|
এই সংবাদটি পড়েছেন 25 জন

সিলেটে ইজতেমার অনুমতি দেয়নি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি:: দুই পক্ষের কোন্দলের অবশেষে পণ্ডই হয়ে গেলো সিলেটে ইজতেমা। এক পক্ষের আপত্তির কারণে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দেয়রি প্রশাসন। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে দক্ষিণ সুরমার বদিকোনায় এই জেলা ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছিলো। যা আগামী শুক্র ও শনিবার চলার কথা ছিলো।

বিরোধ থাকার কারণে সংঘাতের শঙ্কায় ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দেয়রি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) মহানগর পুলিশের অতিরিক্অত উপ-পুলিশ কমিশনার মিডিয়া জেদাল আল মুসা জানান, অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সিলেটে ২৫, ২৬ ও ২৭ এপ্রিল ইজতেমা করার অনুমতি দেয়নি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

তবে সেখানে শবগুজারি বা তাবলীগের মারকাজে রাতযাপনে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইজতেমার মাঠে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ২৫, ২৬ ও ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ সুরমার পশ্চিম বদিকোনা মাঠে ইজতেমা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাদ অনুসারীরা। কিন্তু সেটি বন্ধের দাবিতে রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে ১৯ এপ্রিল স্মারকলিপি প্রদান করে আরেকটি পক্ষ।

ওই স্মালিকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ভারত উপমহাদেশে সূচীত ও দারুল উলুম দেওবন্দের শীর্ষ ওলামাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দ্বীন ইসলামের দাওয়াতী কাফেলা ‘তাবলীগ’ এর মাধ্যমে এর সদস্যরা পুরো বিশ্বব্যাপী তাবলীগের মেহনত করে আসছে। দীর্ঘদিন থেকে বালাদেশেও এ নিয়মেই কাফেলার কাজ চলে আসছে। কিন্তু বিগত ৪-৫ বছর থেকে কিছু বিপদগামী লোক মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে এই কাজের কর্তৃত্ব নিজ আয়ত্বে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের দাওয়াতী কাফেলায় ভাঙন ও দলীয়করণ সৃষ্টি হয়েছে। আর এরই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের তাবলীগী মারকায কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গি ইজতেমা মাঠে রক্তপাত এবং প্রাণহাণীর মত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। যা খুবই দুঃখজনক। আমাদের সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বদিকোনায় ঐ সকল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা ২৫, ২৬ ও ২৭ এপ্রিলসিলেট জেলা ইজতেমা আহ্বান করেছে। আমার সিলেটের উক্ত ইজমেতায় বিশৃঙ্খলার আশংকা করছি।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সিলেট হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-সহ আলীম ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের আবাসভূমি। এই ভূমিকে শান্ত রাখতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সাদপন্থীদের কথিত ইজতেমা বন্ধ করতে হবে।