|
এই সংবাদটি পড়েছেন 212 জন

সিলেটে চালু হলো ‘বাতিঘর’

ডেইলি বিডি নিউজ:: সিলেট নগরে চালু হয়েছে বইয়ের দোকান ‘বাতিঘর’ এর নতুন শাখা।

এ নিয়ে বাতিঘর তার তিনটি শাখা চালু করলো। প্রথমটি চালু হয় চট্টগ্রামের জামালখানে প্রেসক্লাব ভবনে। এরপরে ঢাকার বাংলা মোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে। সর্বশেষ চালু হলো সিলেটের পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকার গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায়।

সিলেটে নতুন হলেও বইপ্রেমীদের কাছে বাতিঘর পরিচিত নাম। সিলেট নগরের পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকার গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় বিশাল জায়গাজুড়ে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) থেকে পাঠকদের জন্য বাতিঘর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রথমদিন থেকেই পাঠকেরা ভিড় করছে নগরের এই নতুন গ্রন্থ বিপণিতে। সৃজনশীল বইয়ের সংগ্রহশালার পাশাপাশি বাতিঘরের সাজসজ্জাও নজর কাড়ছে সিলেটের পাঠক দর্শনার্থীদের।

সিলেটের দুটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার আদলে সাজানো হয়েছে বাতিঘরের সিলেট শাখা। সিলেট বাতিঘরে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে সুরমা নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ আর নদী পাড়ে স্থাপিত আলী আমজদের ঘড়ি। শুধু তাই নয়, চায়ের দেশ সিলেটের বাতিঘরের দেয়ালে করা হয়েছে চা-বাগানের আদলে।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সজ্জা করেছেন শিল্পী শাহীনুর রহমান। আলোকসজ্জা করেছেন নাসিরুল হক খোকন ও জুনায়েদ ইউসুফ।

শুক্রবার অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই বই কিনতে সিলেটের বইপ্রেমীরা ভিড় করছেন বাতিঘরে। শুধু ক্রেতা নয় এই প্রতিষ্ঠানের নান্দনিক সৌন্দর্য একনজর দেখতে ছবি তুলতেও আসছেন দর্শনার্থীরা।

সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতাদের জন্য খোলা থাকবে বাতিঘর। দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এখানে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০ হাজার লেখকের নানা ধরনের বই পাওয়া যাবে এই প্রতিষ্ঠানে।

ইতিহাস, আত্মজীবনী, জীবনী, প্রবন্ধ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, শিল্পকলা, নাট্যতত্ত্ব, চলচ্চিত্র, ধর্ম, দর্শন, কথাসাহিত্য, অনুবাদ, কবিতা, শিশুসাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি, গবেষণাসহ নানা ধরনের বিষয়ের বইয়ের সমাহার রয়েছে বাতিঘরে। সিলেটি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি কর্নার, ক্যাফে কর্নারসহ বেশ কিছু কর্নার রয়েছে।

নির্বাচিত লেখক, শিশু–কিশোর কর্নার, প্রকাশনা সংস্থার কর্নারের পাশাপাশি এখানে সিলেটে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বিষয়ের উপর একটি কর্নার আছে। রয়েছে একটি ক্যাফে কর্নারও। শিগগিরই বাতিঘরের নামফলক বাংলার পাশাপাশি সিলেটের নাগরী লিপি দিয়েও লিখা হবে জানান এ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

বাতিঘরের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ বলেন, পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বাতিঘরের শাখা করি। সিলেটে বই পড়ার অনেক মানুষ আছেন। সিলেটের বেশ কয়েকজন মানুষ এখানে শাখা করার জন্য বলেন। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি মানসম্মত বইয়ের দোকান চালু করার স্বপ্ন দেখে বাতিঘর। এরই অংশ হিসেবে সিলেটে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে গ্রন্থবিপণিগুলোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পাঠকসমাজ গড়ে উঠবে। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরোনো ও দুষ্প্রাপ্য বই বিক্রিও আমরা নিয়মিতভাবে করতে চাই। এককথায় আমরা তরুণ প্রজন্মের পাঠরুচি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চাই।

দীপঙ্কর দাশ বলেন, বইয়ের দোকানের গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে আমরা চিন্তা করি। আমরা চাই পাঠক বই পড়ে তার পছন্দমতো বই কিনবেন। চা কফি খাবেন। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আমাদের অনেক সংগ্রহ থাকে। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরোনো ও দুষ্প্রাপ্য বই পাওয়া যাবে এখানে। নামীদামী লেখকের পাশাপাশি নতুন লেখদেরও বই থাকে। একজন পাঠকের বই কেনার আগে বই দেখে পড়ে নিজের চাহিদামত কেনার সুযোগ থাকে। শুধু তাই নয় পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বিদেশ থেকেও বই এনে দিই। বই বিপণনে নতুনত্ব এনে দেশ জুড়ে পাঠকসমাজ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।