|
এই সংবাদটি পড়েছেন 57 জন

তাহিরপুরে পুলিশ কর্মকর্তার ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

ডেইলি বিডি নিউজঃ  জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের কাজ হলেও জনসেবাম‚লক কাজ করা খুবেই কঠিন কাজ। সেই কাজটি খুব গোছালো ভাবে করে প্রমান করেছে পুলিশ চাইলেই পারে অনেক কিছু করতে। তার কিছু নিদর্শন দেখিয়েছেন তাহিরপুর থানার সদ্য বিদায়ী পুলিশ অফিসার ওসি নন্দন কান্তি ধরসহ কয়েকজন অফিসার। তার উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট ও থানার পুলিশসহ এলাকার মুসুল্লিদের নামাজের জন্য সংস্কার করেছেন তাহিরপুর থানা মসজিদটি। তার ধর্মীয় উন্নয়নম‚লক এধরনের কাজে ব্যাপক সহযোগীতা করেছেন,এসআই আমির উদ্দিন,এএসআই রেজা। এজন্য হিন্দু মুসলমান দুই ধর্মের মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসা ও এলাকাবাসীর মন জয় করেছে তারা। প্রাথমিক ভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাজ শুরু করে এপর্যন্ত ৯৫ভাগ শেষ করেই অন্যত্র বদলী হন ওসি নন্দন কান্তি ধর।

জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলা হাওর বেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে চারদিকে পানি থৈথৈ করে। ফলে কেউ মারা গেলে দাহ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান ছিল না। শুষ্ক মওসুমে বৌলাই নদীর তীরে আর বর্ষাকালে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশের শুকনো স্থানে দাহ করা হতো। কিন্তু যাদের নিজস্ব জায়গা নেই তারা মরদেহের শেষ কৃত্য নিয়ে বিপাকে পড়তেন। ফলে উপজেলার ঠাকুরহাটি,সদর,খলাহাটি,রায়পাড়া,স‚র্য্যরেগাঁও,টাকাটুকিয়া,জামলগড়,ধুতমা,চিকসা, গৌবিন্দপুর,টুকেরগাঁওসহ ১৪টি গ্রামের ৮থেকে ১০হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মরদেহ কোথায় শেষ কৃত্য সম্পন্ন করবেন তাদের এমন কোন নির্দিষ্ট স্থান ছিলো না। এখন পুলিশের সহযোগিতায় বৌলাই নদীর তীরবর্তী স‚র্য্যরেগাঁওর গ্রামের(উপজেলার খলাহাটি গ্রামের সখী চরন র্বমন(আবু ধন)দান কৃত ৪৫শতক ভূমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট। নির্মাণ করা হয়েছে একটি টিনের ঘর। ফলে এসংকটের অনেকটা সমাধান হয়েছে।

ওসি নন্দন কান্তি তিনি,২০১৬সালের ১০অক্টোবর তিনি প‚র্ববর্তী কর্মস্থল ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেই এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি এলাকাবাসীর সুবিধা অসুবিধার কথা শোনেন। এ সময় স্থানীয়রা থানা মসজিদের উন্নয়ন ও উপজেলার হিন্দু স¤প্রদায়ের জন্য শ্মশান ঘাটের প্রয়োজনীয়তায় তুলে ধরে। এরপরেই তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে প্রাথমিক ভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কাজ শুরু করেন।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অলক দাস বলেন,ওসি নন্দন সাহেবের উদ্যোগে এখন কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাটের উন্নয়ন কাজ চলছে। শ্মশানঘাটের কাজ শেষ হলে মানুষের মানবিক সমস্যার সমাধান হবে। সেখানে সব সময় মরদেহ দাহ করা যাবে

তাহিরপুর থানার জামে মসজিদের ইমাম আলী হোসেন বলেন,থানার মসজিদ প‚র্বে জরাজীর্ণ ছিল। বারান্দার ছাদ দিয়ে পানি পড়তো। জায়গার অভাবে ২৫/৩০জন মুসল্লি নামাজ আদায় করত। তিনি মসজিদের বারান্দা স¤প্রসারণ করে টাইলস,ভেতরে ফ্যান,ওজুখানার সংস্কার করেছেন। এখন মসজিদে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। গত ২বছরে মসজিদের ব্যাপক উন্নয়ন করায় এখন উপজেলা সদরের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ হিসেবে বলা যায়।

এসআই আমির উদ্দিন,এএসআই রেজাউর রহমান(রেজা)বলেন,আমরা আমাদের সাদ্ধ মত চেষ্টা করেছি পুলিশ বাহিনীর সুনাম রক্ষা করে এলাকাবাসীর সহযোগী হয়ে তাদের পাশে থেকে তাদের মত হয়ে তাদের উন্নয়নে কাজ করার। তাই নন্দন কান্তি ধর স্যারের নির্দেশনা মসজিদের পাশা পাশি মন্দিরের কাজও করেছি। এক জন ভাল মনে মানুষেই(নন্দন কান্তি ধর)পারেন এমন কাজ করতে।

সাবেক তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন্দন কান্তি ধর বলেন,পুলিশ সুপার মোঃ বরকউল্লাহ খাঁন স্যারের অনুপ্রেরণায় তিনি এ কাজ শুরু করেছেন। জাতি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার চেতনা বোধ থেকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি এসব কাজ করেছেন। যতদিন বেঁচে থাকবেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,পুলিশ যে জনগণের বন্ধু তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন সদ্য তাহিরপুর থানা থেকে বিদায়ী নন্দন কান্তি ধর।