|
এই সংবাদটি পড়েছেন 143 জন

বাবার ইমামতিতে মেয়ের শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল

ডেইলি বিডি নিউজ:: ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জানাজায় অংশ নিতে হাজারও মানুষের ঢল নেমেছে। স্থানীয় ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজারও মানুষ তার নামাজের জানাজায় অংশ নেন। বুধবার (১১ এপ্রিল) মো. ছাবের সরকারী পাইলট হাইস্কুল মাঠে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার বাবা একেএম মুসা। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে রাফিকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। সেখানে নুসরাতকে শেষবারের মতো একপলক দেখার জন্য হাজারো মানুষ ভিড় করে। তারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। সকালে ঢামেক মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বেলা সোয়া ১২টার দিকে নুসরাত জাহান রাফির মরদেহ তার বাবা এ কে এম ‍মুসার কাছে বুঝিয়ে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক প্রদীপ বিশ্বাস।

নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তার শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। নুসরাতের ফুসফুসকে সক্রিয় করতে গেল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হয়।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ থেকে কার্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদ্যন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তার।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।