|
এই সংবাদটি পড়েছেন 159 জন

ওসমানী হাসপাতাল থেকে ফেরত যাচ্ছে এনজিওগ্রাম মেশিন!

ডেইলি বিডি নিউজঃ  উদ্বোধনের মাত্র ১ মাসের মাথায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেরত যাচ্ছে এনজিওগ্রাম মেশিন! অভিযোগ রয়েছে সিলেটের কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার উপর মহলে তদবির করে এবং ঢাকায় প্রয়োজনীয়তার দোহাই দিয়ে সেটি সোহরওয়ার্দীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। যদিও ফেরত পাঠানোর বিষয়টিই অস্বীকার করেছেন- হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুসুর রহমান।

প্রায় পঞ্চাস লক্ষ টাকা ব্যয়ে আনা হয়েছিল অত্যাধুনিক কোবাল্ট ৬০ সিটিস্ক্যান। এই প্রথম এধরণের কোন অত্যাধুনিক মেশিন আসে বাংলাদেশে। বর্তমান সরকার চলতি বছর এরকম ৩টি কোবাল্ট ৬০ সিটিস্ক্যান এনে এর একটি বরাদ্দ দেয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে। গত ১৮ই মে সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন হাসপাতালে নতুন এই এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিনের উদ্বোধন করেন। কিন্তু তার এক মাসের মাথায় সেটি ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে।

একটি সূত্র জানিয়েছে আজকালের মধ্যে এটি ঢাকায় পাঠানো হতে পারে। তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুসুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটি পুরোই গুজব। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এটি ছড়াচ্ছে হয়তো। তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় যে মেশিন সিলেটে এসেছে, সেটি আবার ফিরে যাবার প্রশ্নই আসে না।

সূত্র জানিয়েছে, উচ্চমূল্যে বাইরের বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা করাতে হতো হাসপাতালের রোগীদের। নতুন এমআরআই ও সিটিস্ট্যান মেশিন চালু করায় রোগীরা অল্পমূল্যে হাসপাতালেই রোগ নির্ণয় করতে পারছিলেন। কিন্তু এতে আশপাশে থাকা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। বাইরে উচ্চমূল্য হওয়ায় রোগিরা এখন সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করে ওসমানীতে এমআরআই করাচ্ছেন। একারণে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো উপর মহলে তদবির করে এবং ঢাকায় প্রয়োজনিয়তার দোহাই দিয়ে সেটি সোহরওয়ার্দীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।

সূত্র জানায়, ওসমানী হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে সাধারণ মানের রোগ নির্ণয়ের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রিসোন্যান্স ইমেজিং) ও সিটিস্ক্যান মেশিন প্রায় তিন বছর ধরে বিকল অবস্থায় ছিলো। ২০১৬ সালের জুনের দিকে নষ্ট হয়ে পড়ে মেশিন দুটি। ফলে বিপাকে পড়তে হয়েছে এই হাসপাতালে রোগনির্ণয়ে আসা রোগীদের। এ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে এর একটি চাহিদা পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। ঠিক এসময়ে মেশিনগুলো জাপান থেকে ৩টি অত্যাধুনিক কোবাল্ট ৬০ সিটিস্ক্যান আনা হচ্ছিল দেশে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুপারিশে তার একটি বরাদ্দ দেয়া হয় সিলেটে।

হাসপাতালটির রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ সূত্র জানায়, হাসপাতালে থাকা একমাত্র এমআরআই যন্ত্রটি ২০১৬ সালের ২০ জুন থেকে অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল। একই বছরে নষ্ট হয়ে পড়ে হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিনটিও। ওইসময় দ্রুত নতুন সিটিস্ক্যান মেশিন হাসপাতালে আনা হলেও এমআরআই মেশিন মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিক চিঠি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের টেকনিক্যাল দল এসে যন্ত্রটি দেখে যায়। তারা জানায়, মেরামত করলেও এ যন্ত্র কোনো কাজে আসবে না। এ অবস্থায় নতুন এমআরআই যন্ত্র কেনার সুপারিশ করা হয়।

এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন দিয়ে রোগ নির্ণয় পরীক্ষা বেশ ব্যয়বহুল। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমআরআই টেস্ট করাতে খরচ পড়ে ৩-৪ হাজার টাকা কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এজন্য সাড়ে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। সিটিস্ক্যানের ক্ষেত্রেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিগুণের বেশি টাকা নেয়। এ অবস্থায় নতুন এ এনজিওগ্রাম মেশিন দরিদ্র রোগীদের আশার আলো দেখালেও কিছু স্বার্থান্বেষীদের অধিক মুনাফার লোভ মানুষের সে আশায় আবারো চির ধরালো।