|
এই সংবাদটি পড়েছেন 65 জন

হাফডজন মামলার আসামী চাঁদাবাজ ফলিক খান এখন সমাজ সেবক

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের লামাচন্দরপুর গ্রামের মৃত আলতাফ আলীর ছেলে ফলিক উদ্দিন খান। চাঁদাবাজী, দ্রুত বিচার, নাশকতাসহ প্রায় হাফডজন মামলা এজাহারভুক্ত আসামী তিনি। একাধিক মামলায় এ পর্যন্ত ৩ বার কারাভোগও করেছেন। মাদকের প্রতি রয়েছে বেশ সখ্যতা। তবে অনেকের কাছে রমণী মোহন হিসাবে তিনি অতি পরিচিত। সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবতী মেয়েদের আমেরিকায় নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করাই তার মূল টার্গেট। এ পর্যন্ত কত মেয়ের সর্বনাশ করেছে তার কোন ইয়াত্ত্বা নেই। সিলেট নগরীর নাইওরপুলস্থ সিলভিউ হোটেলের রেজিষ্টারে রয়েছে তার অনেক অপকর্মের প্রমানাধি। সে নিজের অপকর্ম ঢাকতে স্থানীয় থানা পুলিশের নামেও করেছে একাধিক মিথ্যা মামলা যা তদন্তকালে বার বার মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে তাকে একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ উল্লেখ করে গোলাপগঞ্জ থানার ১২৬/২০১৮ নং মামলাটি তদন্ত করে আদালতে রির্পোট জমা দিয়েছেন পিবিআই এর এক পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৯৯ সালে দায়ের করা গোলাপগঞ্জ থানার অস্ত্র মামলায় প্রথম কারাভোগ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়ের করা একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলায় ৩ মাস কারাভোগ করে। সর্বশেষ সে গোলাপগঞ্জ থানার সিআর মামলা নং ১২৬/২০১৮ নং চাঁদাবাজীর মামলায় প্রায় ১ মাস কারাভোগ করে।এছাড়া তিনি ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের উসকানীদাতা, গাড়ি ভাংচুর মামলা নং ১৩৩/২০১৮ ইং মামলার একজন তালিকাভুক্ত আসামী ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ থাকে গ্রেফতার করে। অপর দিকে জামায়াত বিএনপির সাথে গোপন সম্পর্ক রেখে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগের ১৩২/২০১৮ নং মামলা তালিকার ভুক্ত একজন আসামী তিনি। এছাড়া তিনি গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নং-১৯(৬)২০১৬ইং, একই থানার দ্রুতবিচার মামলা নং-১৫ (৬)২০১৬ ইং, একই থানার মামলা নং-১৬(৪)২০১৬ইং এর এজাহার ভুক্ত আসামী, মামলা নং-১৯(৬)২০১৬, দ্রুত বিচার আইনে মামলা নং ১০/১৩৩ (৮)২০১৮ইং, উপজেলা নির্বাহী অফিসারে দায়ের করা মামলানং-১২/২০১৬ ইং। এর এজাহারভুক্ত আসামী তিনি। এতো অপরাধের সাথে জড়িত আর এসব মামলার আসামী হয়েও উঠেছেন সমাজসেবী। সম্প্রতি কয়েক বছর থেকে বাংলাদেশে এসে হয়ে উঠেছে এখন প্রবাসী কমিনিটি নেতা। তবে আমেরিকা থেকে একাধিক বিশ্বস্থ্য সূত্র জানিয়েছে ফলিক খান বিয়ে করে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাদেক হোসেন খোকার ভাগ্নিকে। সেখানে ঠাকার জন্য স্ত্রী উপর নির্যাতন করে হাত ভেঙ্গে দিয়ে দেশে পালিয়ে আসে। এছাড়া সেখানে পুলিশ ফলিক খানকে একাধিক অপরাধের জন্য হন্য হয়ে খোঁজ করছে। যার জন্য ফলিক খান আর আমেরিকা যেতে পারছেনা। গোলাপগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের তালিকায় সে একজন দুরন্তর চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিত। দুরন্তর ফলিক সম্প্রতি সরকার বিরোধী ও চাঁদাবাজীর মামলায় প্রায় ১ মাস কারাভূগের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে আরো ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফেইসবুকে স্যোসাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নামে ফেইক আইডি খুলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের বিরোদ্ধে বিষোদগার, উসকানী মূলকপোষ্ট, সমাজের সম্মানীত ব্যক্তিদের নামের আজেবাজে মন্তব্য করে এলাকায় বিব্রান্তির সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের মান-মর্যাদা নিয়ে খেলা করছে এই ফলিক উদ্দিন খান। এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে সে কখনো হয়ে উঠে স্বঘোষিত সমাজ সেবক, কখনো বা সাংবাদিক আবার কখনো মানবাধিকারকর্মী। আলোচিত ফলিকখানের একাধিক অসামাজিক কর্মকান্ডসহ অনৈতীক কর্মকান্ডে ঘটনায় স্যোসাল মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হচ্ছে। তার অত্যাচার থেকে পরিত্রান পেতে গোলাপগঞ্জ থানায় একাধিক মামলাসহ সাধারণ ডায়েরী, সিলেট কোতয়ালী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরী করেছেন বেশ কয়েকজন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আর স্থানীয় প্রশাসনসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে নানা রকম বাজে মন্তব্য আর উসকানী দিলেও সে নিজেকে আওয়ামী নেতা দাবী করে। তবে স্থানীয় ওয়ার্ড থেকে শুরু করে প্রবাস পর্যন্ত সে আওয়ামীলীগের কোন রাজনৈতীক অঙ্গসঙ্গঠনের সদস্য নয়। তাহলে সে কি করে নিজেকে আওয়ামীলীগের নেতা দাবী করে এমন প্রশ্ন অনেকের। অনেক সময় নিজেকে শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের দোহাই দিয়ে থাকে ‘শেখ পরিবারের সদস্যদের সাথে নাকি রয়েছে তার গভির সম্পর্ক’। ফলিক উদ্দিন একজন আমেরিকা প্রবাসী হলেও আমেরিকাস্থ আওয়ামী লীগের কোন সংগঠনের সদস্য পদও নেই তার। সম্প্রতি সময়ে সিলেট জেলাবার আইনজীবি সমিতির এক শিক্ষানবীশ আইনজীবির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে ফলিক খান তার সাথে কয়েটি ছবি তুলে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যেমে নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে এই আইনজীবিকে। শেষ পর্যন্ত ঐ আইনজীবি বাধ্য হয়ে গত ২৯ এপ্রিল ফলিক খানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং-৪৯১৬ (২৯.৪.১৯)। অভিযুক্ত ফলিক খান তার নামীয় ফেইসবুক আইডি ঋড়ষরশ ট শযধহ-এ ডলির সাথে কয়েকটি আপত্তিকর ছবি পোষ্ট করেছেন। এমনকি অনেকের ব্যক্তিগত ম্যাসেঞ্জারে তিনি ছবিগুলো দিয়েছেন। যার ফলে পেশাগত কাজে বাঁধা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন তিনি। ফলিক খানকে ছবি প্রদানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে উল্টো শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে গুম ও খুন করার হুমকি দেন এবং নুসরাতের মতো ডলিকেও পুড়িয়ে হত্যা করার হুমকি দেন এই ফলিক খান। এ অবস্থায় ভয়ে আর কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ফলিক খানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য শিক্ষানবীশ এই আইনজীবী কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরীটি করেন। এ দিকে ফলিক খানের অনেক গোপন কৃতকর্মে সাক্ষি জাকির হোসেন দিপু নামের সিলেটের এক সংবাদকর্মী গোলাপগঞ্জ থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফলিক খানের মিথ্যা মামলার সাক্ষি না হওয়ায় তার সাথে দেখা দিয়েছে বিরোধ। তিনি সেই সংবাদকর্মীরকে ধমিয়ে রাখতে তার বিরোদ্ধে দায়ের করেছেন মিথ্যা একটি চাঁদাবাজী মামলা। তার পরিবার পরিজনকে নিয়ে স্যেসাল মিডিয়ায় দিচ্ছে না রকম অশ্লিল মন্তব্য যা নিয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন সেই সংবাদকর্মীর পরিবার। এছাড়া ফলিক খান মিথ্যা প্রেম আর আমেরিকায় নিয়ে যাবার কথা বলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের নিয়ে এস তাদের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ড করে তা আবার মোবাইল ফোনে ধারণ করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছেন। এ রকম ঘটনার প্রমান সংগ্রহ করেছেন আমাদের প্রতিবেদ। এছাড়া রয়েছে আপন ভাই ফরিজ খানের কেনা ভূমি নিজেই ফরিজ খান সেজে বিক্রির অভিযোগ। ঐ ভুমি বিক্রি করতে সে নিজের আমেরিকান পাসর্পোটে ফলিক খানের পরিবর্তে ফরিজ খান এডিটিং করে তার ভাইয়ের ৯শতক জমি বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে অবশিষ্ট জমি বিক্রি করতে গেলে বেরিয়ে পড়ে কার প্রতারণা বিষয়টি। সুত্রঃসুরমা ভিউ।