Main Menu

ভোলায় নতুন দুই স্তরে গ্যাসঃ উত্তোলন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ডেইলি বিডি নিউজঃ ভোলার ভেদুরিয়া এলাকার নতুন অনুসন্ধান কূপের দুই স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এই গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন যোগ্য কিনা, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া গ্যাসপ্রাপ্তির নিশ্চয়তার পরীক্ষা ড্রিল স্টিম স্টেট (ডিএসটি) না করা পর্যন্ত গ্যাসের মজুদ ও অন্যান্য বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাপেক্স সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই গ্যাস পাওয়ার আশার কথা জানান। এর আগে ভোলার শাহবাজপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) গ্যাস পায়।

বাপেক্স জানায়, গত কয়েক দিন থেকেই ভেদুরিয়ায় গ্যাস কূপ খননের সময় গ্যাসের স্তর পাওয়ার লক্ষণ পাচ্ছিলেন প্রকৌশলীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাপেক্সের খনন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গত ৭ জানুয়ারি তিন হাজার ২৩৬ মিটার থেকে ৩ হাজার ২৪৫ মিটার গভীরতায় একটি নয় মিটারের গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়। এরপর গত ১০ জানুয়ারি কূপের তিন হাজার ২৬০ থেকে তিন হাজার ২৮৫ মিটার গভীরতায় ২৫ মিটারের আরেকটি গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়, কূপটি তিন হাজার ৪৫০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হবে। তবে ডিএসটি না করা পর্যন্ত গ্যাসের মজুদ ও অন্যান্য বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়।

এর আগে ২০০৯ সালের ১১ মে ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স। যা ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র নামে পরিচিত। নতুন এই কূপে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি ডিএসটি এর মাধ্যমে নিশ্চিত হলে গ্যাস ক্ষেত্রটির নাম হবে ভোলা উত্তর গ্যাস ক্ষেত্র। ভোলা পূর্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে ভোলা উত্তর গ্যাসক্ষেত্রটির দূরত্ব প্রায় ৩৭ কিলোমিটার। এটি হবে দেশের ২৭ তম গ্যাসক্ষেত্র। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২৬তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাপেক্স।

গত বছরের শেষ দিকে ভোলার শাহবাজপুরের একটি নতুন কূপে গ্যাস পায় বাপেক্স। গত ২৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার নিয়োমিত বৈঠকে একজন মন্ত্রী ভোলার নতুন কূপে গ্যাস পাওয়ার কথা জানান। তখন বাপেক্স এর পক্ষ থেকে এটিকে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও পরে এটিকে নতুন ক্ষেত্র নয় শাহবাজপুরের সম্প্রসারণ বলে উল্লেখ করা হয়। শাহবাজপুরের কূপে গ্যাস পাওয়ার পর জেলার ভেদুরিয়ায় নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু করে রাশিয়ান ঠিকাদার কোম্পানি গ্যাজপ্রম। গ্যাস ক্ষেত্রটির মালিক রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স।

বাপেক্স জানায়, ধারণা করা হচ্ছে, ভোলার শাহবাজপুর ক্ষেত্রে পৌনে এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) মজুদ রয়েছে। নতুন করে আরও ৬০০ বিসিএফ মজুদ থাকলে ভোলায় গ্যাসের মজুদ দাঁড়াবে এক দশমিক পাঁচ টিসিএফ।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম দেশের বাইরে রয়েছেন।এ বিষয়ে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কিছু বলতে রাজি হননি। পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জউল্লাহ’র (এনডিসি) সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ভোলায় নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার আশা করছেন তারা।

এদিকে এ বিষয়ে ভূ-তত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, ‘গ্যাস নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার জন্য গ্যাসের প্রবাহ ঘটানোর জন্য ডিএসটি পরীক্ষা এখনও করা হয়নি। তবে এর জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুই/এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ভোলার নতুন কূপে গ্যাসের অস্তিত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে অয়েল লগের চিহ্ন, অর্থাৎ কূপের ভেতর চালিত যন্ত্রে প্রাপ্ত রেখাচিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে। অধিকাংশ সময়ই এ ধরনের বিশ্লেষণ সঠিকভাবে গ্যাস-স্তর নির্ধারণ করতে পারে কিন্তু তা শতভাগ ক্ষেত্রে নয়। অতীতে বাপেক্সের কোনও কোনও কূপে অয়েল লগ বা রেখাচিত্রে গ্যাসের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তাতে ডিএসটি পরীক্ষায় গ্যাসপ্রবাহ ঘটাতে সক্ষম হয়নি।’

ভূ-বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা ধরে নেন যে, দুই/এক সপ্তাহের মধ্যে ভোলার কূপে পরিকল্পিত ডিএসটি বা গ্যাসপ্রবাহ পরীক্ষা সার্থক হবে। সে ক্ষেত্রে আগে ঘোষণা না দিয়ে নিশ্চিত হয়ে দিলেই ভালো হতো। ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, ডিএসটি পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ প্রমাণ করার আগে গ্যাসপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া অপেশাদার লক্ষণ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘ভোলার এই গ্যাসের স্তর নতুন গ্যাসক্ষেত্রের, নাকি পুরনো ক্ষেত্রেরই অংশ, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে আরও ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ না করে নতুন গ্যাসক্ষেত্র বলা মুশকিল।’ তিনি বলেন, ‘নতুন স্তরে গ্যাস পাওয়া অবশ্যই দেশের জন্য একটি বড় সংবাদ।কিন্তু এটি বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কিনা তাও নিশ্চিত করা দরকার। বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা না গেলে এই গ্যাস কোনও কাজে লাগবে না।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন






Related News

Comments are Closed