Main Menu

প্রধানমন্ত্রীর নাম বিকৃত করলেন মাহি সেলিম!

ফারহানা হেনাঃ বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে আসছেন আগামী ৩০শে জানুয়ারী। তাই সাজ সাজ রব হাওয়া বইছে সিলেট নগরীতে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্লোগানে বাজছে মাইকের হরণ। বিরামহীন ভাবে মাঠে কাজ করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা, জেলা আর মহানগরের নেতাদেরতো এক কথায় ঘুম হারাম হয়ে আছে কয়েক দিন থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পুরো সিলেট শহর ছেয়ে গেছে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে।

দৃস্টিনন্দন ও বাহারি বিভিন্ন সাইজের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে সিলেটে যেন লেগেছে উৎসবের আমেজ। তবে এত কিছুর মাঝেও শত শত আওয়ামী সমর্থক ও দেশবাসীর মনে আঘাত দেয়ার মত কাজ করে সিলেটে তুমুল আলোচলা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছেন মাহি উদ্দিন সেলিম। দেশের হাজারো মানুষের কাছে “শেখ হাসিনা” একটি অনুভূতির নাম, সেখানে সেই নামকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন মাহি উদ্দিন সেলিম। নিজেকে আওয়ামী সমর্থক বলে দাবীদার মাহি উদ্দিন সেলিম প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমনকে স্বাগত জানিয়ে সিলেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বেশ কয়েকটি ব্যানার স্থাপন করেছেন, তার মধ্যে একটিতেও নেই স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্লোগান, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্লোগান। আর এই ব্যানারে সব চাইতে দৃষ্টিকটু বিষয়টি হচ্ছে এই ব্যানারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম লিখা হয়েছে শেখ হাসিনার

জানা যায়, সিলেট ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি, জেলা ক্রীড়ার সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য মাহি উদ্দিন সেলিম সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। পেশায় ব্যবসায়ী মাহি উদ্দিন সেলিমের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে।

সিলেটের বিভিন্ন স্থরের জনগন বান্যারে বিকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রীর নাম উপস্থাপন করার তীব্র সমালোচনা করেন, এবং অনেকেই ফেইসবুকে মাহি উদ্দিন সেলিমের সমালোচিত ব্যানারের ছবি আপলোড করে লিখেছেন- কাউয়া সেলিমের কান্ড নামে। অনেকে আবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় মাহি উদ্দিন সেলিমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও চলছে তুমুল সমালোচনা। খালেদ আহমদ সুমন নামের একজন লিখেছেনঃ  এই সেই কাউয়া সেলিম যে নিজেকে এখন আওয়ামীলীগার দাবি করে অথচ তৃনমুলের কোন নেতাকর্মী তাকে মেনে নিতে পারেনি কারন সে একজন সুবিদাভোগী যার প্রমান এই বিলবোর্ড গুলো যেখানে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু লিখতে লজ্জা পায়, তাদেরকে প্রতিহত করার এখনি সময়।

সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম ইস্তেজা চৌধুরী ফেইসবুকে লিখেছেনঃ এই লোক সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার মনোয়ন প্রত্যাশী! তিনি ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের কারো কারো আশীর্বাদে বাফুফের সদস্য হয়েছেন, একই সাথে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতিও তিনি। সবই হয়েছেন আওয়ামী লীগের শুভাশীষে! অথচ আমার ২২/২৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কম্মিনকালেও শুনিনি, দেখিনি তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক বা শুভানুধ্যায়ী ছিলেন। হয়তো তিনি ১৯৪৯ থেকেই আওয়ামী লীগ। এখন ভদ্রলোকের শখ মেয়র হবেন আর তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর উপলক্ষ্যে নগর জুড়ে তার প্রমান সাইজের সব বিলবোর্ড। তবে সেই বিলবোর্ড গুলোতে বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর ছবি থাকলেও নেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান। বিলবোর্ডে আরও একটি গুরুতর ভুল আছে। ভুলটা হলো নেত্রীর নামের বানানে।

কে.সি আকাশ নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, সিলেটের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, আগামির নগরপিতা হওয়ার প্রার্থী জনাব সেলিম সাহেব নব্য লীগার। ব্যানারে জয় বাংলা আর জয় বঙ্গবন্ধু লিখতে উনার মনে নাই। এইসব হাইব্রীড ও এইসব হাইব্রীডের শেল্টারদাতা আওয়ামিলীগ নামক ছুপা জামাতি বিএনপি দের দলে রাখলে ভবিষ্যতে ঠেলা সামলাবে কেডা? সেলিম সাহেবের ফুটবলে ভালো অবদান আছে। তবে রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসার ইচ্ছা কেন জাগলো? দলের ভেতর উনার এজেন্ট দের চিহ্নিত করা হোক।

নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে সিলেটের এক প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, বানের পানির মত ভেসে আসা এমন ব্যাক্তিদের হীন কর্মকাণ্ডে বদনাম হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। অতি সত্ত্বর এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামি নির্বাচনে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি তৃতীয় সফর। যদিও প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে বেশ কয়েকবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে দলীয় নেতাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন। এর ঠিক ১১ মাস পর একই বছরের নভেম্বর মাসে তিনি একই স্থানে ভাষণ দেন। তবে আগের দুইবারের সফরের চেয়ে এবারের সফর ঘিরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রতিদিনই জনসভা সফলের লক্ষ্যে চলছে সভা-সমাবেশ।

 






Related News

Comments are Closed