|
এই সংবাদটি পড়েছেন 87 জন

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সুনামগঞ্জে চলছে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের তান্ডব

সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধ্যবর্তী পাথর মিশ্রিত বালি মহালের ধোপাজান চলতি নদীতে অবাধে চলছে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের তান্ডব। সেই সাথে চলছে বলগেট কার্গো থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজীর মহোৎসব। একাধিক সুত্র জানায়, সুরমা নদীর খালের মুখ থেকে আদাং পর্যন্ত অন্তত ১৫টি পয়েন্টে নামে বেনামে চলছে চাদাবাজী। চাঁদাবাজীই যেন মুল ব্যবসায় পরিনত হয়েছে ধোপাজান চলতি নদীতে।

আর নদীর দু’পাড়ে বিশাল পাথর বালির স্তুপ বা টেক দেখে মনে হচ্ছে বালির পাহাড় দাড়িয়ে আছে ধোপাজানের দুই তীরে। এই বিশাল বালি রাশি একদিনে পাহাড় আকার ধারন করেনি। আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছে বালির পাহাড়। এসব পাহাড় গড়ে উঠতে শত শত ড্রেজার ও বোমা মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় আদাং গ্রামের কালাম জানান, পত্রিকার সাংবাদিকরা বললেই কি হবে? তারাওতো পুলিশ চান্দাবাজদের সাথে মিশে টাকা নিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। শুধু শুধু আমরার নাম ব্যবহার করে পুলিশ ও চাদাবাজদের শত্রুু হয়ে লাভ কি? যে নদী চৈত্র বৈশাখ মাসে হেটে পার হওয়া যেতো এখন হেটে তো দুরের কথা সাতরিয়ে পার হওয়াও কঠিন। প্রতিদিনই নদীর দু’পাড়ে কোন কোন বাড়ী কিংবা ফসলী জমি নদীর বুকে বিলীন হচ্ছে। সদর থানার এসআই জালাল,আলমগীর আর বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই আরিফকেই নদীতে বেশীরভাগ সময় টাকা নিতে দেখা যায়।

রামপুর গ্রামের মুসা মিয়া জানান, চলতি নদী আর আগের নদী নাই, এখন সাগরে পরিনত হয়েছে। দু’পাশের ফসলী জমির পাশাপাশি মসজিদ মন্দির একের পর এক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। বাড়ী হারা হচ্ছে শত শত দরিদ্র মানুষ। সেই সাথে ছোট্ট নদীতে অবাধে বলগেট ও কার্গো প্রবেশ করে বালি পাথর নিয়ে আসতে বিশাল ঢেউয়ের কারণে নদীর তীর ভেঙ্গে বিলীন হচ্ছে। আর এসব বালি ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে ৪০-৪২ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিন চালিত মানব সৃষ্ট দানব বোমা মেশিন ও সেইফ মেশিন। ৮-১২টি তেলের ডাম ব্যবহার করে বাশঁ দিয়ে বিশাল ভাসমান বোর্ট তৈরী করে ৬ সেলেন্ডার বা ৪ সেলেন্ডার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ কিংবা পাড় কেটে বালির পাহাড় তৈরী করা হচ্ছে। কবরস্থান দখল করে বিশাল বালির পাহাড় তৈরী করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই চলছে এসব ড্রেজার ও বোমা মেশিন। এসব দেখে মনে হচ্ছে দেশে আইনের কোন শাসন নেই। পুলিশের নেতৃত্বেই চলে এসব চাঁদাবাজী। স্থানীয় বালি পাথর ব্যবসায়ী সমিতি থাকলেও কেউ কারও কথা শুনছেন না। নেই কোন নীতি বা আদর্শ। যে যার মত বালি উত্তোলন করছে আর বিশাল বালি রাশির স্তুপ তৈরী করছেন। আর মেরিন আইন অনুযায়ী কোন শাখা নদীতে স্টিমার কিংবা বার্জ কিংবা বলগেট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন কেহই। এ দেখে মনে হচ্ছে পরিবেশ কিংবা জমি বাড়ীর ক্ষতি যাই হউক টাকা আমার চাই চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, সুনামগঞ্জ সদর থানার দুজন এসআই আলমগীর ও জালাল পালাক্রমে নদীতে আসেন এবং চাঁদাবাজী বন্ধের জন্য না এসে নিজেরাই মেতে উঠেন চাদাবাজীতে। আর প্রতিটি বোমা মেশিনের কাছ থেকে সাপ্তাহিক আদায় করেন। তাই বলছে পুলিশ পাবলিক মিলে চলছে চাদাবাজীর মহোৎসব। আর সে কারণেই নদীতে অবাধে চলছে ড্রেজার/বোমা মেশিনের তান্ডব।

তবে এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই জালাল উদ্দিন জানান, ধোপাজান নদীতে কতগুলো ড্রেজার বা বোমা মেশিন আছে তার হিসাব নাই। আমি কোন ড্রেজার থেকে কোন টাকা পয়সা নেইনিচাঁদাবাজদের সাথেও কোন সর্ম্পক নেই। যারা বলছে আমাকে ফাসাঁনোর জন্যই বলছে।

এসাআই আলমগীর বলেন, আমি নদীতে কখনও চাদাবাজী করি নাই কিংবা কাহারো কাছ থেকে কোন টাকা পয়সাও নেই নাই। আমার উপর দায়িত্ব পালন করার জন্যই নদীতে টহল দেই। এ দিকে বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই আরিফ ও এএসআই শরীফ প্রতি রাতে প্রতি ড্রেজার থেকে দুই হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং অবাধে নদীর পাড় কাটা ও নদীর তলদেশ থেকে বালি পাথর উত্তোলন করতে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই আরিফ।

এএসআই শরীফ জানান, ধোপাজান নদী থেকে কোন ধরনের টাকা উঠাতে আমরা যাই না। মাঝে মধ্যে চাঁদাবাজদের ধরার জন্যই অভিযানে যাই। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: হায়াতুন নবী বলেন, ধোপাজান নদী কিংবা অন্য কোন স্থানে কোন পুলিশ সদস্য চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: শফিউল আলম বলেন, ধোপাজান নদীতে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হয়ে থাকে। কিছু দিন বন্ধ ছিল। আবারও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন, অবৈধভাবে নদীর তীরে বালি পাথর মওজুদদার, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।