Mon. Apr 12th, 2021

উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেছে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ

ডেইলি বিডি নিউজঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে উদ্বোধনের আগেই প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে পড়ার চার বছর পরও নতুন ব্রিজ নির্মাণ বা সংস্কার হয়নি।

তবে নির্মাণ কাজের ত্রুটি সম্পর্কে তদন্ত করে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বিল দিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে ওই এলাকার সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষজন। স্থানীয়রা নিজস্ব উদ্যোগে ব্রিজের দুই ধারে কাঠের সাঁকো বানিয়ে কোনো রকম যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখেছেন।

ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বুড়াবুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মুসল্লিপাড়া রাবিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা আবদুস সামাদ মাদ্রাসা, খারিজা খামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোলন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুড়াবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পানাতিপাড়া, আগগ্রাম, বানিয়াপাড়া, পাইকারপাড়া, তেলীপাড়া, কানিপাড়া, বোতলা, দোলন, নেলর গ্রাম, কুড়ারপাড়, মিয়াপাড়া, ফকির মোহাম্মদ, পাঁচগ্রাম, মকপাড়া, ঝাঁকুয়াপাড়া, বটতলি নদীরপাড়সহ ২০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে নিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি নির্মাণের সময় ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন। ওই সময় এলাকাবাসী আপত্তি জানালেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি।

ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় বুড়াবুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মুসল্লিপাড়া রাবিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা আবদুস সামাদ মাদ্রাসা, খারিজা খামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোলন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুড়াবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পানাতিপাড়া, আগগ্রাম, বানিয়াপাড়া, পাইকারপাড়া, তেলীপাড়া, কানিপাড়া, বোতলা, দোলন, নেলর গ্রাম, কুড়ারপাড়, মিয়াপাড়া, ফকির মোহাম্মদ, পাঁচগ্রাম, মকপাড়া, ঝাঁকুয়াপাড়া, বটতলি নদীরপাড়সহ ২০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, উপজেলার মাসিক সভায় ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে তা এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। মেসার্স হামিদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবদুল হামিদ ব্রিজটি উদ্বোধনের আগেই ভেঙে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বন্যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাজ করেছি, বিল নিয়েছি। এখানে উদ্বোধনের কী আছে?

নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, কাজ সঠিকভাবে করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। ওই সময় যিনি দায়িত্বে ছিলেন এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন।

ব্রিজটি নির্মাণের সময় দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আনিছুর রহমানের (বর্তমানে গাইবান্ধা সদরে কর্মরত) সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই সময় বন্যার কারণে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাস্তবে ব্রিজটি আকারে বড় হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু তৎকালীন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের চাপে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই এলাকার লোকই ঢালাই করেছে। কাজের মানের ব্যাপারে কোনো আপস করা হয়নি।

উদ্বোধনের আগেই চূড়ান্ত বিল প্রদান করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ শেষ করে ঠিকাদার বিল নিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদের বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। ব্রিজটির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হবে।