|
এই সংবাদটি পড়েছেন 160 জন

মোক্তাদীর খানের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বিএনপির

মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা :: মোকাব্বির খানের কাছ থেকে বিএনপি নেতৃত্বের অনেক কিছু শেখার আছে। একজন নবীন সংসদ সদস্য হয়ে তিনি তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যেভাবে মহান সংসদে তুলে ধরেছেন বিএনপি কি আন্দোলনের নামে মিডিয়াসর্বস্ব প্রচারণায় সে আবেদন সৃস্টি করতে পেরেছে। মাননীয় স্পীকারের উদারতায় একজন নবাগত সংসদ সদস্য কথা বলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুকৌশলে তার রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারলে বিএনপির অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানরা সে সুযোগকে নিশ্চয়ই অারো বেশি অর্থবহ করতে পারতেন।

মোকাব্বির খান ক্ষীণ আওয়াজে তার রাজনৈতিক চিন্তার উচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। জাতীয় সংসদের মতো সংবিধান স্বীকৃত ফোরামে প্রথমবারের মতো তার দল গণফোরামকে তিনি স্বীকৃতি দিতে পেরেছেন। জনাব মোকাব্বির খান নিজেকে উপস্থাপনের পাশাপাশি তার নেতা ড.কামাল হোসেনকে বিভিন্ন বিশেষণে আখ্যায়িত করেছেন।সংসদীয় রেকর্ডে এই অন্তর্ভুক্তি প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

মোকাব্বির খান তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের মনোভাব তুলে ধরার পাশাপাশি তার জোট নেতার প্রসঙ্গ যেভাবে উত্থাপন করেছেন তা কি তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে না।সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক বিতর্ক সংসদের ভেতরেই মর্যাদাপূর্ণ।

পার্লামেন্টের বাইরে একটি রাজনৈতিক দল যতই উচ্চকণ্ঠ থাকুক না কেনো তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়না। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিশ্চয়ই তাদের সংসদীয় অস্তিত্ব বজায় রাখার স্বার্থে মোকাব্বির খানের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

সদিচ্চা, আন্তরিকতা আর নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকলে নিজ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেও যে দলকে মহিয়ান করা যায় এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেট ২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ কার্যক্রমে অংশ নিলে নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি জনপ্রত্যাশা যেভাবে তুলে ধরতে পারবেন তা নিশ্চয়ই সংসদীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্দোলন করে সরকার পতনের বাস্তবতা এখন আর নেই।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুসংহত করতে হলে জাতীয় সংসদকেই সকল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মেনে নিতে হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদই সকল রাজনৈতিক দলের মর্যাদার ঠিকনা। এই সাংবিধানিক সর্বোচ্চ আইনসভা থেকে ছিটকে পড়লে একটি রাজনৈতিক দলের সংসদীয় অস্তিত্ব বিনাশের পাশাপাশি গ্রহণযোগ্যতাও হুমকির মুখে পড়বে। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিকটবর্তী সীমারেখাকে মোকাব্বির খানের জাতীয় সংসদের বক্তব্য নিশ্চয়ই তাড়না দেবে।

ইতিবাচক রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।ব্যক্তি জীবন হোক আর রাষ্ট্রীয় জীবন হোক, যেকোনো ব্যবস্থাকে সংশোধন, পরিশোধন করতে হলে যথাস্থানে যথানিয়মে ভূমিকা রাখতে হয়। সে ভূমিকা একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য আরো বেশি সুচিন্তিত ও সময়োপযোগী হতে হয়।

একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলকে হঠকারিতা আর আবেগসর্বস্ব খন্ডিত চিন্তা না করে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সূদুরপ্রসারী চিন্তায় সংযুক্ত থাকতে হয়।

দলের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড়ো করে দেখলে দেশের সাংবিধানিক রাজনৈতিক গতিপথকেই নিজেদের ভাগ্যনিয়ন্তা হিসেবে মেনে নিতে হয়।

বিএনপির জোট শরীক গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান সরকারের কঠিন সমালোচনা করে যে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এভাবে বিএনপির অন্যান্য সংসদ সদস্যরা যদি সংসদে উচ্চকণ্ঠ হন নিশ্চয়ই সরকারও সহনশীল রাজনৈতিক চিন্তায় ত্রুটি, বিচ্যুতি শুধরে নিয়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়নে সচেষ্ট হবে। জাতীয় সংসদই হোক সকল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

সংসদীয় ধারা যতো বেশী প্রাণবন্ত হবে গণতান্ত্রিক ধারা ততো বেশী সমৃদ্ধ হবে।

লেখক : মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা
রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক