|
এই সংবাদটি পড়েছেন 69 জন

জেলা আওয়ামী লীগের জন্য অগ্নিপরীক্ষা!

ডেইলি বিডি নিউজঃ আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এবার আওয়ামী লীগ তার সত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মধ্য দিয়ে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পথে হাটবে আওয়ামী লীগ।

সেজন্য এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সত্তর বছরে পা রাখবে। এটাও আওয়ামী লীগের জন্য একটা ঐতিহাসিক ক্ষণ। এজন্যই আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচীতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট আনার চেষ্টা করেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন যে, এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, দু:সময়ের সাথী তৃনমূলের নেতাকর্মীদের এবার মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ঐ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যারা ত্যাগী পরীক্ষিত তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

প্রত্যেক জেলা থেকে এমন দুজন করে প্রবীন এবং দলের দু:সময়ের কাণ্ডারি ত্যাগীর নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এই তালিকা অবিলম্বে পাঠানোর জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নাম চেয়েছেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এই প্রবীনদের নাম চাওয়াটা জেলা কমিটির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। জেলা কমিটিগুলো কি সত্যিকারের আওয়ামী লীগ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে? নাকি হাইব্রিড বা উটকো, ক্ষমতায় থাকা সুবিধাভোগীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তার পরীক্ষা হবে এই নামের তালিকা থেকে।

জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি সবাইকেই চেনেন। কোন জেলায় কার কতটুকু ত্যাগ, কে কতটা যোগ্য সেটা আওয়ামী লীগ সভাপতির চেয়ে কেউ বেশি জানে না। আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে সব জেলার এমন ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের তালিকা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি তারপরও এই তালিকা চেয়েছেন কেন? এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র একজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এটাই হলো জেলা কমিটিগুলো সঠিকভাবে চলছে? সত্যিকারের আওয়ামী লীগ দিয়ে চলছে নাকি উড়ে এসে জুড়ে বসাদের দিয়ে চলছে সেই ঘটনা যাচাই করার জন্য নামের তালিকা চেয়েছেন।

জানা গেছে যে, প্রত্যেকটি জেলা থেকে যে নামের তালিকা পাঠানো হবে সেই তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিলিয়ে দেখবেন। যদি দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি যাদেরকে যোগ্য মনে করছেন, আওয়ামী লীগের দু:সময়ের সাথী হিসেবে তার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত আছে, তারাই যদি জেলা কমিটির তালিকায় থাকেন তাহলেই মনে করা হবে জেলা কমিটি সঠিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে।

জেলা কমিটি সঠিক রয়েছে এবং সত্যিকারের আওয়ামী লীগ দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে। আর এই তালিকায় যদি উটকো লোকজনের নাম থাকে তাহলে বুজতে হবে জেলা কমিটি সঠিক নয়, এই জেলা কমিটির পরিবর্তন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বোঝা যাবে, জেলা কমিটি হাইব্রিড বা সুবিধাবাদীদের দখলে চলে গেছে।

আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলকে ঘিরে দলের ত্যাগী এবং তৃনমূলের সত্যিকারের আওয়ামী লীগারদের মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ত্যাগীরা যেন দলের স্থানীয় নেতৃত্বে আসে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যে কমিটিগুলো হচ্ছে সেই কমিটিগুলোতে দলের সত্যিকারের ত্যাগী পরীক্ষিতদের জানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই দুইজন ত্যাগীর নাম চাওয়া হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে যে জেলা কমিটি ফেল করবে সেগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।