Wed. Jan 29th, 2020

২০০ আর্টিকুলেটেড বাস কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করল বিআরটিসি

ডেইলি বিডি নিউজঃ ২০১২ সালে ৫০টি আর্টিকুলেটেড (দুই বগির জোড়া লাগানো) বাস কেনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। তবে বৃহৎ আকৃতির কারণে এগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সংস্থাটি। ট্রিপ কম হওয়ায় এসব বাস থেকে আয়ও হচ্ছে অনেক কম। অথচ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রচুর অর্থ। বেশ কয়েকটি বাস এরই মধ্যে বিকলও হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে ২০০ আর্টিকুলেটেড বাস কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে বিআরটিসি।

ভারতের রাষ্ট্রীয় ঋণে (এলওসি) ৩০০ দ্বিতল ও ২০০ আর্টিকুলেটেড বাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) সই হয়। তবে এখন আর আর্টিকুলেটেড বাস কেনার পক্ষে নয় বিআরটিসি। এর পরিবর্তে ২০০টি এসি ও ১০০টি নন-এসি একতলা সাধারণ বাস কেনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি)। সেখান থেকে প্রস্তাবটি যাবে ভারতের কাছে। দেশটির অনুমোদনের পর ৩০০ দ্বিতল, ২০০ একতলা এসি ও ১০০ একতলা নন-এসি বাস কেনার প্রকল্পটি চূড়ান্ত হবে।

জানা গেছে, ৩০০ দ্বিতল বাস কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০০ এসি বাসের মধ্যে ১০০টি দূরপাল্লার ও ১০০টি ঢাকা শহরের জন্য। এগুলো কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১০৫ ও ১০৩ কোটি টাকা। আর নন-এসি ১০০ বাস কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভারতের কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা। বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, বাসগুলো কেনার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে ঋণ নিশ্চিত হওয়া গেলে প্রকল্পটি অনুমোদনে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। তবে আর্টিকুলেটেড বাস আর কেনা হচ্ছে না— এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

বিআরটিসির তথ্যমতে, তিন বছর আগে কেনা ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাসের মধ্যে ১৪টি বিকল হয়ে পড়ে আছে গাজীপুর ডিপোয়। যদিও বাসগুলোর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১৫ বছর। বিকল বাসগুলোর মধ্যে ১০টি হালকা ও দুটি ভারি মেরামত করা প্রয়োজন। বাকি দুটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে বাসগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে প্রতিটি আর্টিকুলেটেড বাস কেনায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এত দামি বাস বিআরটিসির বহরে আর নেই। ওই অর্থে দ্বিগুণ অন্য বাস কেনা সম্ভব।  অথচ বাসগুলো থেকে আশানুরূপ সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ৫৪ ফুট দীর্ঘ এ বাসগুলো বিভিন্ন মোড়ে টার্ন নিতে সমস্যা হয়। এছাড়া যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য সড়কে লেন পরিবর্তনেও বেশ জটিলতা হয়। এতে মতিঝিল থেকে গাজীপুর পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ দুটি ট্রিপ দেয়া সম্ভব হয়।

ট্রিপ কম হওয়ার কারণে ছয় মাসে (মে-অক্টোবর) আর্টিকুলেটেড বাসগুলো পরিচালনায় ৪১ লাখ টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এ সময় বাসগুলো পরিচালনা থেকে আয় হয় ২ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর ব্যয় ২ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে বাসগুলো পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়। সে মাসে ব্যয় হয় ৬৪ লাখ টাকা ও আয় ২৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে বিআরটিসির পরিচালক (কারিগরি) ও প্রকল্প পরিচালক কর্নেল এআর মোহাম্মদ পারভেজ মজুমদার বলেন, পুরনো আর্টিকুলেটেড বাসগুলো নিয়ে নানা সমস্যা হচ্ছে। দৈর্ঘ্যের কারণে মতিঝিল-গাজীপুর ও মতিঝিল-ক্যান্টনমেন্ট রুট ছাড়া অন্য কোথাও বাসগুলো পরিচালনা সম্ভব নয়। এছাড়া বাসগুলোর মেরামত ব্যয়ও অনেক বেশি। সব বিষয় বিবেচনা করে নতুন ২০০ আর্টিকুলেটেড বাস কেনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ঢাকা শহরের জন্য ১০০ এসি ও ১০০ নন-এসি এবং দূরপাল্লার জন্য ১০০ এসি বাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় না বাড়লেও অধিক যাত্রীসেবা দেয়া সম্ভব।