|
এই সংবাদটি পড়েছেন 95 জন

বিশ্বনাথে মাদ্রাসার ভূমি বেদখল : দু’পক্ষের বিরোধ : ১৪৪ ধারা জারি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতিষ্ঠিত ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত বিশ্বনাথের দারুল আরকাম উদয়পুর ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় দানকৃত ভূমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে ঘটেছে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও, রয়েছে পাল্টা-পাল্টি মামলা। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা। যেকোন সময় অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে এমনটাই আশংকা করছেন এলাকাবাসী। মাদ্রাসার বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধারে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বিরোধপূর্ণ জায়গায় আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামা খুন জখম হওয়ার আশংকা থাকায় আদালত কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারির ভিত্তিতে গত ১৪ মে উভয় পক্ষের নিকট নোটিশ জারি করেন বিশ্বনাথ থানার এস আই দেবাশীষ শর্ম্মা।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে ১৯৯০ সালে ‘উদয়পুর ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র তত্ত¡াবধানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিক মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় দারুল আরকাম নামে যে ১০১০টি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয় তার মধ্যে সর্ব প্রথম উদয়পুর ইবতেদায়ী মাদ্রাসাটি দারুল আরকাম উদয়পুর ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নামে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে যাত্রা শুরু করে।
১৯৯০ সালে উদয়পুর গ্রামের হাজী তোতা মিয়া ১২ শতক ভূমি মাদ্রাসার নামে দান করলে দানকৃত ভূমির একাশেং প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘উদয়পুর ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’। বর্তমান বিএস জরীপে দানকৃত ভূমির মধ্যে ৬শতক ভূমি মাদ্রাসার নামে রেকর্ড হয় এবং অবশিষ্ট জায়গা ভূলবশত ভূমিদাতার নামে রেকর্ড রয়ে যায়। পরবর্তীতে হাজী তোতা মিয়ার মৃত্যুর পর ২০১৮ সালে তার উত্তরাধীকারীগণ সংশোধনী দলীল সম্পাদনের মাধ্যমে পুরনরায় ভূমি মাদ্রাসায় দান করেন। মাদ্রাসাটি দারুল আরকাম নামে প্রতিষ্ঠার পর সরকারের নিয়মানুযায়ী মাদ্রাসার সকল ভূমি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামে দিতে গিয়ে দলীল অনুযায়ী মাদ্রাসার ভূমির সীমানা চিহিৃত করতে গিয়ে দেখা যায় উদয়পুর গ্রামের মৃত জহুর আলীর পুত্র জোনাব আলী ও তার ভাতিজা চেরাগ আলীর দখলে মাদ্রাসার প্রায় ৬শতক ভূমি রয়েছে। ফলে দখলকৃত ভূমিতে জানাব আলী কর্তৃক অবৈধভাবে নির্মানাধীন দোকান ঘরটি সরিয়ে নিতে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জোনাব আলীকে আহবান করা হয়। কিন্ত জোনাব আলী উক্ত জায়গাটি হাজী তোতা মিয়ার কাছ থেকে তার ক্রয়কৃত দাবি করে দোকান ঘর সরিয়ে নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এনিয়ে গ্রামবাসী এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয় জোনাব আলী ও তার পক্ষের লোকজনদের। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটে। দায়ের করা হয় পাল্টা পাল্টি মামলা। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও থানা প্রসাশনের পক্ষ থেকে নিস্পত্তির চেষ্ঠা করেও ব্যার্থ হন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়াগমহল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আব্দুস শুকুর সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপের মাধ্যমে মাদ্রাসার দানকৃত ভূমির সীমানা চিহিৃত করে দানকৃত ভূমির চৌহাদ্দা মোতাবেক জোনাব আলী কর্তৃক মাদ্রাসার বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু এখনও বিরোধপূর্ণ ভূমির সীমানা চিহিৃতকরণ ও মাদ্রাসার বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি বলে জানান মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা।