Mon. Apr 12th, 2021

উপ-কমিটি কেলেঙ্কারিঃ কাঠগড়ায় ওবায়দুল কাদের ও আবদুস সোবহান গোলাপ

ডেইলি বিডি নিউজঃ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। অভিযোগ উঠেছে, কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে এরা দুজন এই উপ-কমিটি চূড়ান্ত করেছিলেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেছেন, দলের সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ না করেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পরে তালিকায় দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরও করেন। গোলাপের স্বাক্ষর করা এই তালিকাই ফাঁস হয়ে যায়।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলের সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে এভাবে কমিটি চূড়ান্ত করা একটি অমার্জনীয় অপরাধ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কোনো উপ-কমিটি চূড়ান্ত করা হয়নি। একটি খসড়া করা হয়েছিল। এই খসড়াটাই কে বা কারা ফেসবুকে দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।’ তাঁর মতে, ‘সোশাল মিডিয়াতে যে উপ-কমিটির নাম জুড়ানো হয়েছে, সেটি অনুমোদিত নয়।’ কিন্তু খসড়া তালিকাতেও জামাত-বিএনপির সদস্য কেনো এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা দেখছি ব্যাপারটা।’

গত দুই বছর ধরেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে অভিযোগ উঠছে যে জামাত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগে ঢুকছে। তৃণমূল থেকে এও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ঘটনা ঘটছে। যারা জামাত-বিএনপিকে আওয়ামী লীগে ভেড়াচ্ছে তাঁদের তালিকায় দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব, একজন প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার পুত্রের নাম রয়েছে। কিন্তু এই ঘটনাগুলো ঘটেছে স্থানীয় পর্যায়ে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে জামাত-বিএনপির অনুপ্রবেশ রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা কর্মীদের।

ফেইসবুক হতে সংগৃহীত উপ-কমিটির কিছু চিত্র

একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা অভিযোগ করেছেন, কয়েকজনকে উপ-কমিটিতে দেওয়া হয়েছে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে। আর কিছু হয়েছে ব্যক্তিগত খাতিরে। আর্থিক লেনদেনে মধ্যস্থতাকারীরা অভিযুক্ত দুই নেতার ঘনিষ্ঠ।

শুধু এই ঘটনা নয়, বিভিন্ন এলাকার সাংগঠনিক ব্যাপারে ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। একাধিক এলাকায় দলের সাধারণ সম্পাদকই বিভক্তি উসকে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে কয়েকজন নেতা গাজীপুরের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এখানে মেয়র পদে ওবায়দুল কাদের একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সমর্থন দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, ‘এক সময় আওয়ামী লীগে আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ এবং আমির হোসেন আমুর আলাদা আলাদা বলয় ছিল। ওই বলয়ের কারণে আওয়ামী লীগের বিভক্তিও ছিল প্রবল। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে ওই বলয় ভেঙে গেছে। কিন্তু ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর আবার ‘নিজের লোক খোঁজা শুরু করেছেন।’ ওই নেতা বলেন, ‘কাদের পরীক্ষিত কর্মীদের চেয়ে চাটুকারদেরই বেশি পছন্দ করেন। ফলে পরীক্ষিত লোকজন তাঁর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।’

তবে উপকমিটি বিতর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ হয়েছে। দলের তরুণ নেতারা বলছেন, কাদের ভাইকে বুঝতে হবে, শেখ হাসিনাই আওয়ামী লীগের একমাত্র নেতা। এখন কাঠগড়ায় তাই ওবায়দুল কাদের আর আবদুস সোবহান গোলাপ।