|
এই সংবাদটি পড়েছেন 54 জন

প্রিয়জনদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করতে পারেননা ট্রাফিক পুলিশ

ডেইলি বিডি নিউজ  ঃ সন্ধ্যা নামার আগে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তায় ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তাদের লক্ষ্য, ইফতারের আগে নগরীর মানুষ যেন নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে এবং প্রিয়জনদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করতে পারেন। অথচ এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করা সম্ভব হয় না। যার কারণে পথেই ইফতার সারতে হচ্ছে তাদের, তাও আবার অল্প সময়ের মধ্যে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার প্রতিটি মোড়ে এই চিত্র দেখা যায়। নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে না পারলেও খুব একটা দুঃখ নেই এই পুলিশ সদস্যদের। তাদের ভাষ্য, বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানের বাইরে সব পুলিশ সদস্যরাও একটি বড় পরিবার। কম সময় হলেও এই পরিবার মিলে ইফতারি করার মধ্যে আনন্দ রয়েছে।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি মোড় দেখা গেছে, ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের ইফতারের জন্য আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। সে বরাদ্দের মধ্যে থাকে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, বেশ কয়েকটি ইফতার আইটেমসহ একটি করে পানির বোতল। তবে বরাদ্দে পাওয়া ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে নিজেদের অর্থায়নে আরও কিছু খাবার যুক্ত করেন তারা।

ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার মোড়ে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল ফয়েজ বলেন, ‘আমাদের তো রাস্তা ছেড়ে এসে অন্য সবার মতো ইফতার করার সুযোগ নেই। কিছু সময় রাস্তায় (ট্রাফিক পুলিশ) কেউ না থাকলে, পুরো এলাকায় হযবরল লেগে যাবে। ফলে বাধ্য হয়ে পথে থাকতে হয়, পথেই ইফতার করতে হয়।’
রাস্তায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ইফতারের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগ ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আকরাম হাসান। তিনি বলেন, ‘ইফতারের আগে ডিউটিতে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাছে ইফতার পৌঁছে দেওয়া হয়। স্পটে সেগুলো একসঙ্গে করে সবাই মিলে খাওয়া হয়।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সোনারগাঁও মোড়ে দেখা গেছে, মাগরিবের আজান দেওয়ার কিছু সময় আগে ইফতার সাজাচ্ছেন কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা, বাকিরা ডিউটিতে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মুড়ি, ছোলা, পেয়াজুসহ অন্যান্য খাবার মেশানো শেষে শরবত ও পানির কয়েকটি বোতল পৌঁছে দেওয়া হয় রাস্তায় যারা সিগন্যালে ডিউটি করছেন তাদের কাছে। আজান শুনে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে রোজা ভাঙতে দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।

সোনারগাঁও ট্রাফিক বক্সে ইফতারের আগে কথা হয় তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মশিউর রহমান খন্দকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিকালের ডিউটিতে একজন এডিসি, একজন সহকারী কমিশনার, একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, চারজন সার্জেন্ট, দুইজন এএসআই, চারজন কনস্টেবল ও অতিরিক্ত চারজন সার্জেন্ট নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বে থাকা সবার জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। ’

রমজানের শুরু থেকে বিকাল বেলায় রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ থাকে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীলরা। ঘরমুখো মানুষের ফেরার পথে যানজট নিরসন করে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে যেন মানুষ বাড়ি ফিরতে পারেন সে ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

নগরীতে চলমান মেট্রোরেলের কাজ, ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি, বিশৃঙ্খল যান চলাচল, ভারী বৃষ্টি হলে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা- এগুলো যানজট নিরসনে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বাধাগুলো অতিক্রম করে ঘরমুখো মানুষের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক, নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নগরীতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রাইম পুলিশও আমাদের সঙ্গে ইন্টারসেকশনে কাজ করছে। মেট্রোরেলের কাজকে মাথায় রেখে আমরা একটু অতিরিক্ত সতর্ক আছি। যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যেভাবে কাজ চলছে, তাতে বলা যায় ভালো। অবস্থার আরও উন্নতি হবে।’

ট্রাফিকের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ- এই চার বিভাগের প্রতিটিতেই যানজট নিরসন ও অফিস ফেরত মানুষদের চলাচল স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন স্ব-স্ব বিভাগের প্রধানগণ। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন, যাতে এলোপাতাড়ি গাড়ি দাঁড়িয়ে জট তৈরি না হয়; বিকাল তিনটা থেকে সিনিয়র অফিসারদের মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন; প্রত্যেক থানা এলাকায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো রয়েছে, সেখানে ক্রাইম পুলিশের দায়িত্ব পালন; মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কাজের সমন্বয়; বিকল্প রাস্তা ব্যবহার; খালি গাড়ি এনে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা; ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার জন্য পিএমও থেকে প্রতিটি বিভাগে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।