|
এই সংবাদটি পড়েছেন 85 জন

হবিগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিত্যক্ত ভবনে চলছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার এতবারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বিকল্প ভবন না থাকায় না থাকায় এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে যে কোনও সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়,হবিগঞ্জের ৮টি উপজেলায় ১ হাজার ৫২টি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। অনেকগুলো ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকল্প কোনও ভবন না থাকায় এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে বাধ্য হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
এতবারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। স্কুলের তিনটি ভবনের মধ্যে দু’টি ভবন প্রায় ৫ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনের দেয়ালে ফাটল,টিনশেড ভাঙা,আবার কোনও কোনও স্থানে সিলিং ভেঙে ঝুলে রয়েছে। যেকোনো সময় সিলিং কিংবা ভবন ভেঙে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুরঞ্জিত বিদ জানান,‘আমাদের পুরাতন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ঘরে বসে থাকতে হয়। দুর্ঘটনার ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হয়।’

আরেক শিক্ষক ফরিদ মিয়া জানান,‘স্কুলের ১ ও ২ নম্বর ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যেই ক্লাস করে আসছি। ঝড় আসলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ক্লাস বন্ধ রেখে অফিস কক্ষে চলে আসতে হয়’।

সহকারী শিক্ষিকা হাসিনা আক্তার জানান,‘বিদ্যালয়ের দু’টি ভবন অনেকদিন ধরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ভবনের অভাবে আমাদের ঝুঁকির মধ্যেই ক্লাস করতে হয়। যদি কর্তৃপক্ষ একটি নতুন ভবন তৈরি করে দেয় তাহলে আমরা ঝুঁকিমুক্ত হয়ে পাঠদান করতে পারবো।’

শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া জানান,‘ঝড়-তুফান আসলে আমরা বই নিয়ে দৌঁড়ে বাড়িতে চলে যাই। এসব কারণে আমাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।’ অভিভাবক রহিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে সবময় ভয়ে থাকি। বিদ্যালয়ের ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো ঠিক না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

আরেক অভিভাবক শুক্লা রানী জানান,‘স্কুলের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আয়েশা খানম বলেন,‘আমার স্কুলের তিনটি ভবন রয়েছে। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ’ জন। এর মধ্যে দু’টি ভবনই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দু’টি ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ঝড়-তুফান আসলে স্কুল শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে একটি কক্ষে নিয়ে বসে থাকতে হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক আরও জানান,‘পরিত্যক্ত, জরাজীর্ণ ও ফাটলকৃত ভবনগুলো নির্মাণ ও পূনঃনির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টি আসলে যাতে ক্লাসের কোন সমস্যা না হয় সে জন্য স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আশা করি মন্ত্রণালয় থেকে পর্যায়ক্রমে ভবন মেরামত করে দেয়া হবে।