|
এই সংবাদটি পড়েছেন 44 জন

জৈনপুরী পীরের ভাই অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ জৈনপুরী পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ভাই নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি গার্মেন্টসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাঠানটুলী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে একটি দোনলা বন্দুক ও কয়েকটি গুলির খোসাসহ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে বুধবার পুলিশ তাকে আদালতে পাঠায়। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন আহমেদের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে একদিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান।

এদিকে গত বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশি বিপিএম, পিপিএম (বার) তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ২৫শে এপ্রিল দিনরাতে এনায়েত উল্লাহ আবাসীর নেতৃত্বে জঙ্গি কায়দায় পাঠানটুলী এলাকায় এইচ এন এ্যাপারেলস নামে একটি গার্মেন্ট কারখানার দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ ওই রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় নেয়ামত উল্লাহ আবাসীকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় পুলিশ পরদিন চার আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীসহ অন্যান্য আসামিরা আত্মগোপনে থাকেন। এ ঘটনার পরদিন রিভলবার হাতে ও সাথে এস এমজি নিয়ে জঙ্গি আদলে তোলা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।

এর পরই এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান, জঙ্গি আদলে তোলা ছবিটির কারণে গ্রেপ্তারকৃত নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীর চালচলন ও গতিবিধি নিয়ে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। কোন জঙ্গি সংগঠনের সাথে বাস্তবে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে উদ্ধারকৃত গুলির খোসাগুলো কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং কি উদ্দেশ্যে তিনি অস্ত্র হাতে জঙ্গি স্টাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করেছেন সে বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ সহ তার বিষয়ে তদন্ত চলছে উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জে মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।