|
এই সংবাদটি পড়েছেন 34 জন

নানা সমস্যায় জর্জরিত শাল্লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সুনামগঞ্জ : চিকিৎসক স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

রোগীদের অভিযোগ, অফিস চলাকালীন সময়ে বহির্বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া যায় না। আবার কেউ অফিস চলাকালে বাসায় প্রাইভেট রোগী দেখেন বলেও অভিাযোগ তাদের।

অপরদিকে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত ডাক্তার আসেন না। শুধুমাত্র নার্সদের দিয়েই চলে চিকিৎসা। হাসপাতালে সরবরাহকৃত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলেও জানান তারা।

উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবাদানকারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সেবা কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। এখানে নেই রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা। দীর্ষ ১০ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে কোটি টাকা মূল্যের এক্সরে মেশিনটি। দীর্ঘদিন বছর ধরে নেই কোনো গাইনি চিকিৎসক। অনেকটা বাধ্য হয়েই স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিদের অন্যত্র গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রদর্শিত জনবল তালিকা সূত্রে জানা যায়, নয় জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র পাঁচ জন। এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার একজন ও মেডিকেল অফিসার তিনজন। মেডিসিন, গাইনী, সার্জারি ও এনেস্থেশিয়া বিভাগে চারজন জুনিয়র কন্সাল্টেন্ট, তিনজন ফার্মাসিষ্ট, ল্যাব: টেকনিসিয়ান, ডেন্টাল ও চারজন মেডিকেল অফিসারের স্থলে একজনও নেই। তাছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তালিকায় বিশ জনের পদ থাকলেও আছে মাত্র দুইজন।

বৃহস্পতিবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির পুরুষ ও মহিলা দু’টি ওয়ার্ডের ৩১টি শয্যার মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডে ১১টি ও মহিলা ওয়ার্ডে ১০টি শয্যা রয়েছে। এরমধ্যে বেশীরভাগ শয্যাই ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ। ওয়ার্ডের জানালাগুলোও ভাঙ্গাচুরা। বৃষ্টি হলেই ভিতরে পানি আসে বলেও অভিযোগ রোগীদের। এছাড়া হাসপাতাল চলাকালীন সময় দুপুর বারটায় বহির্বিভাগে গিয়ে কোনো ডাক্তারের দেখা মেলেনি।

হাসপাতালের সার্বিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‌‘জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া কর্মরত ডাক্তারদের বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করায়ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে কিছুটা সমস্যা হয়। তদুপরিও আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করছি। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের শুন্যপদ পূরণে ইতিমধ্যে জেলায় তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করি শুন্যপদ সমূহ অচিরেই পূর্ণ হবে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোশ দাস বলেন, ‘শাল্লা হাসপাতালের এই সমস্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যন্ত জানেন।

তাছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘শাল্লায় তো কখনো পাঁচজন ডাক্তার ছিল না। যা আছে তা নিয়ে সবুর থাকেন। আপনারা ধর্য্য ধরুন, বাকি পদগুলো পূরণ করতে একটু সময় লাগবে।