|
এই সংবাদটি পড়েছেন 779 জন

সিলেটের শ্রীরামপুরে স্থাপিত হচ্ছে শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

নাঈম চৌধুরীঃ সিলেটে শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপিত হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ১১০ কোটি টাকা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষিণ সুরমার কুচাই এলাকার শ্রীরামপুরে স্থাপিত হচ্ছে এই কলেজ। এ লক্ষ্যে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ আগস্ট মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ স্থাপন নামে একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ওই কলেজটি ‘শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট’ করতে প্রস্তাব করেন। তার এ প্রস্তাব সভায় গৃহিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ প্রস্তাবে সায় দেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ১১০ কোটি টাকা। একনেকে পাশের পরই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হোন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘাতকদের হাত থেকে তাঁর শিশুপুত্র শেখ রাসেলও রেহাই পাননি।

সিলেটের জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে সিলেটের জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই এলাকার  শ্রীরামপুরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের জন্য ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, ১০ একর ভূমির মধ্যে টেক্সটাইল কলেজের জন্য ৫ একর এবং টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের জন্যে ৫ একর অধিগ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে আরো ভূমি অধিগ্রহণ করা হতে পারে এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই উপযুক্ত স্থানেই স্থাপন করা হবে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র আরো জানায়, শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন স্থাপনকল্পে সরকারী কতৃপক্ষ কতৃক ইতিমধ্যে টেন্ডার ও আহবান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বস্ত্র শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট রয়েছে। বস্ত্র পরিদফতরের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২০২১ সাল নাগাদ বি.এস.সি পাশ বস্ত্র প্রকৌশলীর চাহিদা থাকবে ২৫ হাজার ৩০৩ জনের। কিন্তু সরবরাহ থাকবে ১৭ হাজার ৫০০ জনের। সরবরাহের পরও আরো ৭ হাজার ৮০৩ জন প্রকৌশলীর প্রয়োজন। শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-সিলেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি বছর অন্ততঃ ১২০ জন বি.এস.সি ডিগ্রিধারী বস্ত্র প্রকৌশলী তৈরি করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সিলেটে কলেজটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন ।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চল শিল্পখাতের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাময়। কিন্তু দক্ষ বিনিয়োগকারী ও পরিকল্পনার অভাবে শিল্পখাতের তেমন বিকাশ হচ্ছে না। এই কলেজটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে টেক্সটাইল শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এজন্যে কলেজটিতে বিশ্বমানের সিলেবাস ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে পরিচালনার জন্য তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টরা।

যোগাযোগ করা হলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশনাল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি নামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যাতে টেক্সটাইল বিষয়ে পড়ালেখা করা হয়। দেরিতে হলেও সিলেটে এরকম আরেকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। এর ফলে সিলেটসহ দেশে মানসম্মত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবে। দেশে টেক্সটাইল খাত ডেভোলাপ হলেও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের অভাব কিন্তু আছে। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দিয়ে যেন কলেজটি পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বলেন, শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের জন্যে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই এলাকার শ্রীরামপুরে ভূমি অধিগ্রহণ করার কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আরো কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। সকল প্রক্রিয়া শেষেই ভূমি অধিগ্রহণ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়া দেয়া হবে। এরপরই অবকাঠামোগত কার্যক্রম শুরু করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

লেখক পরিচিতিঃ নির্বাহী সম্পাদক, ডেইলি বিডি নিউজ ডট নেট।