Sun. Apr 11th, 2021

সহ-সম্পাদক পদ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ত্যাগী নেতাদের

ডেইলি বিডি নিউজঃ আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে সহ-সম্পাদক পদ নিয়ে গত কয়েকদিনে যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে তিক্ত-বিরক্ত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। নেতারা বলছেন, নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে লোক হাসানো হচ্ছে। তা ছাড়া এসব ঘটনা দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট করছে। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করছে এ সব ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহ-সম্পাদক নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে কেন্দ্রীয় অনেক নেতা দলীয় কার্যালয়ে আসছেন না।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, যারা ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী নেতা তাদেরকেই সহ-সম্পাদক হিসেবে আনা উচিৎ। এ বিষয়ে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়া উচিৎ। এ ছাড়া যারা অতি উৎসাহিত হয়ে খসড়ায় থাকা নাম তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন তারাও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খসড়ায় যাদের নাম নেই তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন ত্যাগী নেতা। ছাত্রলীগ করা অবস্থায় তারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আবার এটাও সত্য যে কিছু সুযোগ সন্ধানী দলের বড় নেতার আশীর্বাদপুষ্ট কেউ কেউ খসড়ায় স্থান পেয়েছেন।

ত্যাগী ছাত্রলীগ নেতা যাদের খসড়ায় নাম আসেনি তাদেরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘হাইব্রিড, ফার্মের মুরগি, কাউয়াদের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই ‘হাইব্রিড, ফার্মের মুরগি, কাউয়ারা’ খসড়া তালিকায় স্থান পেয়েছে। এটা আমরা কখনও আশা করিনি।

খসড়া তালিকায় নাম না থাকা ছাত্রলীগের অনেকে অভিযোগ করেন, সহ-সম্পাদক হিসেবে খসড়া তালিকায় স্থান হয়েছে জিয়াউল আবেদীন নামে একজনের। উনি এক সময় ছাত্রদল করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে কৃষি ও সমবায় উপকমিটির এক সহ-সম্পাদকের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে তিনি খসড়া তালিকায় নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা কমিটিতে যারা নেতা হন তারা সাধারণত উপকমিটিতে স্থান পান না। কিন্তু এবারের খসড়ায় তার ব্যত্যয় ঘটেছে। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না পিরোজপুর, ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দী যশোর ও মনিকগঞ্জ জেলা কমিটির নেতা ফাহিম হোসেন।

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এইচ এম মিজানুর রহমান জনিকে। তিনি এক সময় ছাত্রদল করতেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। তার বাবা আব্দুল হক বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ মিশনবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলে জানান তারা। দফতর উপকমিটির সহ-সম্পাদক এ কে এম কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি।

উপকমিটির খসড়ায় থাকা অপর সহ-সম্পাদক ফয়সল আহমেদ রিয়াদের বিরুদ্ধেও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এই রিয়াদ এক সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শফিকুল বাবু ও রেজাউল করিম সুইটের বিরুদ্ধেও ছাত্রদল সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে তালিকায় আছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী এস ডি রুবেলের নাম। তিনি বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদকও ছিলেন।

বছরের অর্ধেক সময় যারা বিদেশে থাকেন, দলীয় কার্যালয়ে কোনো খোঁজ-খবর রাখেননি তাদের স্থান হয়েছে খসড়ায়। ফারুক আহম্মদ যাকে বলা হয় জাপানি ফারুক তিনিও তালিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খসড়ায় থাকা জহির নামের একজন ইতালি প্রবাসীও সহ-সম্পাদক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে নাম আসে কামিল হোসেন ঢালীর। তার একমাত্র যোগ্যতা তিনি আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপের ঘনিষ্ঠজন। রাসেল নামের একজন সহ-সম্পাদক হয়েছেন, যিনি আওয়ামী লীগের এক উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও মন্ত্রীর বাসার কাজের লোক।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সহ-সম্পাদক এস এম সাইফুল্লাহ আল মামুন, এ উপকমিটির চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের খুব ঘনিষ্ঠ। এর জোরেই তিনি এ পদে আসীন হয়েছেন। শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে তালিকায় থাকা আবিদুর রহমান লিটু রাজনীতিতে অপরিচিত বলে অভিযোগ ছাত্র লীগ নেতাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, এখানে সহ-সম্পাদক বিষয় নয়, বিষয়টা হলো সাব-কমিটি। ১৯ ডিপার্টমেন্টের সাব-কমিটি হবে, আগে দুই-একটা বিভাগ ছাড়া সাব-কমিটি ছিল না।

তিনি বলেন, যাদের উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত হয়নি, সেই সম্পাদকদের কাছে অফিস সেক্রেটারির স্বাক্ষরে খসড়া কমিটি পাঠানো হয়েছিল। এটা প্রস্তাবিত বিষয়, এটা করতে গিয়ে সেটা চলে গেছে ফেসবুকে এবং ফেসবুকে যাওয়াতে বিভ্রান্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিটি চূড়ান্ত হলে সভাপতি তাতে সায় দিলে তারপর সেখানে তার (সাধারণ সম্পাদক) সই নেয়া হবে। সেই কমিটির আদেশ তখন সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, উপকমিটির সহ-সম্পাদক পদে সাধারণত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হয়। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের দিয়ে উপকমিটি গঠন করা উচিত। এতে তাদের মূল্যায়ন করা হয় এবং দলের কাজে লাগানো যায়।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, যারা ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতা তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। আরও যাচাই-বাছাই হবে।