|
এই সংবাদটি পড়েছেন 65 জন

আইনজীবী আবিদা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মসজিদের ইমাম

বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নারী আইনজীবী আবিদা সুলতানার (৩৫) হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা মসজিদের ইমাম তানভীর আলম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আসামীদের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। প্রধান আসামী তানভীর আলমের ১০ দিন এবং তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ও মা নেহার বেগমের আটদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ডে তানভীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার পুলিশ শ্রীমঙ্গল থেকে আবিদার ব্যবহৃত মুঠোফোন দুটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর তিনি মুঠোফোনগুলো নিয়ে পালিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার অন্তত চার মাস আগে আবিদার প্রয়াত বাবার তৈরি করা মসজিদে ইমাম হিসেবে আসে তানভীর আলম। আবিদাই তানভীরকে এখানে এনেছিলেন।

নিজেদের বাসায় দুটি কক্ষ ভাড়ায় দেন তানভীরকে। ওই বাসায় তানভীর তার স্ত্রী, মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে বসবাস করত। ঘটনার মাস দেড়েক আগে থেকে বিভিন্ন কারণে ভাড়াটে মসজিদের ইমাম তানভীরের সাথে ঝগড়া হয় আবিদার। আবিদার ছোট বোনের সঙ্গেও ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পর থেকে তানভীরকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন আবিদা।

মসজিদের দায়িত্ব ও বাসা ছেড়ে দেওয়ার চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তানভীর আলম। নিচ্ছিলেন বাসা ছাড়ার প্রস্তুতিও। ঘটনার দিন চাল নেওয়ার জন্য আবিদা বাসায় গিয়েছিলেন।

এই সময় তানভীরের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি আবিদার মাথায় আঘাত করেন। এরপরে আবিদার মুখ ও গলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করেন।

তবে রিমান্ডে বলা তানভীরের কথাগুলো সঠিক কি না তা যাচাই করে দেখছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা, কিংবা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

ঘটনার দিন থেকে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটনে বড়লেখা থানা পুলিশের বিভিন্ন গ্রুপ মাঠে কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এমনটি জানিয়েছেন, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক।

গত ২৬ মে রোববার মধ্যরাতে বড়লেখায় ঘরের ভেতর থেকে আবিদা সুলতানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে বড়লেখা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন আবিদার স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম বসুনিয়া।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন- আবিদা সুলতানার বাবার বাসার ভাড়াটিয়া তানভীর আলম (৩৪), তানভীরের ছোট ভাই আফছার আলম (২২), স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮) এবং মা নেহার বেগম (৫৫)। তাদের স্থায়ী ঠিকানা সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ছিল্লারকান্দি।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি তানভীরসহ তিনজন রিমান্ডে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি।

তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা হচ্ছে। রিমান্ডে তানভীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তানভীর জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন