|
এই সংবাদটি পড়েছেন 193 জন

অস্তিত্ব সংকটে বাঘ

ডেইলি বিডি নিউজঃ কমতে কমতে বাঘের সংখ্যা এতই হ্রাস পেয়েছে যে বাঘকে দেখার জন্য খোদ বাঘের রাজ্য সুন্দরবনে গেলেও অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পৃথিবীতে প্রত্যেক প্রাণীর টিকে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যচক্রের হিসাবে এক প্রাণী অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রাণী আজ হুমকির মুখে। যুগে যুগে বহু প্রজাতির প্রাণী পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে।

যার শুরু সেই ডাইনোসর থেকে। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে না পেরে সেসব প্রাণী আজ বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেয়েছে। এখন যেসব প্রাণী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে তার অন্যতম বাঘ। আবাসস্থলের অভাব আর শিকারিদের দৌরাত্ম্যে বাঘ আজ বিলুপ্তির পথে।

২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। সারা বিশ্বেই বাঘ এখন মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবাগ শহরে সর্বপ্রথম বিশ্ব বাঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে থেকেই এই প্রাণীটির অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন প্রকৃতিবিদরা।

সম্মেলনের পর থেকে বিষয়টি আরও সামনে চলে আসে। বাঘ বাঁচাতে হবে এরকম একটা চিন্তাভাবনা গড়ে ওঠে সবার মধ্যে। সেন্ট পিটার্সবার্গ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে লক্ষ্যে কয়েকটি সংগঠন প্রচার-প্রচারণা চালিয়েও যাচ্ছে।

বাঘ টিকে আছে এমন দেশের সংখ্যা ১৩। দেশগুলো হল বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও রাশিয়া। বাঘের বর্তমানে পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে।

এগুলো হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সাইবেরিয়ান টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার ও ইন্দো চায়না টাইগার। বাঘের এই পাঁচটি প্রজাতিই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

১৯৮৭ সালে জাতিসংঘ অতিবিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বাঘ বা বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা নিষিদ্ধ করেছে। যদিও শিকারিদের তৎপরতা থেমে নেই।

আজ থেকে শত বছর আগে অর্থাৎ ১৯০০ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল এক লাখ। অর্থাৎ একশ’ বছরেই বাঘ নামক প্রাণীটি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। অনেক প্রাণীর মতো বাঘও একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

যে ১৩টি দেশে আজও বাঘ টিকে আছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। কিছুদিন আগেও পত্রপত্রিকায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা তিনশ’ থেকে পাঁচশ’র মধ্যে বলে জানা গেছে। তবে তা কমে আসছে। এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ।

বনে রয়েছে একটি খাদ্যশৃঙ্খল। প্রাকৃতিকভাবে এই শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু পরিবেশ বিপর্যয় বা মানবসৃষ্ট কারণে এই শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে বাঘের আবাসস্থল, দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট এবং চলছে বাঘ নিধন। তাই প্রতিনিয়তই কমছে বাঘের সংখ্যা। বাঘ বাঁচাতে, বাঘের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

বিংশ শতাব্দীতে তিন প্রজাতির বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাকি যে পাঁচ প্রজাতি রয়েছে তা আমরা কোনোক্রমেই বিলুপ্ত হতে দিতে পারি না। কারণ প্রকৃতি থেকে একটি প্রাণী হারিয়ে যাওয়া মানে প্রকৃতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়া।

আর প্রকৃতির সঙ্গে সাময়িক লড়াই করার ক্ষমতা মানুষের থাকলেও স্থায়ীভাবে সে সমস্যার মোকাবেলা মানুষ করতে পারে না। তাই পরিবেশ শৃঙ্খলা রক্ষা করা আবশ্যক। আসুন সবাই বাঘ রক্ষায় সোচ্চার হই।

অলোক আচার্য্য : প্রাবন্ধিক, পাবনা