Thu. Feb 25th, 2021

উন্নয়নই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার

ডেইলি বিডি নিউজঃ আজ ১৬ ডিসেম্বর। আমাদের মহান বিজয় দিবস। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মাথা নিচু করে স্বাক্ষর করেছে তাদের পরাজয়ের সনদে। আর এর মাধ্যমে বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রটির।

অনেক মূল্য দিয়ে পাওয়া আমাদের এই স্বাধীনতা। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানিরা শাসনের নামে নির্মম শোষণ চালিয়েছে এদেশের মানুষের ওপর। এদেশের সম্পদ লুটে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে সম্পদের পাহাড় গড়েছে তারা। এসবের প্রতিবাদ করায় বাঙালির ওপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালিয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। প্রতিবাদের ধারবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। এরপরের ইতিহাস তো আমাদের সবারই জানা। ২৫ মার্চ সেই ভয়াল কালো রাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালির ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হিংস্র পাকিস্তানি সেনারা। তারপর স্বাধীনতার জন্য লড়াই। নয়টি মাস অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধীনতার এই যুদ্ধে আমাদের হারাতে হয়েছে ৩০ লাখ তাজা প্রাণ। সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে ২ লাখ মা-বোনকে। এমনকি বিজয় যখন বাঙালির হাতের নাগালে, সেই চূড়ান্ত সময়ে এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় নবীন একটি জাতিকে মেধাশূণ্য করতে পাকিস্তানি হানাদাররা হত্যা করেছে বুদ্ধিজীবীদের। শেষ পর্যন্ত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে। যেখান থেকে বাঙ্গালি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল, সেখানেই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

এ বছর আমরা ৪৪তম বিজয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। ইতিহাসের নিরীখে অনেক দীর্ঘ সময়ই বটে। কিন্তু যে স্বপ্নে উজ্জীবীত হয়ে বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে? স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছরের মাথায় কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। গণতন্ত্র লুকিয়েছিল সেনানিবাসে। দুর্নীতি, অন্যায়, স্বজনপ্রীতি, শোষণ সবই কাঁধে চড়েছে জাতির। নব্বই দশকে নূর হোসেন, ডা. মিলনের মতো গণতন্ত্রের যোদ্ধাদের প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পায় জাতি। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেও সুশাসন কায়েম হয়নি। এই কয় বছরে আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নও হয়েছি।

হতাশার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে আশা। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আমরা সহশ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। নারী অগ্রযাত্রায় অন্যান্য দেশের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটেছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। নিজস্ব অর্থায়নে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মাসেতুও নির্মাণ করছি আমরা। সবচেয়ে বড় কথা, সকল প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হয়েছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে ১২ জনকে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্য চলতি বছর মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

জাতির উন্নয়নে ঐক্য অনেক বড় একটি বিষয়। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। স্বাধীনতা দিবসে আমাদের এই অঙ্গীকার হওয়া উচিৎ যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে আমরা সবাই দেশের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। ব্যক্তি স্বার্থ নয় বরং দেশের স্বার্থই মুখ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়।