|
এই সংবাদটি পড়েছেন 658 জন

ঢুল আজ বাজবে, কোটি কোটি বাঙ্গালির প্রানে

ইউসুফ আহমদ ইমনঃ আনন্দ উচ্ছাসের ঢুল আজ বাজবে, কোটি কোটি বাঙ্গালির প্রানে প্রানে। আজ এমনি এক দিন যার জন্য হারাতে হয়েছিল ৩০ লক্ষ বাঙ্গালির প্রাণ ও ২ লক্ষ মা-বোনদের ইজ্জত।
এমনি এক দিনের প্রতিক্ষায় কেটেছে হাজারো বছর। বহু কাঙ্খিত সেই দিনটির দেখা মিলেছে ইতিহাসের পাতায় রক্তিম অক্ষরে লেখা এক সংগ্রামের শেষে ১৯৭১ সালে, ১৬ই ডিসেম্বর। ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ৪৪ বছর আগের এ দিনে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাতের অস্ত্র ফেলে মাতা নিচু করে দারিয়েছিল বিজয়ী বীর বাঙ্গালিদের সামনে। স্বাক্ষর করেছিল পরাজয়ের সনদে। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের র্দীঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আতœত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের দিনটিতে আনন্দের পাশাপাশি বেদনাও বাজবে বাঙ্গালির বুকে। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় জাতি স্মরন করবে জানা-অজানা শহীদদেরকে। যাদের আতœত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করে পেরিয়ে গেল ৪৪ টি বছর। কিন্তু যারা এই সংগ্রামের উত্তাল দিনে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে হাতমিলিয়ে ছিলো ঘাতক পাকিস্তানি সেনাদের সংঙ্গে, সেই রাজাকার আলবদরদের বিচার না করার কলঙ্ক যেন অনেকটাই ম্লান করেছিল জাতির এই শ্রেষ্ঠ অর্জনকে। বহু দিনের গণদাবিতে পরিনত হয়ে উঠা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ অবশেষে শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার মাস ২০১০ সালের মার্চে। ধারাবাহিক ভাবে এক এক করে বিচার কাজ শেষ হচ্ছে। যাতে করে জাতির বিজয়ের আনন্দে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশগড়া, দ্বারিদ্র ও দুর্নীতি থেকে মুক্তির সংগ্রামের পাশাপাশি একই ভাবে চলছে গণতন্ত্রের রক্ষার সংগ্রাম। সে জন্য সরকার মৌলবাদ, জংলী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কঠোর। কিন্তু শত বাধা-প্রতিবন্ধকতাতেও হতোদম্য হয়নি সরকার। হারায়নি সাহস।

লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে অব্যাহত আছে বাঙ্গালির এগিয়ে যাওয়া। আজ সকাল থেকেই সারা দেশের পথে নামবে নানা পেশার মানুষ। শহীদদের স্বরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধায় দেশের সব স্মৃতিসৌধ ভরিয়ে দিবে ফুলে ফুলে। শ্রদ্ধার ফুলে ঢেকে যাবে সৌধের বেদি। সৌধের আঙ্গিনা মুখরিত থাকবে নানা শ্রেনি পেশার মানুষজনের আনাগুনাতে ।

লেখক- মহাসচিব, অনলাইন জার্নালিষ্ট সোস্যাল সোসাইটি, কুলাউড়া।