|
এই সংবাদটি পড়েছেন 36 জন

কিছুতেই যানজটমুক্ত হচ্ছে না সিলেটের সড়কগুলো

ডেইলি বিডি নিউজঃ জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে পথচারীদের সচেতনতা বাড়াতে রমজানে শুরু থেকে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়া রমজানের শুরুতে প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালকদেরকে সতর্ক করার পাশাপাশি চালানো হয়েছে সাড়াশি অভিযান। একযোগে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাগ হয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে তারা।

এছাড়া রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দোকানদার ও নগরীর অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মেয়র আরিফের নেতৃত্বে প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান একদিকে শেষ হয়েছে আরেকদিকে ফের দখল হয়েছে ফুটপাত। এ অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ ও সিসিকের অভিযানের সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। উল্টো বেড়েছে ওভারটেকিং, বন্ধ হয়নি পথচারীদের হাত দেখিয়ে রাস্তা পারাপার। শুধরায়নি কেউ, শৃঙ্খলা ফেরেনি রাজপথে। এসব কারণে পবিত্র ঈদুর ফিতরের আগে নগরীতে যানজট বেড়েছে কয়েকগুন। বিকেল হলেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।

সরেজমিনে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-কোর্টপয়েন্ট সড়ক। পথচারী-হকার আর গাড়ী মিলেমিশে একাকার। কোথাও গাড়ি থমকে আছে কোথাও বা চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। এছাড়া একই সড়কের চৌহাট্টা শহীদ মিনারের সামনে ভূ-গর্ভস্থ বিদ্যুৎ এর কাজ চলমান থাকায় রাস্তা সংকোচিত হয়েছে। একই সাথে ফুটপাত দখল করে আছেন হকাররা। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়ে পথচারীরা মূল রাস্তা দিয়ে চলাফেলা করছেন। এছাড়া সম্প্রতি এই সড়কে দু দিকের গাড়ি চলাচল খুলে দেয়ায় বেড়েছে গাড়ির চাপ। সেই সাথে পথচারীদের যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপার ও হকারদের দৌরাত্মে যানজটের পরিমান বেড়েছে।

একই অবস্থা নগরীর জিন্দাবাজার-লামাবাজার-রিকাবীবাজার সড়ক, পূর্ব জিন্দাবাজার, আম্বরখানা-চৌহাট্টা সড়কেও। এসব সড়কের কয়েকটিতে নেই জেব্রা ক্রসিং, আর যেগুলোতে আছে সেগুলো ব্যবহার না করে মাঝ সড়ক দিয়ে পার হতে দেখা যায় পথচারীদের।

এসব ব্যাপারে সিলেট জেলা কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক মো. জাকির হোসাইন বলেন, পরিবহন খাতের সর্বাঙ্গে সমস্যা, সর্বাঙ্গে ব্যথা। এ থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সময় লাগবে। কেননা আমাদের চালক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে, ফিটনেস প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে। নিরাপদ পরিবহনের জন্য তিনটা অর্গান রয়েছে। নিরাপদ চালক, নিরাপদ যানবাহন এবং নিরাপদ রাস্তা- এ তিন জায়গায় আমাদের গলদ। আমরা লক্ষ্য করেছি, এসব জায়গায় যতক্ষণ পর্যন্ত সংশোধন না করা হবে ততক্ষণ সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়ছল মাহমুদ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে নগরীতে মানুষের চাপ বেড়েছে, একই সাথে বেড়েছে গাড়ির চাপও। এর প্রভাবে নগরীতে যানজট কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা এসব নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন অভিযান করছি। পাশাপাশি আমাদের পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে কাজ করছেন।

চৌহাট্টা-কোর্টপয়েন্ট সড়কে সম্প্রতি দুই দিকে যান চলাচল খুলে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দোকান মালিক সমিতি, সিলেট জেলা শাখার একটি আবেদন ছিল। যাতে আমরা দুই দিকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেই। এছাড়াও আরো কিছু কারণে আমরা সড়কটি খুলে দেই। এর প্রেক্ষিতে চৌহাট্টা ও কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় আমরা রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি।

তবে এখনও এই সড়কে রিকশা চলছে কেন এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, জিন্দাবাজার পয়েন্ট দিয়ে যেসকল রিকশা ঢুকছে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এজন্য জল্লারপাড় তাঁতিপাড়া এলাকা থেকে জিন্দাবাজার প্রবেশ মুখে আমাদের সদস্যদের দায়ীত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের হাতে তেমন জনবল নেই। সেজন্য আমরা এটি কার্যকর করতে পারছি না।

যানজটমুক্ত সুন্দর নগরীর স্বার্থে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পথচারী-চালকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। কারণ আমরা একদিকে অভিযান চালাই, অন্যদিকে আবার তা দখল হয়ে যায়। তবুও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।