|
এই সংবাদটি পড়েছেন 12,562 জন

সোহাগ দিয়েই ছোটদেরকে বশ করতে হয়, শাসন করে নয়!

রাহাত তরফদারঃ উদ্ভূত পরিস্তিতিতে নিজের অবস্থান একেবারে ‘জুতা ও আমার, গাল ও আমার’ টাইপের । একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে আন্দোলনরত কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ভাইবোনদের আবেগ অনুভূতি ও প্রতিবাদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে । আমরা যা করতে পারিনি তোমরা তাই করে দেখিয়েছ চোখে আঙ্গুল দিয়ে । সবদিক থেকে তোমরা পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে তা দিবালোকের মতো প্রমাণিত হয়েছে আবারো ! তোমাদের বিচক্ষণ ও তীক্ষ্ন নেতৃত্ব প্রশংসনীয় । আন্দোলন ও প্রতিবাদে তোমাদের দক্ষতা যোগ্যতা ও পারদর্শীতার ছাপ স্পষ্ট । তোমাদের চটপটে-কর্মপটু কিন্তু পারিপাটি স্বভাব সত্যিই মুগ্ধ করার মতোই । আমরা তোমাদের এই আন্দোলনকে ‘আলংকারিক’ অর্থেই বিবেচনা করি । জাতি হিসাবে আমরা বাহবা দিতে কার্পণ্য করলে ও পরচর্চায় আমরা সিদ্ধহস্ত তাই আমরা অনেক সময় সাদাকে সাদা কালো বলতে কুন্ঠা বোধ করি । তাই অনেকে তোমাদের আন্দোলনকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যা আমাকে মর্মাহত করেছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সবাই যখন ঘরে ফিরতে শুরু করেছিল তখন কার স্বার্থে ছাঁইচাঁপা আগুনে ঘি ঢালা হলো ? জিগাতলা ও ধানমন্ডি নিয়ে যে গুজব সৃষ্টি করা হলো , গুপ্তহত্যা ধর্ষণ কিংবা চোখ উপড়ে ফেলার মতো ক্ষমার অযোগ্য অভিযোগে ছাত্রলীগকে অভিযুক্ত করা হলো ! সত্যিই ব্যথিত হয়েছি একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে । কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি । বিচ্ছিন্ন দু একটি ঘটনার বিচার আমি ও চাই । আমরা যে সত্যিই গুজবপ্রিয় এক জাতি তা আবার ও প্রমাণিত হলো।

শ্রমিকরা ও এমনভাবে বাড়াবাড়ি করছে যেন লাইসেন্স ও পারমিট বিহীন যানবাহন চালানো তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে । যেন গাড়িতে উঠে দেদারছে মানুষ মারার লাইসেন্স চায় তারা । তাদের ধর্মঘটের সুযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে চেয়ছিল আন্দোলকারীদের মধ্যে মিশে যাওয়া স্বার্থান্বেষী সুযোগসন্ধানী একটি চক্র । তারাই গুজব রটিয়েছে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে রেপ করা হয়েছে ছাত্রীদের , আটকে রাখা হয়েছে ছাত্রদের । গুজব রটনাকারীরাই সফল অনেকাংশে , অভিনেত্রী তো অভিনয়ে পারদর্শী হবে স্বাভাবিক । কিন্তু জাতির ভবিষ্যত নিয়ে ভয়ংকর খেলার পরিণাম কি হতে পারতো গতকাল তা কিছু হলে ও আঁচ করা সম্ভব হয়েছে । সরকার বা দল যদি পুলিশ ও ছাত্রলীগকে প্রজন্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করায় তবে অবশ্যই এর মাশুল দিতে হবে সুদে আসলে । জাতীয় স্বার্থ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সামনে রেখে আমাদের সকলকে রাষ্ট্র, সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ততা ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে । সজাগ থাকতে হবে যাতে চোর ধরতে গিয়ে ডাকাত পালিয়ে যেতে না পারে সেদিকে । একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে ছাত্রলীগ বা পুলিশকে অতি উৎসাহী ভূমিকায় দেখতে চাই না।

যদি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নমনীয়তা ও সহিষ্ণুতা সব মহলে প্রশংসিত হলে ও কেউ কেউ এটাকে দূর্বলতা বিবেচনা করে আন্দোলনকারী ভাইবোনদের বিভিন্ন ভাবে উসকে দিতে তৎপর । বিবেকবান মানুষ হিসাবে আমাদের প্রত্যেককেই ‘সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ার’ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । ছাত্রদের নিয়ে শিক্ষক অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ছাত্রদের সাথে সরকার বা রাষ্ট্রের টানাপোড়েন কমিয়ে নিয়ে আসতে । লাঠি দেখিয়ে যেমন সাপকে বশ করতে হয় তেমনি সোহাগ দিয়েই ছোটদেরকে বশ করতে হয়, শাসন করে নয় !

লেখক পরিচিতিঃ সাবেক সভাপতি, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ