|
এই সংবাদটি পড়েছেন 25 জন

চাহিদা বেড়েছে অগ্নিনির্বাপক পণ্যের, হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনির্বাপক পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বহুতল ভবনসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। হঠাৎ এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে দামও। তবে চাহিদা অনুপাতে মজুদ না থাকায় পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপক পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের। ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ফায়ার এক্সটিংগুইশার বেশি কিনছে। এছাড়া বহুতল ভবন ও কারখানার জন্য ফায়ার ফাইটিংয়ের বিভিন্ন সল্যুশনের চাহিদাও বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় স্টক কম থাকায় পণ্য বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। চাহিদা বাড়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

জানা গেছে, সিওটু ফায়ার এক্সটিংগুইশারের দাম এখন প্রায় ৪ হাজার টাকা, যা আগে ২৫শ’ টাকায় পাওয়া যেতো। অন্যদিকে, ড্রাই ক্যামিকেল পাউডার এক্সটিংগুইশার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়, যা আগে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যেতো। চাহিদা বাড়ায় অগ্নিনির্বাপক পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনলাইন স্টোরগুলোতেও দেখা যাচ্ছে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন।

বেঙ্গল টেকনোলজি করপোরেশন লিমিটেডের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার রাকেশ বিশ্বাস বলেন, ‘আগুন নির্বাপণের জন্য মানুষের অবহেলা ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের আগুনের ঘটনায় অনেকেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে মতিঝিল, বনানী, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকার অফিস থেকে এসব পণ্যের অর্ডার আসছে। অগ্নিনির্বাপণের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে; ভবনের  উচ্চতা, আয়তন,  ডিটেকশন ও প্রটেকশনের সিক্টেমের ওপর দাম নির্ভর করে। চাহিদা বাড়ার কারণে দামও বেড়েছে। ডিটেকশন সিস্টেম ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রটেকশনের জন্য এক্সটিংগুইশারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’

প্রায় ১৩ বছর ধরে ফায়ার ইক্যুইপমেন্ট বিক্রি করছে গৌমতি ফায়ার টেকনোলজি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার সেলিম আহমেদ বলেন, ‘গত ১০ বছরে এত চাহিদা দেখিনি। আমাদের কাছে প্রতিদিন অসংখ্য ফোন আসছে বিভিন্ন প্রোডাক্টের জন্য। কিন্তু স্টক না থাকায় ৮০ ভাগ লোকজনকে প্রোডাক্ট দিতে পারছি না। আমরা প্রায় দেড় বছর আগে ৪ হাজার পিস ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল এনেছিলাম। দেড় বছর অল্প কিছু বিক্রি হয়েছিল। অথচ গত কয়েকদিনে বাকি সব বল বিক্রি হয়ে গেছে।’

সেলিম আহমেদ আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি চাহিদা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের। দুই ধরনের ফায়ার এক্সটিংগুইশার পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে- সিওটু এক্সটিংগুইশার, আরেকটি ড্রাই ক্যামিকেল পাউডার এক্সটিংগুইশার। অফিস ও বাসার জন্য নিয়ে এগুলো নিচ্ছেন ক্রেতারা।’

তিনি বলেন, ‘চাহিদা যতো বেড়েছে, সেই অনুপাতে স্টকে মালামাল নেই, এই কারণে দামও বেড়েছে।  এছাড়া এসব পণ্য স্থাপনের জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন। আমাদের প্রতিষ্ঠানে দুজন এক্সপার্ট  ইঞ্জিনিয়ার আছেন; তারাও হিমশিম খাচ্ছেন।’

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল আগুনের স্পর্শ পাওয়ার ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই যেকোনও ধরনের আগুন নেভাতে সক্ষম।

এই প্রসঙ্গে রাইট চয়েজের জেনারেল ম্যানেজার মো. পলাশ বলেন, ‘উন্নত দেশে আগুন নেভাতে এই প্রযুক্তি আরও আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি কেনার জন্য ক্রেতাদের মধ্যে প্রচুর সাড়া পড়েছে। প্রতিটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল ১২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড সময়ে নিজ থেকে বিস্ফোরিত হবে। একটি বলের মেয়াদ ৫ বছর।’

সব ভবনেই আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা জরুরিঃ শুধু বহুতল ভবন নয়, সব ভবনেই আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, নগরবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তার জন্যই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসাব) সভাপতি মোতাহার হোসেন খান বলেন, ‘বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটনায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। তবে একটি বিষয় জরুরি, শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিনলেই সমাধান হবে না। কোথায় কী ধরনের ব্যবস্থা দরকার, ব্যবহার পদ্ধতিও জানার প্রয়োজন রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে  ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘বহুতল ভবন হলেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের অনুমোদন নিতে হয়। এক্ষেত্রে আমরা ছয়তলা ভবনগুলোকে বলি বহুতল ভবন। ছোট ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা জরুরি। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোড রয়েছে। কতটুকু জায়গায় কয়তলা ভবন হবে, ফায়ার সিকিউরিটি কী হবে–এসবই বলা আছে ভবন নির্মাণ নীতিমালায়। ভবন নির্মাণের নীতিমালায় সব বলে দিয়েছে সরকার।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত ও ৭১ জন আহত হন। এর একদিন পরই ৩০ মার্চ গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। ১ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরা ও গাউছিয়া মার্কেটেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।