|
এই সংবাদটি পড়েছেন 61 জন

উদ্বোধনের সাড়ে চার বছর পরও চালু হয়নি বিশেষায়িত সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে এক জনসভায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুরও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রায় সাড়ে ৪ বছর কেটে গেছে। এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি শিশু হাসপাতালের।

লোকবল, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিসঙ্কট এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।

এরআগে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১শ’ শয্যাবিশিষ্ঠ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য এ হাসপাতালে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। গণপূর্ত বিভাগ অবকাঠামো সংস্কারে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করলেও বাকী ৭ কোটি টাকা ফেরত গেছে।

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে পুরনো হাসপাতালের স্থাপনা। ১৯৯২ সালে এটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সাল থেকে তা ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল এবং ১৯৯৮ সালে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নামকরণ হয়।

তবে তাড়াহুড়ো করে যাত্রা শুরুতেই লোকবল ও যন্ত্রপাতি সঙ্কট নিয়ে চালু হয় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। ১০০ শয্যার হাসপাতাল নেই ৩০ শয্যারও লোকবল এবং আনুসাঙ্গিক সুবিধা। জরুরি বিভাগ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় শুরু থেকেই তা বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৫-১৬ সালে চার দফা চিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। একই সময়ে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২৮ কোটি টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়। ২শ’ শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য বর্তমান ভবন সম্প্রসারণের জন্যও চিঠি দেয়া হয়। পরে ‘শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ শিশু হাসপাতাল’ নামকরণ, কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে দেয়া হয় একাধিক চিঠি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব চিঠির জবাব আসেনি। শুরু হয়নি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও।

এদিকে, বর্তমানে কাগজে-কলমে এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও জনবল নেই ৩০ শয্যা হাসপাতালেরও। সিনিয়র কনসালটেন্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার দু’জন করে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), অ্যানেসথেটিস্ট, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, ডেন্টাল সার্জনের পদ রয়েছে একটি করে। এর মধ্যে আরএমও পদটি শূন্য। একজন জুনিয়র কনসালটেন্টকে অতিরিক্ত হিসেবে ওই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীর ১৫ পদের ৩টিই শূন্য। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ২৮টি পদের মধ্যেও শূন্য রয়েছে ১টি। উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, সহকারী নার্সের ১১১টি পদের মধ্যে ২২টিই শূন্য আছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান আর অপারেটরের অভাবে অচল হয়ে আছে যন্ত্রপাতি। এসব সংকটে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ রোগীকে সেবা দেয়া হয় এই হাসপাতালে। প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো না থাকলেও সীমিত ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা সেবার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের অধীক্ষক ও সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ইউনুছ রহমান বলেন, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতর বা মন্ত্রণালয়ের লোকজন জানেন। এটি এখন আর আমার অধীনে নেই।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হবে। সিলেটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর জনবলসহ প্রয়োজনীয় বিষয়াদি চেয়ে আবেদন করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

আনিসুর রহমান বলেন, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের যে প্যাটার্ন রয়েছে, শিশুদের খেলার মাঠসহ আরও যা যা প্রয়োজন, তা করতে হলে শামসুদ্দিন হাসপাতাল পুরোটা ভাঙতে হবে। এখন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কীভাবে করবে তারা জানে।