|
এই সংবাদটি পড়েছেন 32 জন

বান্ধবী অন্তঃসত্ত্বা: তাহিরপুরের ইউএনও’র সাফাই সাক্ষ্য

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে তার বান্ধবীর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা গত রবিবার দুই পক্ষকে ডাকলেও অসুস্থতার কারণে আসেননি অভিযোগকারী ওই বান্ধবী। তিনি মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এমরান হোসেন তাকে লিখিতভাবে সময় চেয়ে মেইল পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউএনও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ কি সাক্ষ্য দিয়েছেন তা জানা যায়নি।

স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন ঘটনাটির তদন্ত করছেন। তিনি জানান, ‘তদন্ত কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগকারী আসেননি। তিনি মোবাইল ফোনে সময় চেয়েছেন। আমরা বলেছি, লিখিতভাবে সময় চেয়ে মেইলে আবেদন করতে। আসিফ ইমতিয়াজ তার পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন।’

অভিযোগকারী নারী জানান, ‘গত ৮ জুন আমার ওপর হামলা করেছে আসিফের ভাই, বোন জামাইসহ কয়েকজন। ফলে আমি অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়াও আসিফ আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছি। হামলার বিষয়ে আমি স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন স্যারকে ঘটনাটি জানিয়েছি। আমি ন্যায় বিচার চাই।’

জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলায় নবযোগদানকারী ইউএনও তার আগের কর্মস্থল চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়। কিন্তু শ্বশুর পেশাদার উকিল হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ বিলম্বিত হচ্ছিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এডিসি (এলএ) আসিফ ইমতিয়াজের। কিন্তু নতুন বান্ধবীর সাথে সংসার করার তর সইছিল না তার। শেষ পর্যন্ত পৃথক বাসা নিয়ে বিয়ে না করেই সংসার শুরু করেন। অসাবধানতাবশত পেটে চলে আসে সন্তান। কিন্তু সবকিছুই গোপন রেখে আসিফ চাইছিলেন অনাগত সন্তানকে গর্ভপাত ঘটাতে। কিন্তু রাজি হলেন না বান্ধবী।

গত ৩ এপ্রিল লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিচার চান ওই বান্ধবী। এরপর একজন এডিসিকে বিষয়টির তদন্তভার দেয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম প্রশাসন তাকে বদলির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাহিরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। সর্বশেষ এনিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যিনি এমন একটি জঘন্য কাজ করেছেন- তিনি কিভাবে এই উপজেলাবাসীর উন্নয়নে ভাল কাজ করবেন।’

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই বিব্রত।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।