ রুটে চলছে ২৬৭টি সিটি বাস এবং ১৫০টি আন্তঃজেলা রুটে ৪০৬টি দূরপাল্লার বাস। বাকিগুলোর মধ্যে সচিবালয়ের স্টাফ বাস হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে ১৩৭টি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৩৫, নারীদের বিশেষায়িত সেবা হিসেবে ১৮ ও দুটি স্কুল বাস। এর বাইরে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা ও ঢাকা-শিলং-গোহাটি রুটে আন্তর্জাতিক বাস পরিচালনা করছে বিআরটিসি।

এ সম্পর্কে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বিআরটিসি সাধারণ মানুষের পরিবহন। আমরা চাই, সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ বিআরটিসির বাসে ভ্রমণ করুক। এজন্য আমরা অত্যাধুনিক বাস কিনতে আগ্রহী নই।

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিআরটিসি গত কয়েক বছরে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। একদিকে রুটের সংখ্যা কমেছে, অন্যদিকে বহরে বেড়েছে অচল বাসের সংখ্যা। আমরা এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সামলিয়ে এগিয়ে যাওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জের। তবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে এগুলো কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।






Related News

Comments are Closed